এইবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় চড়ে নাফ নদী পাড়ি আসলো নারী শিশুসহ ৫২ জন রোহিঙ্গা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

আব্দুল মাবুদ, শাহপরীরদ্বীপ প্রতিনিধি :
এইবার প্লাষ্টিক জারের উপর বাঁশ দিয়ে নাফ নদীতে ভেলা ভাসিয়ে এপারে আসলো মিয়ানমারের ৫২ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। ৮ নভেম্বর বুধবার সকাল ৯ টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে তারা এপারে আসে। তাদের মধ্যে ২২ শিশু, ১৭ জন নারী ও ১৩ জন পুরুষ রয়েছে। তারা সকলে রাখাইনের বুছিডং থানার বাসিন্দা।

ভেলায় ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে হেফাজতে রেখেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি শাহপরীরদ্বীপ কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল জলিল সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বিজিবি হেফাজতে রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভেসে আসা বুচিডং থানার হামপ্রাং গ্রামের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, গত দুই মাস যাবৎ ডংখালী চরে তাবু বানিয়ে অবস্থান করছিলাম। টাকা পয়সা না থাকায় নৌকা ভাড়া করতে না পেরে বাংলাদেশে আসতে পারছিলাম না। দুই মাস যাবৎ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কেটেছে তাদের। শেষে গ্রাম থেকে প্লাস্টিক জার ও বাঁশ সংগ্রহ করে ভেলা তৈরী করি। পরে নিজ পরিবারের ৮ জনসহ ৫২ জন রোহিঙ্গা ওই ভেলা নিয়ে মিয়ানমারের মংডু শহরের ডংখালির বালুচর সীমান্ত থেকে বুধবার ভোর ৩ টার দিকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিই। বইঠা চালিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে সকাল ৯ টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ায় পৌঁছান।

বুচিদং সিন্ডিপ্রাং গ্রামের অলি আহমদ জানান, সেখানে খাদ্য ও চিকিৎসার চরম সংকটে তাদের দিন কেটেছে। শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাফ নদী পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত চার দিন ধরে প্লাস্টিকের জারিকেন ও বাঁশ দিয়ে একটি ভেলা তৈরি করা হয়। সেই ভেলায় চড়ে বাংলাদেশে আসেন।

বাংলাদেশ সীমান্তে আসলে বিজিবির সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে।

এদিকে আগত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, গত দুই মাস যাবৎ দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটলেও গত কয়েকদিন ধরে এপার থেকে রাখাইন সীমান্তে কোন নৌকা না যাওয়ায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখনো সেখানে জড়ো হয়ে আছে।

এছাড়া মিয়ানমার থেকে পালাতে নৌকার সংকট দেখা দেওয়ায় এপর্যন্ত প্রায় ৫১ জন যুবক ও কিশোর প্লাষ্টিকের জার দিয়ে সাঁতার কেটে এপারে আসে। কিন্তু এবার প্রথম নারী-শিশু ও পুরুষ ভেলায় ভেসে এসেছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার ভোর রাতে শাহপরীরদ্বীপ, নাইট্যংপাড়া ও মহেশখালীয়া পাড়া সৈকত পয়েন্ট দিয়ে আরো ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। মানবিক সহায়তা পুর্বক পুলিশ ও সেনারা তাদেরকে নির্দিষ্ট ক্যাম্পে পৌঁছে দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরাতন রোহিঙ্গাদের সাথে মিশে এক শ্রেনীর দেশীয় দালাল রোহিঙ্গাদের বহন করে মোটা অংকের বিনিময়ে এদেশে নিয়ে আসছে। বেশীর ভাগে ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা এদেশে আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কক্সবাজার থেকে ফিশিং ট্রলার কন্টাক্ট বা ভাড়া করে সাগর পথে রাখাইনের সীমান্তের ধংখালীর বালুচর থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে এসে তাদের টেকনাফ ও শামলাপুর সৈকতের যে কোন পয়েন্ট রাতের আধাঁরে নামিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে ফিশিং ট্রলারগুলো। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে সাগরে শিশুসহ অনেকের সলিল সমাধিও হয়েছে।

এছাড়া এদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান করে প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছে। যাতে তারাও এদেশে পালিয়ে আসে। শিগগিরই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে নিয়ে না গেলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থামানো দুরহ হয়ে উঠবে বলে মত প্রকাশ করেন স্থানীয় সচেতনমহল।

  • এইবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় চড়ে নাফ নদী পাড়ি আসলো নারী শিশুসহ ৫২ জন রোহিঙ্