উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গাদের ভারে নুয়ে পড়েছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী:দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা ও আকর্ষনীয় পর্যটন এলাকা উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গাভারে নুরে পড়েছে। পাহাড়, নাফ নদী, সাগর ও সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসাবে এর কদর অনেকাংশে বেশী। প্রাকৃতিক সম্পদে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত উপজেলা ভরপুর হলেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং শরনার্থী মর্যাদা নিয়ে বসবাস করার প্রেক্ষিতে এ দুই উপজেলার সকল উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমানে প্রকট আকার ধারন করছে। এর উত্তরণে উপায় কি ? তা এখনো খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। রোহিঙ্গা ও ইয়াবা এ দুইটি সমস্যা উখিয়া টেকনাফ বাসী আজ জর্জরিত। এ কারণে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। অপরাধ প্রবণতার সাথে বেশীরভাগ জড়িত রোহিঙ্গা। বাড়তি জনসংখ্যার চাপে নিত্যপণ্য সামগ্রীর দাম ও বাড়ছে সমানতালে। উখয়া-টেকনাফ এ দুই উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৫লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে উখিয়াতে ২লাখ ৭০ হাজার এবং টেকনাফে ২ লাখ ৮০ হাজার। গত ২ মাসেই এ ২ উপজেলায় ১০ লাখের চেয়ে বেশী রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এর পূর্বে আসা পুরাতন ৫ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে এ ২ উপজেলায়। যারা সত্তরের দশক থেকে বিভিন্ন সময়ে এখানে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং ক্যাম্প ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছে স্থানীয় জনসংখ্যার চেয়ে দ্বিগুন বেশী। এছাড়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত উপজেলার বসবাস করছে অনেক রোহিঙ্গা। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গাদের তুলনায় স্থানীয়রা হয়ে পড়েছে, সংখ্যালঘু। বর্তমানে রোহিঙ্গারা হয়ে গেছেন, সংখ্যাগরিষ্ট। কক্সবাজার জেলার যে ক’টি উপজেলার মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার গুরুত্ব অপরিসিম। সরকার প্রথমে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোরতা থাকার পর কেন যেন এ সিদ্ধান্তের প্রতি অটল থাকতে পারলনা, তা নিয়ে অনেকের প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয়রা জানায়, রোহিঙ্গাদের বাড়তি চাপে তারা নাভিশ্বাস পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। তাদের কারণে স্থানীয় অথাৎ বাংলাদেশী নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ৩০ টাকার চাল ৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। আজ নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া। উখিয়া ও টেকনাফে রেজিঃ ও আনরেজিষ্টার্ড কুতুপালংসহ ৪টি শরনার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন হতে না হতেই ফের ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট স্মরণকালের প্রায় দশলাখ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে এবং এ নিয়ে সীমান্ত উপজেলাবাসী রীতিমতো চিন্তিত। ভবিষ্যতে সীমান্তের জীবন জীবিকায় প্রভাব ফেলবে রোহিঙ্গারা। শ্রমবাজার তাদের দখলে যাবে এমন আশংখা করছেন অনেকেই। এছাড়া পরিবেশ ও বননিধনের হুমকি হয়ে পড়বে। জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে বনকে এবং ন্যাড়া করবে পাহাড়কে। ফলে বিরুপ প্রভাব পড়বে স্থানীয়দের উপর। রোহিঙ্গা ও ইয়াবা একটি জাতীয় সমস্যা হলেও এ সমস্যার সাথে নিত্যদিন লেগেই রয়েছে, দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এ ২ উপজেলা যে হারে রোহিঙ্গারা দলে দলে অনুপ্রবেশ করছে তাতে অদুর ভবিষ্যতে উখিয়া টেকনাফ দ্বিতীয় আরাকানে পরিনত হতে পারে। অনেকের মূখে মূখে এ অভিমত প্রকাশ করতে শুনা যাচ্ছে। আরাকানের পশ্চিমাংশের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রায় শেষ এবং এখন আসতে শুর করেছে, আরাকানের পাহাড়ের পুর্বাংশ রোহিঙ্গারা। মংডু, রাশিদং ও বুচিদং থানা হয়ে রোহিঙ্গারা দলে দলে নাফ নদী সংলগ্ন নাইক্ষংদ্বীয়ায় জড়ো হয়েছে। নৌকা ও ট্রলারের অভাবে ওরা আসতে পাচ্ছেনা বলে জানা গেছে। এর পর ওরা রাত্রে জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রান বাঁচাতে নৌকাযোগে আসতে শুরু করেছে।