আবদুল মাবুদ মাবু (সাংবাদিক) ।।
বিএনপি -জামায়াত জোট সরকারের শাসনামল। সময়টা ২০০২ সাল। রামু থানার প্রথম রাজনৈতিক দ্রুত বিচার মামলা। দোষ না করে ও আমি প্রধান আসামী। তখন কক্সবাজার শহর যুবলীগের আহবায়ক ও জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলাম।পেশায় আজকের দেশ বিদেশ পত্রিকার যুগ্নবার্তা সম্পাদক।কঠোর পরিশ্রম করতাম।সারারাত জেগে পত্রিকার কাজ করতাম। সংবাদ লিখতাম,এডিট করতাম,আবার পত্রিকার মেকাপ,পেষ্টিং দেখা,প্লেট করে প্রেসে দেয়া পর্যন্ত সব কাজ করতাম। পারিশ্রমিক যাই হউক না কেন সম্পাদক মোহাম্মদ হোছাইন, নির্বাহী সম্পাদক এডভোকেট আয়াছুর রহমান, ব্যবস্হাপনা সম্পাদক রাঙ্গুনিয়ার সন্তান করিম উদ্দিন, আর হোটেল আলিফের দায়িত্ব থাকা শরীফের কারনে সাংবাদিকতা ও রাজনীতি ভালই চলছিল।
সাংবাদিককতায় শতভাগ নিরপেক্ষ ছিলাম বটে। আমার হাত ধরেই অধিকাংশ সময় বের হতো আজকের দেশবিদেশ।মুলত ব্যাস্ততার কারনে আয়াছ দা এদিক সেদিক পরামশর্শ দিতেন। স্টাফ রিপোর্টার হাছানুর রশিদ (বর্তমানে হিমছড়ির সম্পাদক) আর আমি পত্রিকার সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় বেশি দেখতাম।আনছার হোসেন তৎকালীন সরকার সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারি তাই তাঁর ডিউটি কম। সম্ভবত ৭ ফ্রেব্রুয়ারি ২০০২ রাত প্রায় আড়াইটায় হঠাৎ পত্রিকা অফিসে রামু ও সদর থানার পুলিশের হানা। রামু থানার এসআই চেন থোয়ানক্য, সদর থানার এসআই খাইরুল ২ জনই ডুকে কম্পিউটার রুমে। পুর্ব পরিচিত হওয়ায় ২জনই আমারকে সহজে চিনে নেয়।
সদর থানার দারোগা বলেন ভাই আপনাকে ওসি স্যার সালাম দিয়েছেন সাথে সাথে আমি ওনার সালামের জবাব দিলাম। এবার বলে ভাই একটু বাহিরে আসতে হবে আলাপ আছে। নিবোর্ধের মতো আমি পত্রিকা অফিস থেকে বের হলাম।দেখি প্রায় আরো ১২/১৪জন কনেষ্টেবল। এবার দারোগা খাইরুল বলেন একটু সদর থানায় যেতে হবে। জিজ্ঞেস করলাম মৃদু স্বরে কোন সমস্যা নাকি? জানালেন ওসি স্যার ডেকেছেন। বর্তমান আপন টাওয়ার থেকে শহরের ফজল মার্কেট পর্যন্ত হেটে মাইক্রোবাসে উঠানো হল। এবার দেখি সদর থানার দারোগা গাড়িতে উঠলেন না। রামুর দারোগা চেন থোয়াইক্য জানাল রামু থানায় যেতে হবে।
রাত সোয়া ৩টার দিকে রামু থানায় পৌছলাম।দারোগা সম্মান করলেন, আবার নিজের অপারগতার কথা জানিয়ে চেয়ারে বসালেন। ভাবলাম তেমন সমস্যা হবে না মনে হয়।আবার দারোগা জানাল শুধু বিএনপি না আওয়ামীলীগের কিছু নেতা ও আপনার বিপক্ষে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম সমস্যা কি তিনি জানালেন ওসি স্যার কথা বলবেন।এবার সেন্ট্রি ডাক দিলেন এসআই যত্ন করে বল্লেন ওনাকে মেহমান খানায় নিয়ে যাও।
শুনে মনটা হালকা হল।এতদিনে জানতাম না থানায় মেহমানখানা আছে।ভাবলাম দারোগা পছন্দ করে আমাকে বিশেষ ব্যাবস্হায় রাখবেন তাহলে।একটু পরে মেহমান খানা চিনে ফেল্লাম।সেন্ট্রি আমাকে নিয়ে হাজতে ডুকাল।দেখি সেখানে আগে থেকেই দুজন আছে।তাদের একজন বলতেছে ভাই ডাকাতি মামলা নাকি। বল্লাম জানি না। তারা নিজেরা জানাল আপনাকে ভদ্র লাগে। তবে আমরা রশিদনগরের ডাকাতি মামলার আসামি নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হল। খুব অপমানবোধ করলাম অপরাধ না করে কেন আমি ডাকাতের সাথে হাজতে। সত্যি নিঘুর্ম রাতে কান্না চলে এলো।ডাকাতের সাথে হাজতবাসের লজ্জায় অপমানে অজান্তেই চোখের অশ্রু সংবরন করতে পারছিলাম না।
হঠাৎ একজন ডাকাত আসামী শান্তনা দিয়ে একটা মেঝেতে পড়ে থাকা পেপার দিল, বলতেছে এটার উপর শুয়ে পড়েন।মনে পড়ল যে পত্রিকা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি আজকে সেটিকে নিচে দেয়া উচিত হবে না। বসে থাকলাম কখন ফজর হবে তার অপেক্ষায়।মাঝ খানে সেস্ট্রিকে অনুরোধ করায় তিনি হাজত খানার বাথ রুমের পাশে অযুর পানি দেখিয়ে দিলেন।তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য নিচে দেয়ার কিছুই নেই।এবার সেন্ট্রিকে আবার ভয়ে ভয়ে বিরক্ত করলাম।তিনি জানালেন কোন ব্যাবস্হা নেই। পাশের আসামী তার নিয়ন্ত্রনে থাকা একমাত্র ফাঁটা কম্বল দিয়ে বালি পরিস্কার করে দিলে ফ্লোরে তাহাজ্জুদ আদায় করলাম। খুব স্বস্তি লাগল। আল্লাহর কাছে রক্ষা চাইলাম। মনে হল মহান স্বত্বা দোয়া কবুল করলেন।ফজরের নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।মনে হল বিপদে পড়লে একমাত্র মহান স্রষ্টায় রক্ষা করতে পারবেন।
ফজর হল আবার নামাজ পড়ে পরিচিত কাউকে পাওয়ার জন্য হাজতের গ্রীল দিয়ে চেষ্টা করছি।ইতোমধ্যে ভোর রাতে আমাদের হাজতে ডুকল আরো ২জন। একজন মদখোর আরেকজন বন মামলার আসামী। নিজেের কাছে লজ্জা,অপমাল লাগছিল। আর অজানা আতংক সকালে ওসি কি বলেন সে অপেক্ষায়। সেন্ট্রি জানাল ১০টা আগে স্যার আফিসে আসেন না। অপেক্ষার ফাঁকে সাড়ে ৭টার দিকে থানার বেসরকারি পিওন আসল। আমাকে দেখে সে খুব অস্হির হয়ে পড়ল। স্যারদের নাস্তার সাথে সে নিজের টাকায় আমার জন্য পরটা ডাল নিয়ে এলো।তার ভালবাসা সত্যি অতুলনীয় মনে হল।কোনদিন তার সাথে সম্পর্ক নেই পরিচয় নেই, সে জানাল আমাকে সে চেনে। দুর থেকে পচন্দ করে। পরটা ডাল অপর হাজতিদের বিলিয়ে দিয়ে ওসি সাহেবের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। ৯টার কিছু সময় পর ওসি খোরশেদ আলী চৌধুরী আসলেন। আমাকে ওনার রুমে ডেকে নিলেন,এবার কর্কষ ভাষায় ওনার বক্তব্য শুরু করলেন।তুই আমারে চিনিস, তুই একটা মাস্তান। স্যার না তো তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন ওসি বল্লেন শালারপুত দুকলম লিখে কি মনে করিস।তোকে অনেক মামলা দেব।সরকারের বিরুদ্ধে লিখে তুই কি করবি,তুমি শহীদ জিয়াকে গালিগালাজ করস। এবার বলে সেন্ট্রি বেথ নিয়ে আস ওকে জীবনের মত শিক্ষা দেব।
