কায়ুকখালী খালে নতুন করে দখলদারদের থাবা, প্রশাসন বে-খবর

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

নিজস্ব প্রতিনিধি :
টেকনাফের প্রধান বানিজ্যিক খাল কায়ুকখালী দখলদারদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত। সাড়ে ৩কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির কোন না কোন অংশে প্রতিনিয়ত দখলবাজির ঘটনা ঘটেই চলেছে। দখলের ফলে খালটির কোন কোন অংশ ইতিমধ্যে নালায় পরিণত হয়েছে। টেকনাফ পৌর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায়, ভুমি ও থানা প্রশাসনের সীমানা ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া খালটিতে নতুন নতুন দখলবাজির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন বেখবর।

শনিবার বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রধান সড়ক সংলগ্ন অলিয়াবাদ মো. আলমের করাত কল সংলগ্ন অংশে নতুন করে খালের উপর বাঁধ দিয়ে দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে একটি চক্র। ইতিমধ্যে তারা সেখানে উত্তর-দক্ষিন ও পূর্ব পশ্চিম আড়াআড়ি দুটি বাঁধ দিয়ে খালটির একটি অংশ দখল করে নিয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে মাঠি ফেলে দখল পাকাপোক্ত করা হবে। আশেপাশের লোকজন জানান, রাতের আঁধারে কয়েকদিন ধরে চলছে দখলের এ ঘটনা। দিনের বেলায় যখন লোকজন উপস্থিত থাকে তখন কাউকে দেখা যায় না। তবে কারা খাল দখল করছে সেব্যাপারে পরিস্কার করে কিছু জানাতে না পারলেও জনৈক নুরুল আমিন নামে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন তারা, যার নেতৃত্বে একটি চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় কাউকে তোয়াক্কা না করে খাল দখল করে যাচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবুল মনসুরকে খাল দখলের বিষয়টি জানালে তিনি দেখবেন বলে জানান।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টেকনাফ ভুমি অফিসের কতিপয় দালালের সহযোগীতায় খাল দখলকারীরা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে খালের নতুন নতুন অংশে দখল চালিয়ে থাকেন। পরে সেসব ভুমি উচ্চ মুল্যে বিক্রি করে ভাগবাটোয়ারা করা হয়।
74585629 515183029037451 623985948413132800 n TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
প্রসঙ্গত, জাতীয় নদী কমিশন কর্তৃক গত জুন মাসে কায়ুকখালী খাল দখলকারী ২১ জন প্রভাবশালীর নাম প্রকাশ করলেও দখলকারীদের উচ্ছেদ করে খাল পুনরুদ্ধারের কোন তৎপরতা নেই সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়া সাড়ে ৩ কিলোমিটার খালটির দুই পাড় দখল করে খালটিকে সংকোচিত করেছে আরো দেড় শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। যার ফলে প্রতি বর্ষায় প্লাবিত হয়ে পড়ে টেকনাফ পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের অন্তত ৪গ্রামের ফসলী জমি ও বসতভিটা।