হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফের উলুবনিয়া-কাটাখালী সীমান্ত পয়েন্টের চিহ্নিত চোরাকারবারী,রোহিঙ্গা মাদক কারবারী এবং ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে উভয়কুল ম্যানেজ করে চলা কতিপয় নেতাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা ৩টি দূবৃর্ত্ত গ্রুপের অপতৎপরতার কারণে চোরাচালান, মাদক কারবার ও অস্ত্র ব্যবসা সক্রিয় রয়েছে। র্যাবের অভিযানে বিদেশী মদ, বিয়ার, চোরাইপণ্য এবং অস্ত্রসহ দুই নারী-পুরুষ আটক এবং আরো ১জনকে পলাতক আসামী করার ঘটনায় এসব চক্রের অপতৎপরতা নিয়ে লোকমুখে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আইন-শৃংখলা বাহিনী টেকনাফকে মাদকসহ যাবতীয় অপরাধমুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকা সংঘবদ্ধ দূবৃর্ত্তদের বিভিন্ন কৌশলের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। তাই এসবের উর্ধ্বে উঠে কাজ করে টেকনাফকে কলংকমুক্ত করা সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়,গত ১২মার্চ সকাল সাড়ে ১১টারদিকে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর (সিপিসি-২) হোয়াইক্যং ক্যাম্পের চৌকষ একটি আভিযানিক দল টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী পূর্বপাড়ায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে মায়ানমার হইতে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিদেশী মদ, বিয়ার ও সিগারেট এনে বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য মওজুদ করার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসত-ঘরে অভিযান চালিয়ে ৫২বোতল বিদেশী মদ, ২৮০ক্যান বিয়ার, ১১কার্টুন সিগারেট ও ১টি একনলা বন্দুকসহ কাটাখালী পূর্ব পাড়ার মৃত মকবুল আহমদের পুত্র হাফেজ আহমদ (৪০), সৈয়দ আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার ওরফে সোমা (২২) কে আটক করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল হতে সোমার স্বামী মোঃ সৈয়দ আলম ওরফে সোনাইয়া (২৮) কৌশলে পালিয়ে যায়।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল এন্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ বিল্লাল উদ্দিন জানান-জব্দকৃত মাদক, সিগারেট ও অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে উক্ত সীমান্তের অপতৎপরতা সম্পর্কে আইন-শৃংখলা বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র, মিডিয়া কর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করা জানা যায়, কুতুপালং ক্যাম্প থেকে মাদক কারবার এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পল পলাতক থেকে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা দিলদার আহমদ দিলুর পুত্র মুন্না, ক্যাম্প-২১, ক্যাম্প-২২, ক্যাম্প-২৭ এ থাকা তার সহযোগীদের নিয়ে কাটাখালী পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে স্থানীয় চোরাকারবারী, ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় থাকা দূবৃর্ত্তদের নিয়ে গড়ে তোলে বিশেষ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৌশলে অস্ত্র, মাদক, স্বর্ণের বার, চোরাইপণ্য কারবার চালিয়ে আসছে। এই চক্রের অপতৎপরতা আরো সহজ করার জন্য নাফনদীর বুকে জেগে থাকা মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন চরসমুহ লীজ নিয়ে মাদকের চালান মওজুদ করে। পরে সময়-সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে কমিশনের ভিত্তিতে মাদকের চালান খালাসে সহায়তা করে আসছে। তাই পুরো টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে মাদক কারবারী,স্বর্ণ ও চোরাকারবারীদের সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবী উঠেছে। ###
