মুক্তিযুদ্ধে টেকনাফের ওরা ৬ শহীদ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

এম.এরশাদুর রহমান : ১৯৭১সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে টেকনাফ উপজেলায় যে ৬জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের জীবনী আলোচনা করা হল ।

০১/শহীদ ক্যাপটেন মকবুল আহম্দ,পান খালী।

০২/শহীদ হাবিলদার এজাহার মিয়া ,ফুলের ডেইল ।

০৩/শহীদ শামসুল আলম ,ফুলের ডেইল ।

০৪/শহীদ লাল মুহাম্মদ ,হাতিয়ার ঘোনা ,টেকনাফ।

০৫/শহীদ মুহাম্মদ আলী ,ফুলের ডেইল।

০৬/শহীদ আমীর হামজা,কেরুনতলি ,হোয়াইক্যং।

০১/শহীদ ক্যাপটেন মকবুল আহম্দ,পান খালী।

নামঃ শহীদ মৌলভী ক্যাপটেন মকবুল আহমদ

পিতা : মরহুম আব্দুস সোবহান

মাতা : মরহুমা ফরায়জুন নেসা

ঠিকানা :

গ্রাম : পশ্চিম পান খালী ,ডাকঘর : হ্নীলা,টেকনাফ,কক্সবাজার ।

জন্ম : ১৯৩২ ইং

শাহাদাৎ : ১৯৭১ ইং

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

প্রাইমারি = হ্নীলা জামেয়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা ।

দাখিল

আলিম

ফাজিল

কামিল

দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা,চট্রগ্রাম ।

এস এস সি=চট্রগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল,চট্রগ্রাম।

এইচ এস সি /ডিগ্রী= চট্রগ্রাম সরকারি কলেজ ।

মার্স্টাস= অর্থনীতি= ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

কর্মজীবন

প্রথম কর্মজীবন : খন্ডকালীন প্রভাষক ,অর্থনীতি বিভাগ

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ।

এর পরে পাট টাইম কর্মজীবন : চট্রগ্রাম সরকারি কলেজ ।

চট্রগ্রাম সিটি কলেজ,সেন্ট প্লেয়াসিস স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন ।

সেনা বাহিনীতে যোগদান :

১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনার পদে যোগদান করেন যার ব্যাচ নং(১০৪৭৬) রাওয়াল পিন্ডি সেনানিবাসে ।তিনি হাটি হাটি পা পা করে কমিশনার থেকে ক্যাপটেন উপাধি লাভ করেন ।তিনি কর্মজীবনে অসংখ্য লোককে চাকরি লাভে সহয়োগিতা করেন । তিনি কুমিল্লাহ ময়নামতি ক্যান্টেমেন্ট এ ক্যাপটেন হিসেবে দায়িত্ব পালন রত অবস্থায় পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণ করেন ১৯৭১ সালে ।তার কবর ময়নামতি ক্যান্টেনমেন্ট এর গোর স্থানে ৬নং কবর ।

কক্সবাজার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নামের তালিকায় এই মহান মানুষটির নাম দ্বিতীয় স্থানে আছেন ।

০২/শহীদ সাজেন্ট ইজাহার মিয়া,ফুলের ডেইল।

শহীদ সাজেন্ট ইজাহার মিয়া

পিতা : ওয়াজ উদ্দীন

মাতা : লাল মতি

জন্মস্থান : ফুলের ডেইল ,হ্নীলা ,টেকনাফ ,কক্সবাজার ।

তিনি এক নম্বার সেক্টরে সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা যুদ্বে অংশ গ্রহণ করেন ।

জন্মতারিখ : আনুমানিক ১৯৪৫ সাল

৭ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ২য় ।

পড়ালেখাঃ প্রাথমিক : হ্নীলা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মাধ্যমিক : হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন ।

কর্মজীবন : সিপারী হিসেবে যোগদান করেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে যোগদান করেন ।

ধীরে ধীরে সার্জেন্ট পদে পদায়ন হন ।

বিয়েঃ পানখালীর হাজি খুইল্যা মিয়ার মেয়ে সুফিয়া খাতুন কে বিয়ে করেন ।

ছেলে মেয়ে : ওনার ২ ছেলে ১ মেয়ে

ছেলেগুলো

০১ মুহাম্মদ শাহাজাহান ,সরকারি চাকরি করেন।

০২ শাহজামাল (প্রবাসী)

একমাত্র মেয়ে ,হাসিনা বেগম ।

শাহাদাত বরণ : ১৯৭১ সালে মহান স্বধীনতা সংগ্রামে ১নং সেক্টরে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে শাহাদাৎ বরণ করেন ।ওনার নম্বর ১২০৪৯০(পুরাতননং ১২৪১৪৩১)

