ইয়াবা রোধে স্পট ফায়ারিং দরকার

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

#মাদক_দ্রব্য_কি?
শাব্দিক অর্থে
মাদক বলতে বুঝায় ড্রাগ,ইয়াবা, গাঁজা,মদ, হেরোয়িন, প্যাথেডিন, আফিম, ইত্যাদি। মাদক এমন একটি ভেষজ দ্রব্য যা ব্যবহারে বা প্রয়োগে মানবদেহে মস্তিস্কজাত সংজ্ঞাবহ সংবেদন হ্রাসপায় এবং বেদনাবোধ কমায় বা বন্ধ করে। মাদক দ্রব্যকে সহজভাবে বলা যায় যা গ্রহণে মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়ে এবং যে দ্রব্য আসক্তি সৃষ্টি করে, তাই মাদকদ্রব্য।

#মাদকের_কুফল_বা_মাদকদ্রব্য_ব্যবহারের_কুফল :
মাদক ও মাদকাসক্তির কোনো ধরণের ভালো দিকই নেই সবটাই কুফল সবটুকুরই খারাপ দিক। মাদকাসক্তি মারাত্মক রকমের অসুস্থতা। এইডস, ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো এটিও ভয়াবহ রোগ। মাদকাসক্তির ফলে শরীর ও মন এমন অবস্থায় পৌঁছে যে মাদক না নিলে প্রত্যাহারজনিত কারণে আসক্তের শরীরে নানারকম উপসর্গ দেখা দেয়। মাদকের আসক্তি মানুষের জীবনে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক, অধ্যাত্মিক বিভিন্ন ধরণের কুফল দেখা দেয় এসব কুফলের বর্ণনা করা হলো।

#মাদকের_শারীরিক_কুফল :
যেমন : হেরোইন, গাঁজা, মদ, আফিম, পেথেডিন প্রভৃতি মাদক গ্রহণে কর্মক্ষমতার অবনতি, ক্ষয় রোগ, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, যকৃতের তীব্র প্রদাহ, রক্তা দূষণ, এইডস ও প্রজননতন্ত্রের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ও রোগে ভোগেন মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা।

#মানসিক_কুফল :
মাদকের কালো থাবা এমনভাবে মানুষকে গ্রাস করে যাতে মানসিক উশৃঙ্খলা, অবসাদ, বিষণ্নতায় বোগের আসক্তরা। মাদকের প্রতি নির্ভরশীল গড়ে ওঠে। নেশার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইচ্ছায় রিুদ্ধে তাকে নেশা গ্রহণ করতে হয়। মাদকদ্রব্য ক্রয়ের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের জন্যে অপরাধ জগতে সে নিজেকে সমর্পন করে। ড্রাগ নেয়ার স্বার্থপরতা, প্রনিশোধ স্পৃহা রাগ, জিদ, ভয়, লজ্জা, হিংসা, ঘৃণা, সংকোচ, হতাশা, আত্মদুঃখ, একাকিত্ব ইত্যাদি নেতিবাচক পরিবর্তন তার আচরণের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। কোনো ঘটনায় সে অতি প্রতিক্রিয়া করে আবার কখনো কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখায় না। প্রকৃতপক্ষে কোনো অনুভূতির মূল্য সে দিতে জানে না। সে শুধু বেঁচে থাকে ড্রাগ ব্যবহারের জন্যে। আর ড্রাগ নেয় বেঁচে থাকার জন্যে।

#সামাজিক_কুফল :
কোনো পরিবারের ছেলে, স্বামী, মেয়ে যে কোনো সদস্য মাদকাসক্ত হলে সমগ্র পরিবার সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হয়। সমাজে সবাই এদের অপরাধী মনে করে এবং সে নজরেই দেখে। কারণ নেশার পয়সা জোগাড় করতে এ ব্যক্তিরা নানা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। আত্মীয়স্বজন পাড়া-প্রতিবেশি কারো কাছে মান সম্মান থাকে না। ঘরে ভাই বা বাবা কেউ মাদকাসক্ত হলে বিবাহযোগ্য মেয়ের বিয়ে দেয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। কারণ এ পরিবারের সদস্যদের কেউ সহজভাবে মেনে নিতে পারে না। সমাজে এরা অবহেলিত, অযাচিত, অপাংতেয়। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণও মাদকাসক্তি।

