মুহাম্মদ হানিফ আজাদ : উখিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত জনপদ করইবনিয়া এখন ইয়াবার পাইকারী বাজারে পরিণত। প্রশাসনের মূল টার্গেট সশস্ত্র প্রহরায় আত্মগোপনে থেকে ইয়াবার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের হাতে নাতে ধৃত করা। এজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে তৎপর হলেও স্থানীয় দালালদের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে। যে কারণে সীমান্তের ইয়াবা গডফাদারদের ধরতে প্রশাসনের বাধ্য হয়ে পুরস্কার ঘোষণা করতে হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী সহ সারাদেশে মাদকের গডফাদার রয়েছে প্রায় ৯ শতাধিক। পালংখালী ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মাদকবিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানায়, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ও সীমান্ত এলাকা হওয়ার সুবাধে মনে হয় যেন পালংখালী মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আসলে তা নয়, এ জরিপে দেখা যায় এখানে সর্বোচ্চ ইয়াবা কারবারির সংখ্যা ৫০ জন। যদিও বা সেবনকারীর সংখ্যা একটু বেশি। এদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী স্বোচ্ছার না হওয়ার কারণে ইয়াবা পাচার, সেবন ও বাহন কোনটাই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরেজমিন রাজাপালং ইউনিয়নের গহিন অরণ্য ঘেরা সীমান্ত জনপদ ঘুরে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে ইয়াবার তথ্য জানতে চাইলে একে একে সবাই পাশ কেটে চলে যেতে দেখা গেছে। তবে না প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষিত যুবক জানালেন তিনজন ইয়াবা গডফাদারের নেতৃত্বে প্রায় ২৭ জনের একটি গ্রæফ ইয়াবা পাচারের সাথে সরাসরি জড়িত। ওই ছাত্র নেতারা বললেন, এখানে একজন কালো চেয়ারম্যান নামের বার্মাইয়া ইয়াবা কারবারি স্থানীয় ভাবে বসবাস শুরু করেছে দীর্ঘদিন থেকে। ওই কালোসহ আরো ২ জন সন্ত্রাসী ইয়াবার চালান নিয়ন্ত্রণ করছে। কালোর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বাড়ীর দরজা জানালা বন্ধ, শোন শান নিরবতা। তিন চার বছরের একটি ছেলে বলল আপনারা কি চান? উত্তরে তার বাবার সাথে কথা বলার বিষয়টি জানালে ওই ছেলেটি হেসে বলল বাবাতো বাড়িতে নেই। রাত্রে আসতে পারে। খালকাটা পাড়া গ্রামের বিধবা মৃত সুলতান আহমদের মেয়ে জরিনা খাতুন (৬০) একটি যুবতী মেয়ে নিয়ে বাড়ীতে একাকী থাকেন। সে জানায়, ইয়াবা কারবারির দালাল আব্দুইয়া তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়। পরেদিন রাতে ওই দালাল তার দলবল নিয়ে বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে ইয়াবা আছে মর্মে অসহনীয় শারিরীক নির্যাতন করে। এ নিয়ে ওই গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও বিষয়টি অজ্ঞাত কারণ বশত ধামাচাপা পড়ে যায়। ওই বিধবা আরো জানায়, এখানে দিনের বেলায় কেউ থাকে না। রাত নামলে যেন করইবনিয়া জমজমাট শহর। সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও পারছে না। গত ৫ আগষ্ট গত করইবনিয়া এলাকায় রেজু আমতলী বিজিবি অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় পাচারকারী চক্রের অস্ত্রধারী সদস্যরা বিজিবি’র উপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করতে বাধ্য হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ডেইল পাড়া গ্রামের রুপু আলম, ইকবাল, রতœাপালং ইউনিয়নের করইবনিয়া গ্রামের আলী আহমদ এর ছেলে মোহাম্মদ ইকবাল, ফারুক, বালুখালীর বকতার মেম্বার, জাহাঙ্গীর আলম, খয়রাতি পাড়ার আতাউল্লাহ হাজির পাড়ার ইলেকট্রেশিয়ান মুহাম্মদ আলী, মীর আহমদ হিজলীয়া মোকতার কোম্পানি ও কামাল মেম্বার রমরমা ইয়াবা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজার কলেজে কর্মরত অধ্যাপক করইবনিয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা প্রফেসর মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, ইয়াবা সেবন পাচার প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকার ইয়াবা ডন খ্যাত জনৈক সন্ত্রাসী তাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্চিত করেছে। এব্যাপারে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানায়, ইয়াবা কারবারি নিশ্চিত হওয়া শর্তেও তার শরীরে ইয়াবা না পাওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমদ বলেন, করইবনিয়া এলাকায় ইয়াবা ডনদের ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব অপরাধীদের হাতে নাতে ধরিয়ে দিলে অথবা তাদের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।
