উখিয়ায় রোহিঙ্গা যুবকের অপমৃত্যুকে কেন্দ্র করে হয়রানির অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

শ.ম.গফুর, উখিয়া :
উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে স্ত্রীর পরকীয়া পরবর্তী বিয়ের ঘটনায় মানসিক বিপর্যস্ত এক রোহিঙ্গা যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও প্রতিপক্ষকে মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িত করে অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায় গত ২৩ মে কুতুপালং রেজিষ্ট্রার্ট শরণার্থী শিবিরের এমআরসি ৪০৮-এ, সেড নং- ৪২, ব্লক- এফ এর মৃত ইমাম হোসেনের পুত্র মোঃ শফি প্রঃ বলি (২৯) মালয়েশিয়া ফেরৎ হয়ে চলে আসে। স্ত্রী লাইলা বেগমের পরকীয়া পরবর্তী কলিম উল্লাহ নামক এক যুবককে বিয়ে করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ মোঃ শফি প্রঃ বলি গত ২৩ মে শিবিরের বাসা থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়। যাওয়ার আগে পিতা, মাতা ভাই-বোন আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে দোয়া কামনা করে বের হয়। পরদিন বাড়িতে না ফিরলে ২৫ মে তার মৃত দেহ পাওয়া যায় শিবিরের পশ্চিম পাশস্থ মধুর ছড়া খালের পাড়ে। স্থানীয়রা জানান, সে স্ত্রী ও পারিবারিক নানা মানসিক যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পেতে আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারনা করেন। ২৫ মে উখিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মোঃ শফি প্রঃ বলির মৃত দেহ উদ্ধার করে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। যার নং- ৩৭, তারিখ- ২৫/০৫/২০১৭ইং। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত মোঃ শফি প্রঃ বলির আপন বোন প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে ভাবির ২য় স্বামী কলিম উল্লাহ পিতা- কবির আহমদ, এমআরসি নং- ৪৭৯০৭, শেড নং- ৩৯ ব্লক ০১, কলিম উল্লাহর ভাই সাবেক ক্যাম্প চেয়ারম্যান ইসমাইল, ছলিম উল্লাহ, বাবা কবির আহমদ, মাতা হামিদা খাতুন ও কলিম উল্লাহর স্ত্রী লায়লা বেগমকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত নামা ৩/৪ জনকে অভিযুক্ত করে উখিয়া থানা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উখিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে মোঃ শফি প্রঃ বলি কে কেউ হত্যা করেনি। সে আত্মহত্যা করেছে মর্মে জানতে পারে। আক্রোসের বশিভূত হয়ে পুণরায় নিহত মোঃ শফি প্রঃ বলির আপন সহোদর বড় ভাই মোঃ হাসান কালু বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করে। যার নং- সিআর ২১২/১৭ (উখিয়া), তারিখ- ০৩/০৭/২০১৭ইং। এতে উল্লেখিত ৫ জনকে আসামী করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ বুরে‌্যা অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেয়। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে কোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে মোঃ শফি প্রঃ বলিকে হত্যা করা কোন ক্লু পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয়। এর পরেও মোঃ শফি প্রঃ বলির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী লায়লা বেগমের স্বামী কলিম উল্লাহ সহ তার পিতা,মাতা, ভাইদের আসামী করে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মিথ্যা মামলায় জান মালের নিরাপত্তার ভয়ে কলিম উল্লাহ গংরা পালিয়ে জীবন যাপন করছে। ফলে তাদের পরিবারের বিপর্যস্ত জীবন যাপন চলছে। দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। সংকায় অর্থনৈতিক হয়রানির গেড়াকলে পড়ার। মিথ্যা মামলার সংকায় পালিয়ে বেড়ানো সাবেক রেজিষ্ট্রার্ট ক্যাম্প চেয়ারম্যান মোঃ ইসমাইল বলেন, আমরা এ ঘটনায় কেউ জড়িত নয়। পবিত্র কোরআনের কসম বলছি। যদি আমার ছোট ভাই কলিম উল্লাহ সম্পৃক্ত থাকে তার শাস্তি হউক। আমাদের জানা মতে কলিম উল্লাহ এ ঘটনায় জড়িত নয়। কিন্তু ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিহত শফির ভাই মোঃ হাসান প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমাদেরকে মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি হাসানকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছি মর্মে মিথ্যা রেকর্ডিং বিভিন্ন লোকজনকে শুনিয়ে বিভ্রান্ত করছে। আমরা সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক মিথ্যা মামলায় ফাসানোর কবল থেকে রেহায় পেতে প্রশাসনের সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করছি। অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম জানান, মরদেহ উদ্ধার কালে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং মোঃ শফির ভাই কালুর মৃত্যুর সংবাদ জানানোর প্রসঙ্গে এজাহারে উল্লেখ করেছে তার ভাইকে কেউ হত্যা করেনি এবং আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গা যুবক মোঃ শফির মৃত্যুর বিষয়ে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তাকে কেউ হত্যা করেছে এমন আলামত ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।