নুরুল করিম রাসেল :
কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় জমির বিরোধে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ৩দিন পর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
শুক্রবার (২২ জানুয়ারী) সকালে ওই ঘটনায় নিহত রাশেদার স্বামী ও জন্নাতুল ফেরদৌস এর পিতা আজিজুল হক বাদী হয়ে অভিযুক্ত আবুল কালামসহ ৪ জনকে আসামী করে ইদগাও থানায় এ মামলা(নং ০১) দায়ের করেন। মামলার অপর আসামীরা হচ্ছে আবুল কালামের ভাই আবু তাহের ও তাদের দুই জনের দুই স্ত্রী মনোয়ারা ও হামিদা।
ইদগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দাফন কাফন এবং আসামীদের সঠিক নাম ঠিকানার কারণে বাদী পক্ষ মামলা দায়ের করতে বিলম্ব করেন বলে জানান তিনি। এটি সদ্য প্রতিষ্ঠিত ইদগাও থানার প্রথম মামলা। মামলায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। আসামীদের আটকে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারী রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের রাবারড্যাম চরপাড়া এলাকায় জমি বিরোধের জের ধরে মা-মেয়েকে কুপিরে হত্যা করা হয়।
এসময় নিহত হন ওই এলাকার আজিজুল হক বাবুর্চির স্ত্রী রাশেদা বেগম (৩২) ও তার মেয়ে জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস (১৩)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ধারালো দা উদ্ধার করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত একই এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে আবুল কালামসহ বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রাশেদা ও জান্নাতুল ফেরদৌস আসামী আবুল কালামের চাচী ও চাচাতো বোন। পাশাপাশি বাড়ি ছিল তাদের। মাত্র আধা শতক (দশমিক পঞ্চাশ শতক) জমির বিরোধ নিয়ে এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটান ঘটে। আজিজুল হক দাবী করেন জমিটি তার ক্রয়কৃত।
আজিজুল হক ও আবুল কালামের পাশাপাশি বাড়ি। আজিজুল হকের বাড়ির পেছনে আধা শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল বেশ কিছুদিন ধরে। এ নিয়ে শালিস বিচার বসে কয়েক দফা।
ঘটনার দিন আজিজুল হক সেই জমিতে ঘেড়া দেয়। সন্ধায় টমটম চালক আবুল কালাম বাড়িতে ফেরার পর আজিজুল হকের স্ত্রী রাশেদার সাথে এ নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে দাড়ালো দা দিয়ে এলাপাতাড়ী কুপিয়ে চাচাী রাশেদাকে হত্যা করে। এতে বাধা দিতে গেলে চাচাতো বোন জান্নাতুল ফেরদৌসকেও জবাই করে হত্যা করে। এসময় গৃহকর্তা আজিজুল হক বোড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