আমি মৃদু স্বরে বল্লাম সব মিথ্যা। হঠাৎ রাজনৈতিক সতীর্থ তপন মল্লিক, আনছারুল হক ভুট্রো ওসির রুমে এসে বুঝাতে লাগলেন আমি অপরাধি না। সব শত্রুতামী ওসি এবার কি যেন ভাবলেন। আমাকে আবার হাজতে পাঠানো হল। রামুর অনেক আওয়ামীলীগ ঘরনার নেতাকর্মী দ্রুত থানায় আসতে লাগল। নেতাকর্মীদের ভিড় দেখে গাড়ি আনতে বলা হলো তপন মল্লিককে। আমাকে সিএনজিতে করে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হল।আদালতের হাজতে আরেক নরক যন্ত্রনা মনে হল।চিৎকার চেচামেচি, উঞ্চতা। আসামীদের আচরনে মনে হল ভিন্ন জগৎ এর সাথে পরিচয় ঘটল।
আমার আত্নীয় এডভোকেট আবদুস সালাম সাহেব জানালেন রামু থানার রাজনৈতিক মামলা প্রথম দ্রুত বিচারের ১নং আসামী আসামি। আগের দিন হরতালে আমি নাকি গাড়ি ভাংচুর করেছি। অন্যান্য আসামি বলতে লাগল রক্ষা নেই। এটি জোট সরকারের নতুন আইন।হাইকোর্ট ও এ মামলার জামিন দেয় না। ৯০ কার্য দিবসে নাকি শাস্তি দিয়ে দিবে। যেহেতু ১নং আসামী তাই খালাসের সম্ভাবনা নেই। অন্য কেউ হলে ঘাবড়ে যেত, সত্যি সেদিন আমি একদম ঘাবড়াই নাই। মনে হল যেহেতু দোষ করি নাই সেহেতু আমি মুক্ত হব শিঘ্রই।
একে একে আমাকে হাজতে দেখতে আসলেন প্রয়াত এডভোকেট আহমদ হেসেন, আয়াছুর রহমান, সাবেক পিপি নুরুল মোস্তফা মানিক, সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল ভাই, পিন্টুদা, নুরুল ইসলাম, মুজিবুল ইসলাম, ইকরাম চৌধুরী টিপু, ফজলুল কাদের চৌং,আহমদ গিয়াস,আবদুল কুদ্দুস রানা, হেলালি ভাই, শাহাজাহান চৌধুরী শাহীন, এমআর খোকন। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে তৎকালীন যুবলীগ সভাপতি খোরশেদ আলম,সম্পাদক রনজিত দাশ, গিয়াস বাবুল,শামশু,শহিদুল্লাহ, শোয়েব ইফতেখার, সেচ্চাসেকলীগ নেতা রুস্তম আলী, ছাত্রনেতা আলিম উদ্দিনসহ অনেকেই আসল।
সরকারি বিরোধী ঘরনার সব সাংবাদিক জোর দিয়ে আমাকে আশ্বস্হ করল যেহেতু ঘটনারদিন সারাদিন আমি জেলা শহরে অবস্হান করছিলাম তাই আমি নিদোর্ষ। সবাই আমাকে মুক্ত করার সংকল্প ব্যাক্ত করলেন।আমি তৎকালীন আতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউল কিবরিয়াক মহোদয়কে স্বাক্ষী মেনে সবাইকে হাজত থেকে জানালাম উনার সাথে সকাল ১১টা থেকে২টা পর্যন্ত আমি লালদিঘীর পাড়ে ছিলাম।মামলায় ঘটনার সময় যেহেতু দুপুর ১২টা রামুর ধেছুয়া পালং আমার বিষয়ে উনিই বলতে পারবেন। চালানের দিন আমার ভাগ্যক্রমে জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভা ছিল।
