টেকনাফ টুডে ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ মারা গেছে করোনাভাইরাসের কারণে হওয়া রোগ কোভিড-১৯ এ। সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার মানুষ।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে।
প্রায় তিনমাস আগে চীনের মধ্যোঞ্চলে উদ্ভূত কোভিড-১৯ রোগে ১০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীক্ষায় উঠে এলেও আসল সংখ্যাটা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাসে এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে প্রায় দেড় মাস সময় নেয়। সেটি ১০ লাখে রুপান্তরিত হতে সময় লাগলো আরো দেড় মাসের মত।
গত প্রায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্বব্যাপী ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এর মধ্যে এক চতুর্থাংশ আক্রান্তই শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, আর আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক ইউরোপে।
স্পেনে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ৯৫০ জন, যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১,১৬৯ জনের মৃত্যু
বৃহস্পতিবার জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে মারা গিয়েছেন ১,১৬৯ জন। এখন পর্যন্ত যে কোনো দেশে একদিনে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যার হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০ মানুষ মারা গেলেন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১,৪৪,০০০ জন।
স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের দেশে আগের ২৪ ঘন্টায় ৯৫০ জন মারা গেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। স্পেনে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ২৩৮ জনে।
আগের দিনের চেয়ে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৮%, যা এর আগের কয়েকদিনও একই রকম ছিল। এর ফলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন স্পেন তাদের দেশে প্রাদুর্ভাবের চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ আগামী কিছুদিনেরে মধ্যে সংক্রমণের হার কমতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃত্যুর সংখ্যার হিসেবে ইতালির পরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশ স্পেনে এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়েছে।
যেভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি
ডিসেম্বরের শেষে লি ওয়েনলিয়াং নামের চীনের এক এপিডেমোলজিস্ট বা মহামারি বিশেষজ্ঞ হুবেই প্রদেশেনর উহান শহরে উদ্ভূত হওয়া এক নতুন ভাইরাস সম্পর্কে চীনের অন্যান্য এলাকার চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে তাকে সতর্ক করে পুলিশ।
উহানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ৬ই ফেব্রুয়ারি মারা যান ডক্টর লি।
৩১শে ডিসেম্বর প্রথমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চীন জানায় যে অজানা কারণে নিউমোনিয়া হয়ে তাদের দেশে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা হচ্ছে।
৩রা জানুয়ারি উহানের ‘অজানা ভাইরাস’ নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন তৈরি করে বিবিসি। সেসময় মোট ৪৪ জনের মধ্যে ঐ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল।
