মোঃ আরিফুল্লাহ : কক্সবাজার জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ, এর সঙ্গে ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী যুক্ত হয়ে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৭ লাখে পৌঁছেছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নির্ভর করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওপর। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য সিসিইউ, এইচডিইউ এবং আইসিইউ সেবা অত্যন্ত জরুরি।
কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এই সেবার কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়েছে, যার ফলে সিসিইউ ও এইচডিইউ সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আইসিইউ সেবা সংকুচিত হয়ে মাত্র ৫ বেডে নেমে এসেছে, ফলে চিকিৎসা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। কোনো এক অজানা কারণে এই প্রকল্পের ফাইল মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাচ্ছে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ চিকিৎসার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
এছাড়া, প্রকল্পের আওতায় নিয়োজিত ১৪৭ জন নার্স ও ক্লিনারের চাকরি চলে যাওয়ায় হাসপাতালের পরিষেবা আরও সংকটাপন্ন হয়েছে। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৮০০-৯০০ রোগী ভর্তি থাকে। বর্তমানে আউটডোর বিভাগে নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু চিকিৎসক ও নার্স সেবা চালিয়ে গেলেও, তাদের অনেকের বিকল্প কোনো আয়ের উৎস নেই। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। হাসপাতালের বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসা সেবাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
সাধারণ মানুষের পক্ষে রোগী নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়া এবং সেখানে চিকিৎসা নেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। দেশের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন। অনেক দরিদ্র পরিবার, যারা একসময় আশা করেছিল যে এই হাসপাতালে সেবা পাবেন, আজ তারা নিজেদের চিকিৎসার জন্য লড়াই করছেন। চিকিৎসা না পেয়ে জীবন আর মৃত্যুর মাঝে দোদুল্যমান হয়ে পড়েছে অনেকে।
এই করুণ পরিস্থিতি, এই অসহায়ত্ব—হাসপাতালগুলো পরিদর্শন না করলে অনুভব করা যাবে না। একজন মা যখন তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য কাঁদেন, একজন বাবা যখন তার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য ছুটোছুটি করেন, কিন্তু তার পকেটে টাকা থাকে না—এটা শুধু কক্সবাজারের নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্যই এক দুঃখজনক চিত্র। আমরা চাই না, চিকিৎসার অভাবে কেউ মৃত্যুবরণ করুক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়-এটাই কক্সবাজারবাসীর একমাত্র চাওয়া।####
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।
