কক্সবাজার প্রতিনিধি : ১০ জুন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসার সন্ত্রাসীরা নতুন করে অস্থিরতা ও নাশকতার সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার র্যাব ১৫ এর কর্মকর্তারা। ক্যাম্পে নতুন করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল এমন একটি গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে র্যাব আরসার গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আরসার শীর্ষ নেতা মৌলভী আকিজসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্যও উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার রয়াব ১৫ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান র্যাব ১৫ অধিনায়ক লে কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তার জানান গ্রেফতার আরসার শীর্ষ নেতা মৌলভী আকিজ রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহিবুল্লাহ হত্যা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণসহ ২১টির বেশি মামলা রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আরসার শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মৌলভী অলি আকিজ দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে আত্মগোপনে থেকে আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ওস্তাদ খালেদের নির্দেশনাক্রমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নাশকতার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কিছুদিন পূর্বে আবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এই তথ্যের সূত্র ধরে মৌলভী আকিজ’সহ তার সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব এর একটি দল গতকাল রবিবার রাতে জানতে পারে যে, মৌলভী আকিজ’সহ ৮/১০ জন আরসা সদস্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এর একটি পরিত্যাক্ত ঘরে গোপন বৈঠক করছে। র্যাব টিম উক্ত আস্তানায় অভিযান চালিয়ে মৌলভী অলি আকিজ’সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে এবং আস্তানা তল্লাশি চালিয়ে ১টি বিদেশী পিস্তল ১টি দেশীয় তৈরী এলজি, ১টি ওয়ানশুটার গান, ১০ রাউন্ড কার্তুজ,২ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম আরসা’র সন্ত্রাসী গোষ্ঠি। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে আরসা’র সন্ত্রাসী গোষ্ঠি। এই আরসা সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাধারণ রোহিঙ্গাদের উপর প্রভাব খাটায়। কেউ আরসার অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করলে অপহরণসহ নির্মম হত্যকান্ডের শিকার হতে হয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক ২০২৩ সালে ৬৪ জন এবং ২০২৪ সালে অদ্যাবধি পর্যন্ত ২০ জন নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। এ সকল সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূলে র্যাব-১৫, কক্সবাজার শুরু থেকেই বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারী চালু রেখেছে।
তিনি জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব এ পর্যন্ত আরসা প্রধান নেতা আতাউল্লাহর দেহরক্ষী আকিজ’সহ সর্বমোট ১১২ জন আরসা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে। তাদের নিকট থেকে ৫১.৭১ কেজি বিস্ফোরক, ০৫টি গ্রেনেড, ০৩টি রাইফেল গ্রেনেড, ১০টি দেশীয় তৈরী হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৩টি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬৮ রাউন্ড গুলি/কার্তুজ, ৬৭ রাউন্ড খালি খোসা, ০৪টি আইডি ও ৪৮টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
