উলুচামরীর লালু বন্দুকযুদ্ধে নিহতের পর রোহিঙ্গা বিয়ে করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে ভাই লাশ জালাল!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : সম্প্রতি হ্নীলার পাহাড়ী জনপদ জাদিমোরা, নয়াপাড়া, পশ্চিম লেদা, বৃহত্তর আলীখালী-রঙ্গিখালী, গাজীপাড়া, উলুচামরী, লেচুয়াপ্রাং, পশ্চিম পানখালী ও মরিচ্যাঘোনা এলাকায় মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার শেষ নেই। সম্প্রতি মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং প্রশাসনিক অভিযানে মাদকসহ আটকের ঘটনা তদন্তকালে বেরিয়ে এসেছে এলাকার ৩টি প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যতা রেখে এক রোহিঙ্গা নারী বিয়ের পর মাদক চোরাচালানে লিপ্ত থেকে এলাকায় পরিবেশ ভারী করে তোলা জালাল উদ্দিন ওরফে লাশ জালালের অপকর্মের কাহিনী।
গত ৬নভেম্বর ভোর ৫টারদিকে র‌্যাবের হাতে ২০হাজার ইয়াবাসহ মিজান নামে এক যুবক আটকের ঘটনা ঘটে। উক্ত যুবকের ইয়াবার চালান এই ইয়াবা ডিলার লাশ জালালের চালান বলে জানা গেছে। সে ওপারে শ^াশুড় বাড়ি এবং কুতুপালং ক্যাম্পে কতিপয় রোহিঙ্গা আতœীয় থাকার সুবাদে কৌশলে জাদিমোরা, মোচনী, লেদা, রঙ্গিখালী, নাটমোরা পয়েন্টসহ একাধিক পয়েন্ট দিয়ে বড় ধরনের মাদকের চালান এনে দূর্গম পাহাড়ী আস্তানায় মওজুদের পর উলুচামরী, কোনারপাড়া, মোরা পাড়া, হামজার ছড়া, লেচুয়াপ্রাং ও পশ্চিম সিকদার পাড়ায় সরবরাহ দিয়ে আসছে বলে মাদক চোরাচালানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এসব এলাকায় মাদক সেবন, চোরাচালান ও বহনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা লেগেই রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ভোররাতে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের সাথে দমদমিয়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় তার বড় ভাই হ্নীলা উলুচামরীর কালা মিয়া প্রকাশ কালুর পুত্র মোঃ হাসান ওরফে হামিদুল ইসলাম প্রকাশ লালাইয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ঘটনাস্থল হতে ২টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র, ১০রাউন্ড বুলেট ও ৬হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় ৩টি মাদক, ৪টি মারামারি ও ১টি মানব পাচারসহ বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার কারণে লাশ জালালের ভাই লালু বন্দুক যুদ্ধে নিহত হলে তারা সংশোধিত না হয়ে চলমান ক্রসফায়ারের মধ্যে প্রাণ হাতে নিয়ে মাদকের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এক সময় এই পরিবারটি চালাতে ক্রসফায়ারে নিহত লালাইয়া রিক্সা চালাত। এরপর সিএনজি চালাতে গিয়েই মাদকের চালান ও অস্ত্র বহনের মাধ্যমে উক্ত এলাকায় মাফিয়া কিং হিসেবে আর্বিভূত হন। জড়িয়ে পড়ে জবর-দখল, ভাড়াটে সন্ত্রাসী, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে। ক্রসফায়ারের মাধ্যমে উলুচামরী এলাকায় সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়। ভাই হারানোর এই শোক কাটানোর বছর পার না হতেই নিহত লালুর ভাই হ্নীলা উলুচামরীর কালা মিয়া প্রকাশ কালুর পুত্র মোঃ জালাল উদ্দিন প্রকাশ লাশ জালাল (২৮) মিয়ানমারের এক মহিলাকে বিয়ের পর ইয়াবা ডিলার হিসেবে আর্বিভূত হয়।
সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতি অর্জন করতে হলে লাশ জালালের মতো নীরব ইয়াবা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। ##