কাটাখালী রওজাতুন্নবী (স:) দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

অনলাইন ডেস্ক :
টেকনাফ উপজেলার কাটাখালী রওজাতুন্নবী (স) দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে কমিটির দাতা সদস্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালে হাজি আবু সুফিয়ান নামের এক ব্যক্তি নিজের ০.৪০ শতক জমি মাদ্রাসার নামে সাব কবলা মূলে দান করে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে মাদ্রাসার দাতা সদস্য হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন আবু সুফিয়ানের পুত্র এয়াকুর আলী। সম্প্রতি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাতা সদস্য এই এয়াকুব আলী।
লিখিত অভিযোগে কাটাখালী রওজাতুন্নবী (স) দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে ২০০৯ সালে হারুনুর রশিদ সিকদার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি জালিয়াতির নানা অভিযোগ আনা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে ওই সময়ের টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাদ্রাসার সভাপতি ছিলেন। ওই সময় তিনি বিধি মোতাবেক নিয়োগ কমিটি গঠণ করে ১৭ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করেন। যাদের দ্বারা মাদ্রাসাটি সুন্দর ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে হারুনুর রশিদ সিকদার সভাপতি হওয়ার পর পরই অনিয়ম শুরু করেন। তার এ অনৈতিক কার্যক্রমের সাথে দ্বিমত পোষণ করায় ২০১০ সালে ২১ ডিসেম্বর মাদ্রাসার সুপার আ না ম ওসমান সরওয়ারকে মাদ্রাসা থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করেন। একই সঙ্গে সহকারি মৌলভী মোহাম্মদ আমিনকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু মোহাম্মদ আমিনও সভাপতির অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার বিরোধীতা করেন। এতে মোহাম্মদ আমিনকেও বিতাড়িত করে সহকারি মৌলভী ছিদ্দিক আহমদকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন থেকে সভাপতি হারুনুর রশিদ সিকদার ও ভারপ্রাপ্ত সুপার ছিদ্দিক আহমদ মিলে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাত সহ বিভিন্ন অনিয়ম, জালিয়াতি অব্যাহত রেখেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসাটি এমপিওভূক্ত হলে পরিচালিনা কমিটির অধিকাংশ সদস্যদের না জানিয়ে চরম জালিয়াতি শুরু করেন। এ জালিয়াতির অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া শিক্ষক কর্মচারিদের বাদ দিয়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে নতুন শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির জন্য অনলাইন ফাইল সাবমিট করেন। এ ক্ষেত্রে ২০০৪ সালের সভাপতি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কমিটির অপরাপর সদস্যদের স্বাক্ষর, সীল জালিয়ত করা হয়। এতে নতুন করে ৫ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়। এরা হচ্ছেন সহকারি মৌলভী হিসেবে মোহাম্মদ জাকারিয়া, মোহাম্মদ রফিক উল্লাহ, মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, ইবি ক্বারী হিসেবে মোহাম্মদ আলী, জুনিয়ার মৌলভী হিসেবে দীর্ঘদিন সৌদ আরব থাকা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে। ২০০৪ সালে নিয়োগ পাওয়ার মধ্যে ৫ জন এমপিও ভূক্তি হলেও ২ জনের পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে সহকারি মৌলভী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ছিদ্দিক আহমদকে দেখানো হয়েছে সহ সুপার, সহকারি মৌলভী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রামজান আলী মাহমুদকে দেখানো হয়েছে ইবি প্রধান। অথচ রামজান আলী মাহমুদ উখিয়ার ফারির বিল মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা নেন। একই সঙ্গে মোহাম্মদ রফিক উল্লাহ রাবেতা মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগটি পাওয়ার পর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার মো. সিদ্দিকুর রহমান গত ১ সেপ্টেম্বর এক পত্র প্রেরণ করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিদের্শে টেকনাফ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নুরুল আবছার বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তদন্তের মধ্যে ইতিমধ্যে অভিযোগকারি সহ ভূক্তভোগির স্বাক্ষাৎকার ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি। সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগে সত্যতা মিলেছে। এব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা
এদিকে, ২০১০ সালে ২১ ডিসেম্বর মাদ্রাসার সুপার থেকে আ না ম ওসমান সরওয়ারকে অপসারণ করা হলেও বর্তমানে নতুন করে তাকে সুপার করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছেন, ২০১০ সালে ডিসেম্বর সুপার পদ থেকে ওসমানকে অপসারণের ব্যাপারে মাদ্রাসা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। মাদ্রাসা বোর্ড জেলা প্রশাসককে তদন্ত করার নিদের্শ দেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি দাখিল করা প্রতিবেদনে আ না ম ওসমান সরওয়ারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু এসব প্রমাণ পত্র গোপন করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে আ না ম ওসমান সরওয়ারকে নতুন করে সুপার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
২০১১ সালে উক্ত মাদ্রাসায় অফিস সহকারি হিসেবে যোগদান আবুল বশর। তিনি জানান, ২০২০ পর্যন্ত তিনি এই পদে চাকুরি করে আসছেন। কিন্তু এমপিও ভুক্ত পর তার কাছ থেকে সভাপতি ও ছিদ্দিক মিলে এক লাখ ৩ হাজার টাকা ঘুষ দেন। এরপরও মোহাম্মদ হোসেনকে কাছ থেকে আরো বেশি টাকা নিয়ে অফিস সহকারি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এখন সভাপতি এবং ছিদ্দিক মিলে তাকে দপ্তরির পদে থাকতে বলছেন। এব্যাপারে তিনি ন্যায় বিচার চেয়েছেন।
তদন্তকারি টেকনাফ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নুরুল আবছার জানান, তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত পাওয়া বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হবে। মাদ্রাসা বোর্ড এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
এব্যাপারে কাটাখালী রওজাতুন্নবী (স) দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সালে হারুনুর রশিদ সিকদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
##