কক্সবাজারে কর্মরত সকল সাংবাদিক(যাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ) একযোগে আমার বিষয়টি সভায় উত্তাপন করলেন।সভার প্রধান অতিথি তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন সাহেব সাংবাদিক মহলের দাবির প্রতি সদয় হয়ে একটি তদন্ত কমিটি করলেন।ভাগ্যক্রমে তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউল কিবরিয়া।আদালত পাড়ার হাজতখানা থেকে বাসে করে সন্ধ্যায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হল জেলা কারাগারে। বাসে অনেক সুখ মনে হল। গতরাত থেকে থানা ও আদালতের হাজত খানার খারাপ অবস্হা বিভিষিকাময় মনে হল।এবার কারা ফটকের ভেতরে নিয়ে সেখানে দেখি সবাইকে হাতসহ নত করে বসতে বলা হল। কেন জানি আমার বসতে ইচ্ছে হল না।
অনেক আসামির মাঝে আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কারাপুলিশ আমাকে বসতে নির্দেশ দিলেন।আমি বল্লাম আমি বসবো না কারন ওদের মত আমি অপরাধি না। আমার মামলা মিথ্যা, অমনি আমাকে একটা মাথায় আঘাত করল। আবার কড়া নির্দেশ দিল বসতে। আমি বল্লাম অপরাধির সাথে বসব কেন? আলাদা করলে বসতে পারি।এবার কারা পুলিশ জিজ্ঞেস করলেন কি করি। পাশের আসামি জানিয়ে দিল আমি সাংবাদিক।সাথে সাথে অসংখ্য আসামির মধ্যে আমাকে আলাদা করা হল।তিনি জেলার সাহেবের রুমে গেলেন।জেলার রুমে ডেকে চেয়ারে বসালেন।জানালেন আমার জন্য সাংবাদিকবন্ধুরা ফোন করেছেন। একটু আশ্বস্হ হলাম। হাবিলদার এল গোঁফ মোটা।
আমাকে একা নিয়ে গেলেন পেকুয়া শীলখালির এডভোকেট নাসিরদের রাইর্টার ওয়ার্ডে।নাসির সাজানো অস্ত্র মামলার আসামী,পাগলির বিলের ঠান্ডু সে কাঁচি মার্ডার নামে পরিচিত।হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছে।আরো অনেক আসামির মাঝে নাসির ভাই নিজে বেডসিট দিলেন,বিচানা করে দিলেন।সারাদিন অভুক্ত তাই বিস্কুট,গুড়,চাড়া ও পানি দিলেন। সবাই খুব সমাদর করলেন।জেলের ভয় অনেকট কেটে গেল।দেখি এটা ভিন্ন জগৎ।এখানে ও পরস্পরের প্রতি মায়া মমতা,শ্রদ্ধাবোধ আছে। পরদিন সকালে খোরশেদ ভাই তাঁর খামারের ছেলেকে দিয়ে লুঙ্গি, গামছা দিলেন,খাবার দিলেন।অনেকেই দেখতে যেতে লাগলেন।সবাই ফলমুল,শুকনো খাবার নেয়। অনেক জোর করে টাকা দিচ্ছে আমার হাতে। জেলে আবার টাকা রাখা নিষেধ। আমি টাকা খোরশেদ ভাইয়ের খামারের ছেলেকে জমা দিতে থাকি।৭দিন ১ লক্ষ টাকার উপরে জমা হলো।একদিন কমল ভাই গেলেন কারাগারে। সাথে ৩ বস্তা খাবার। যেগুলোর কারনে সবার কাছে আমার কদর বেড়ে গেল।আমার পাশের ২ শিশু ওয়ার্ড ও আমাদের রুমে সব খাবার আসা
৮ দিনের মধ্যে আমাকে বাদ দিয়ে চার্জসিট দিলেন।যুবলীগ শহরে মিছিল সমাবেশ করলো।এড আয়াছ দা,এড ছালাম, শ্রমিকনেতা রুস্তম আলী চৌধুরী আমাকে বের করার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করলেন।বাদী গাড়ির চালককে দিয়ে নোটারি করে আপোষনামা দিলেন।দ্রুত বিচার থেকে অকল্পনীয় ভাবে ৮দিন কারাবাসের পর মুক্তি লাভ করলাম।সাইমুম সরওয়ার কমল (বর্তমান সংসদ সদস্য) বল্লেন তৎকালীয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাথে দেখা করতে হবে। দুজনে রওয়ানা দিলাম বাসে। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি হিসাবে ছিলেন ড, হাছান মাহমুদ(বর্তমান তথ্যমন্ত্রী)।