#অর্থনৈতিক_কুফল :
নেশার টাকা যোগানোর জন্যে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই অপকর্ম ছাড়াও ঘরবাড়ি হতে আসবাবপত্র ও তৈজসপত্র বিক্রি করে মাদকাসক্তরা নিজে সর্বশান্ত হচ্ছে পরিবারকেও পথে বসাচ্ছে। এমনও ঘটনা আছে যে, নেশার টাকা না দিতে পারায় মাদকসক্তরা খুন পর্যন্ত করেরেছ পরিবারের সদস্যকে। কারণ তখন বাবা-মা, ভাই-বোন সম্পর্কে হিতাহিত জ্ঞান থাকে না।

#পারিবারিক_কুফল :
মাদকের ফলে রাষ্ট্রীয় সমস্যার মূল কেন্দ্র রয়েছে পরিবার। কারণ পরিবারের কোনো সদস্য মাদকাসক্ত হলে সে পরিবারের অশান্তি আর ভোগান্তির সীমা থাকে না। মাদকাসক্তি কেবল আসক্ত ব্যক্তিরাই ক্ষতিগ্রস্ত করে না। তার পরিবারের সকল সদস্যদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। কত ঘর ভেঙ্গে যায়। বিকশিত হবার আগেই হারিয়ে যায় কত উদীয়মান প্রতিভা। বিধবা হয় কত নারী, কত শিশু এতিম হয়। মাদকাস্ত ব্যক্তিরা পরিবার সমাজে অস্বাভাবিক জীবনযাপনের স্বীকার হয়। মাদকাসক্তিও এর প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবস্থা করতে তরুণ-তরুণীরা বিপথগামী হচ্ছে। অনেক যুবতী ও নারীরা পতিতাবৃত্তি পেশায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলে ফলে জন্ম হয় সামাজিকভাবে পঙ্গু সন্তানোর।

#আধ্যাত্মিক_ক্ষতি :
ড্রাগ বা মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজের পরিবারের সৃষ্টি ও স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে। সকল সৎ গুণ, ক্ষমা, ধৈর্য, বিনয়, সহনশীলতা ইত্যাদি মূল্যবোধ বিলুপ্তির ফলে সে মানসিক ও আত্মিক শূন্যতায় ভুগতে থাকে। ফলে সবদিক থেকে সে দেউলিয়া হয়ে পড়ে।মাদকদ্রব্যের এই নেশা সম্পর্কে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) বলেছেন- ‘নেশা জাতীয় যে কোনো দ্রব্যই মদ, আর যাবতীয় মদই হারাম।’ সকল প্রকার নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম হওয়া সত্ত্বেও এসব দ্রব্যসামগ্রীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে- ‘মাদকাসক্তি হচ্ছে চিকিৎসা গ্রহণযোগ্য নয় এমন দ্রব্য অতিরিক্ত পরিমাণে ক্রমাগত বিক্ষিপ্তভাবে গ্রহণ করা এবং এসব দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।’ ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করছে। যার ফলে যুব সমাজের বিরাট একটা অংশ অবচেতন ও অকর্মণ্য হয়ে পরছে।

সভ্যতার এই আধুনিক যুগে মাদকাসক্তি কালসাপ রূপ ধারণ করেছে। এর ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে অজস্ত্র তরুণ-তরুণীর সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। এর প্রভাব আমাদের সমাজে তথা গোটা বাংলাদেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করলে মাদকের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে আমাদের দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। তাই মাদক প্রতিরোধের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সামাজিক প্রতিরোধ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা উচিত।

আসুন সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টায়…..

মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি…..
শিক্ষা সমৃদ্ধ টেকনাফ গড়ি……

মোহাম্মদ সেলিম নেওয়াজ
শিক্ষার্থী
টেকনাফ সরকারি কলেজ