গ্যাস উদগীরণে কসবায় দেবে গেছে শহীদ মিনার, পানি-বালিতে ডুবল মাঠ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

অনলাইন ডেস্ক :
গ্যাস উদগীরণে কসবায় দেবে গেছে শহীদ মিনার, পানি-বালিতে ডুবল মাঠ
গ্যাস উদগীরণে কসবায় দেবে গেছে শহীদ মিনার, পানি-বালিতে ডুবল মাঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম বিদ্যানগর শেরেবাংলা উচ্চবিদ্যালয়ে নলকূপের পাইপ বসাতে গেলে তীব্র গতিতে ও বিকট শব্দে গ্যাস, পানি, বালু বের হয়ে আসে।

এতে পুরো স্কুলের মাঠ ডুবে যায় পানি আর বালিতে। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি দেবে গেছে। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল, দুটি নারকেল গাছ অনেকটা দেবে গেছে।

এ ঘটনায় আতঙ্কে স্কুলটি ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। উদগিরণ গ্যাস পরীক্ষা করছেন কর্মকর্তারা।

বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যানগর শেরেবাংলা উচ্চবিদ্যালয়ে আল মামুন ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে স্কুলে একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। প্রতিদিনের মতো বুধবারও তারা স্কুলে আসে। পরে সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করে তারা দেখতে পায়, নলকূপের মুখ দিয়ে তীব্র গতিতে গ্যাসের সঙ্গে পানি ও বালু বের হয়ে আসছে। এই অবস্থায় পুরো স্কুলের মাঠ ডুবে যায়।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্কুল ছুটি ঘোষণা করেন। শেরেবাংলা উচ্চবিদ্যালয়ের গ্যাস উদগীরণস্থল থেকে কসবা সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের দূরত্ব এক কিলোমিটার। এ ব্যাপারে আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে বিদ্যালয়ের চারদিকে লাল নিশান টানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ দিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে পেট্রোবাংলা এবং সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের জিওলজিক্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত পরীক্ষা করছেন।

তাদের বরাত দিয়ে সালদা গ্যাস ক্ষেত্রের অপারেটর রেজাউল করীম জানান, ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করবেন জিওলজিক্যাল বিশেষজ্ঞরা। পরে তারা এই গ্যাস পকেট গ্যাস নাকি স্থায়ী গ্যাস, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এই ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নলকূপের পাইপ দিয়ে এখনও গ্যাস ও বালি আসা বন্ধ হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই পাইপ দিয়ে আসা বালি পড়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ৩ ফুট উঁচু হয়েছে। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি দেবে গেছে। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল, দুটি নারকেল গাছ অনেকটা দেবে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল ভবন। আমরা ইচ্ছে করলেই এই গ্যাস বন্ধ করতে পারছি না।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।