কমল ভাই, আমি, ছাত্রলীগের রামু উপজেলা সভাপতি সালাহউদ্দিন সহ ধানমন্ডি সুদাসদনে প্রবেশ করলাম।সেখানে সারাদেশের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আহাজারি দেখে আমরা বিষ্মিত।মমতাময়ী নেত্রী সবার কথা শুনতেছেন।চোখে পানি চলছল করছিল আজকের প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন নির্যাতিতদের ভরসাস্হল শেখ হাসিনা।সিলেট,খুলনা,সাতক্ষীরা, ব্রাক্ষনবাড়িয়া সহ কয়েক জেলার নির্যাতিতরা জোট সরকারের বর্বরতার বর্ননা দিচ্ছেন।এবার আমার পালা আমার বিষয়টি যত্ন করে নেত্রীকে উপস্হান করলেন কমল ভাই,সহায়তা করলেন ড,হাছান মাহমুদ ।
মমতাময়ী নেত্রী মনযোগ দিয়ে শুনলেন।ধয্য ধরতে পরামর্শ দিলেন। ইউরোপিয় একটি সাংবাদিক টিমের কাছে হোটেল রেডিসনে আমাকে যেতে বল্লেন। তখন এনালগ যুগে আমরা। আমার ইয়াসিকা ক্যামেরা ছিল অবলম্বন।রিল লোড ছিল। ছবি উঠাল সালাউদ্দিন, শ্রদ্ধেয় ড.হাছান মাহমুদ ফুলের তোড়া যোগাড় করে দিলেন।কারামুক্তিতে নেত্রী সন্তুষ্ট হলেন। নেত্রী জানাল মনে হয় ছবি উঠেনি দ্রুত শ্রদ্ধেয় ড.হাছান মাহমুদ আমার সেই ক্যামরা নিয়ে ৩ টি ছবি উঠালেন।কারাভোগ, ওসি খোরশেদের গালিগালাজের ক্ষত অনেকটা তুচ্ছ মনে হচ্ছিল।সে মামলার পেছনে অনেকের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তবে সবাইকে অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। কারন আজকের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতে সুদাসদনে ফুল নেয়াটা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।
আজকের তথ্যন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদের সেই ফুলের তোড়া যোগাড় করে দেয়া ও ছবি উত্তোলন আমার কাছে অনেক গৌরবের।সাথে আজকের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের অনুপ্রেরনা না পেলে হয়তো কক্সবাজারের রাজপথেই সীমিত থাকত সে কারাবাসের গল্প।ইয়াসিকা ক্যামেরার এ ছবির আরো অকথ্য গল্প রয়েছে। যা সময়ের অভাবে জানাতে পারি নাই।
তবে যারা আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরতে চান, সমালোচনা করেন তাদের বলবো শোনা কথায় নই জেনে বোঝে তারপর ধিক্কার দেবেন। গলফ মাঠে আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে আমার বক্তব্য আপনাদের বিরুদ্ধে গেছে ভেবে অপপ্রচার করার আগে নিজে ও নিজের পরিবার, ভাইদের রাজনৈতিক দর্শন কি ছিল ভেবে কথা বলবেন।সকলের জন্য শুভ কামনা।
—————আব্দুল মাবুদের টাইম লাইন থেকে-