০৩/শহীদ শামসুল আলম ,ফুলের ডেইল ।

শহীদ শামসুল আলম

পিতা : ঠান্ডা মিয়া

মাতা : আলমেছ খাতুন

জন্ম তারিখ :

জন্ম স্থান : ফুলের ডেইল ,হ্নীলা ,টেকনাফ ।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

ফুলের ডেইল এর

শহীদ শামসুল ।

মুক্তি যুদ্ধে প্রাণ দিয়ে

করনি তুমি ভুল ।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে

তুমি এক ফুটন্ত ফুল ।

তুমি আজ সেরাদের সেরা

তুমি ছিলে অতুল ।

,,

ওরা ৪ ভাই ৩ বোন

০১/সুলতান আহম্মদ

০২/শামসুল আলম

০৩/নুরুল আলম

০৪/জাফর আলম

ওরা ৩ বোন

০১/গুল বাহার

০২/মিস্ত্রি

০৩/নুরুন্নাহার

পড়ালেখাঃ

তিনি প্রথমে মক্তবে পড়ালেখা করেন।

এর পর ১৯১৬ সালে প্রতিষ্টিত হ্নীলা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন ।

পঞ্চম শ্রেণী পয়ন্ত পড়ালেখা করে তিনি

দর্জির কাজ শেখেন ।

এবং ই পি আর এর

দর্জির চাকরি নেন ।

ওনার ইপিআর নং-১৫৬৮৬

বিয়ে :

১৯৭০ সালে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা হতে গুল বাহার বেগম কে বিয়ে করেন ।

বিয়ে করে তিনমাস তাকে হ্নীলায় বাপের বাড়ীতে রাখেন ।তিন মাস পরে তাকে

তার কর্মস্থল চট্রগ্রাম হালি শহর ইপি আর ক্যাম্পে নিয়ে যান ।তারা সেখানে

বসবাস করতে থাকেন ।

তখন গুল বাহার এর পেটে আসে সনজিদা। সে তিন মাস ।

৩১/০৩/১৯৭১সালে

তাকে বাড়ী হতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি ছোট্র গলিতে নিয়ে তাকে শহীদ করা হয় ।

তাকে গুল বাহার খুজেঁ পাইনি ।অনেক কষ্ট করে গোল বাহার ওখান হতে হ্নীলায় ফিরে আসেন ।

এখনো গোলবাহার তার স্বামীর স্মৃতি নিয়ে বেচে আছেন ।

০৪/শহীদ লাল মুহাম্মদ ,

হাতিয়ার ঘোনা ,টেকনাফ।

শহীদ লাল মুহাম্মদ

পিতাঃ মুহাম্মদ করিম উদ্দীন মৃধা

মাতাঃ গোলাপ জান বিবি

জন্ম তারিখঃ ২৫/০৪/১৯৩৬ ইং

জন্মস্থানঃ ঝাল কাটি ,বরিশাল।

পড়ালেখাঃপ্রাথমিক ,

এসএসসি

এইচ এসসি

পড়ালেখা করেন ঝাল কাঠি বরিশালে ।

কর্মজীবনঃ তিনি পড়ালেখা কওে ইপি আর এ চাকুরি নেন ।

টেকনাফ থানায় তিনি বদলি হয়ে আসেন ওখানে চাকরিরত অবস্থায় টেকনাফের মাস্টার মুহাম্মদ হোসাইন এর সাথে পরিচয় হন । ওনার মেয়ে আছিয়া খাতুনকে ২৫/০৪/১৯৬৩ সালে বিয়ে করেন ।

শাহাদাৎ বরণঃ

তিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে খুলনা সেক্টও হেড কোয়াটারে চাকরি রত অবস্থায় শাহাদাৎ বরণ করেন ।

ছেলে মেয়েঃ ওনার একমাত্র সন্তান আবুল কালাম আজাদ ।ওরা আমাদের গর্ব ,ওরা আমাদের ইতিহাসের পাতা ।

০৫/শহীদ মুহাম্মদ আলী,ফুলের ডেইল।

শহীদ মুহাম্মদ আলী

পিতা : ছমি উদ্দীন (সও)

মাতা : বদিউজ্জামান ওরফে বদুর জল

জন্মস্থান : ফুলের ডেইল ,হ্নীলা ,টেকনাফ।

শহীদ মুহাম্মদ আলীর ৫ভাই ৫বোন

ভাই গুলো হল

০১ আমির আলী সও:

