কক্সবাজারে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশু ও নারী ইয়াবাসেবীর সংখ্যা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago
প্রতিকী ছবি সংগৃহিত

নুরুল করিম রাসেল : কক্সবাজারে সম্প্রতি নারী ও শিশু ইয়াবা সেবীর সংখ্যা দিন দিন আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে। আগে শুধু মাত্র নারী ইয়াবা সেবীর কথা শুনা গেলেও এখন শিশুরাও ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়া সেসব শিশুদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। যারা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ৭ম থেকে ১০ শ্রেনীর ছাত্র।
এমন উদ্বেগ জনক তথ্যটি জানিয়েছেন কক্সবাজার মাদক নিরাময় কেন্দ্র ফিউচার লাইফ এর পরিচালক জসিম উদ্দিন কাজল। পাশাপাশি কক্সাবাজারে নারী মাদক সেবীর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি তার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের জন্য আসা অভিভাবকদের সংখ্যা হিসাব করে তিনি এ তথ্য জানান। তবে তার কেন্দ্রে নারীদের কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তিনি শুধু কাউন্সেলিং দিতে পারছেন। চিকিৎসার জন্য ঢাকা সহ অন্যান্য স্থানে যেতে হয় তাদের।
এছাড়া কক্সবাজারে লক্ষাধিক মাদকসেবী রয়েছে বলে জানান তিনি। যার অধিকাংশ ইয়াবাকে মাদক হিসাবে সেবন করে থাকেন।
তিনি জানান, সাধারনত মাদক সেবনকারী যখন লাস্ট স্টেজে চলে যায়, মাদকের টাকার জন্য অভিভাবকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে অথবা বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন তখন অভিভাবকরা আসলে জানতে পারেন।
মাদক সেবনকারী নারী ও শিশুদের শতভাগই ইয়াবাসক্ত বলে জানান তিনি। নারী সেবনকারীদের অধিকাংশ ছাত্রী।
আবার শিশু মাদকসেবীদের সাথে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন কক্সবাজারের একটি বেসরকারী বিদ্যালয়ে ৭ম থেকে ১০ শ্রেনী পর্যন্ত সব ক্লাসের অর্ধেকের বেশী শিক্ষার্থী নিয়মিত-অনিয়মিত ভাবে ইয়াবা সেবন করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কাউন্সেলিং করেছেন বলেও জানান।
জসিম উদ্দিন কাজল ১৭ বছর যাবৎ মাদক নিরাময় কেন্দ্র ফিউচার লাইফের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।
বর্তমানে তিনি পরিচালক হিসাবে মাদক নিরাময় কেন্দ্রটিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
আবার এই সেবায় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়।
মূলত অসেচতনতার অভাবেই বেশীর ভাগ চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। অথচ দেশে মাদকের যে ভয়াবহ আগ্রাসন তাতে বেসরকারী পর্যায়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র গুলোতে সরকারী পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। অসচেতনতার অভাবে এখনো অনেক বাড়ি মালিক নিরাময় কেন্দ্রের জন্য বাড়ি ভাড়া দিতে চান না, এরকম নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়। তিনি মনে করেন মুলত মাদকের সহজলভ্যতার কারণে মাদকসেবীর হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর চাহিদার কারনে মাদকের পাচার অব্যাহত রয়েছে। তাই মাদক পাচার হ্রাস করতে হলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি নতুন করে কিশোর তরুনরা যাতে মাদকাসক্ত হয়ে না পড়ে সেজন্য সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে। অভিভাবকসহ সকল নাগরিকদের মাদকের কুফল জানতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান ও সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে।