টেকনাফ টুডে ডেস্ক : মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রধান আসামী এসআই লিয়াকত ও টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ উপস্থিত আসামীদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
৬ আগষ্ট বিকালে টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আদালত নম্বর-৩) এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাং হেলাল উদ্দিনের আদালতে উপস্থিত হয়ে ৭জন পুলিশ সদস্যদের জামিন আবেদন করেন নিয়োজিত আইনজীবীরা। বিচারক উক্ত আবেদন নামঞ্জুর করে উপস্থিত আসামীদের জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন বলে পিপি সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

উল্লেখ্য, মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান হত্যা মামলাটি টেকনাফের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেের আদালতের আদেশ মতে, টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত একটি হত্যা মামলা হিসাবে ৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রুজু করা হয়। যার নম্বর টেকনাফ থানা : ৯/২০২০, যাহার সিআর মামলা নম্বর : ৯৪/২০২০ ইংরেজি (টেকনাফ)। দন্ডবিধি ৩০২, ২০১ ও ৩৪ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাটি রুজু করার সাথে সাথে মামলার এজাহারভুক্ত সকল আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের মধ্য থেকে মামলার ২নম্বর আসামী-টেকনাফ থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ (৪৮) চট্টগ্রাম পুলিশের হেফাজতে থেকে কক্সবাজারে সারেন্ডার করতে আসছেন। প্রদীপ কুমার দাশ গত ৪ আগস্ট থেকে অসুস্থ হয়ে ছুটিতে যান। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি তখন থেকে বন্ধ ছিলো।
এদিকে, আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানায় রুজু হওয়া মামলাটি তদন্তের জন্য র্যাব-১৫ এর কাছে বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট সকালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি এবিএমএস দোহা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী টেকনাফ মডেল থানা কর্তৃপক্ষ এ মামলার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। অপরদিকে, র্যাব-১৫ থেকে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে মামলার সার্বিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৩১ জুলাই খুন হওয়া মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের বড়বোন ও মোঃ শামসুজ্জামানের সহধর্মিণী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস (৪২) বাদী হয়ে টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৫ আগস্ট সকালে ৯ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের সঙ্গী ও ৩১ জুলাই এর ঘটনায় টেকনাফ পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি সাহেদুল ইসলাম সিফাতসহ ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এরআগে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি ও মামলার ২ নম্বর আসামী প্রদীপ কুমার দাশকে চট্রগ্রাম পুলিশ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার এনে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেখান থেকে আদালতে সারেন্ডার করতে আসে।