০২ শামসুদ্দীন

০৩ জাবেদ আলী

০৪ শহীদ মুহাম্মদ আলী

০৫ বি,এ হানিফ

বোন গুলো

০১ গুলফরাজ

০২ শহর বানু

০৩ শামসুন নাহার।

০৪ আনোয়ারা বেগম

০৫ মমতাজ বেগম

পড়ালেখা : হ্নীলা আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ।

হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৮ম শ্রেণী পয়ন্ত পড়ালেখা করেন ।

পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি ফার্মেসীতে বসতেন ।

কর্ম জীবন : তিনি পল্লী চিকিৎসক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন ।

তিনি বেশি পানও সিগারেট খেতেন

বিয়ে : টেকনাফ অলিয়া বাদ থেকে মরিয়মকে বিয়ে করেন ।

সন্তান : মাহবুবুর রহমান ।

ওনি একটি বড় মুরগী নিয়ে হ্নীলা পুরাতন বাজার থেকে বাড়ী যাচ্ছিলেন পথে তাকে পাকহানাদার বাহিনীরা পান,ওনার হাতে তখন একটি দামি হাত ঘড়ি ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বর্বর নির্য়াতন করা হয় এবং টেকনাফ ঝর্ণার পার্শ্বের রেস্ট হাউসের মাঠে নিয়ে ৩টি গুলি করে তাকে হত্যা করা হয় । তাকে মেরে শেষ নয় তাদের বাড়ী ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় । সে মুসলিম হিসেবে তাঁর মৃতদেহ টেকনাফ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা ইব্রাহীমের সহযোগিতায় এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পেছনের গোরস্থানে জানা শেষে দাফন করা হয়।

দেশ স্বাধীনের ২বছর পর ওনার স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে বিদেশে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতেছেন। যার বাবা ও স্মামীর প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তারা আজ বিদেশে ।শহীদ পরিবারকে মুল্যায়ন করা আমাদের নৈতিক দাবি ।

০৬/শহীদ আমীর হামজা,কেরুনতলি ,হোয়াইক্যং।

শহীদ আমীর হামজা

পিতাঃনুর উদ্দীন সিকদার

মাতাঃআমির খাতুন

জন্ম তারিখ ঃ

জন্ম স্থান কেরুণতলি ,হোয়াইক্যং,টেকনাফ ।

পড়ালেখাঃসিলেট থেকে তিনি ইন্টার পাশ করেন ।

বিয়ে :

ওনার দুই স্ত্রী

০১/চাম্পা খাতুন

০২/ নুরুজ্জামাল

সোনালী সবুজের একটি পতাকা

আমাদের দিলেন উপহার ।

সন্তান : উনার ৬ ছেলে ৭ মেয়ে

ওনি ১৯৭১ সালে আনসারদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন ।

শাহাদাৎবরণঃ

দেশ স্বাধীন হওয়ার ২০দিন আগে হানাদার বাহিনী তাকে গুলি করে হ্যা করেন ।এবং তার ঘর বাড়ী জ্বালিয়ে দেন ।

ওনাকে কেরুনতলি জামে মসজিদের পাশের্^র কবরস্থান এ দাফন করা হয় ।

বর্তমানে ওনার কবরটি অযতেœ অবহেলায় পড়ে আছে ।

১৯৭১সালে বঙ্গবন্ধু

ডদলেন যখন স্বাধীনতার ডাক ।

টেকনাফের ওরা ছয় জনকে

শহীদ করে ফেলে হানাদার পাক।

শামসুল এৎাহার মুহাম্মদ আলী

লাল মুহাম্মাদ আমীর হামজা মকবুল ।

ওরাই বাংলার ইতিহাসে

যেন একএকটি ফোটা ফুল ।

জীবন দিয়ে করেছে ওরা

দেশের মানকে উজ্জল ।

ওদের চেতনায় করব ধারণ

দেহে থাকলে ও এশবিন্দু বল

অসভ্যরা তোমাদের ভুলতে পারে

আমরা তোমাদের ভুলি নাই ।

এখনো সকাল বিকাল রাতে

আমরা তোমাদের গান গাই ।

গমাধী তোমাদের নূরের হউক

ঊসবাস হউক স্বর্গ সুখ ।

তোমাদের কারণে ইতিহাসের পাতায়

উজ্জল টেশনাফের মুখ ।

তোমাদের মত বীর সেনানী

জন্মনিক প্রতিটি ঘরে ঘরে ।

যারা দেশের ক্লান্তি লগ্নে

সবার আগে যাতে হল ধরে ।

স্বাধীনতার আকাশে

ওরা ছয়টি তারা ।

ঊাংলার ইতিহাস অপুণাঙ্গ

ওরা ছয়জন ছাড়া ।

ওদের নাম ছড়িয়ে দিতে

ঊ্যাপক লেখালেখি হোক ।

তাইলে সমাধীতে শান্তি পাবে

ওরা ছয়জনের বুক ।