টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বিদেশ থেকে এসে আটক ও বন্দুকযুদ্ধে ‘ইয়াবা ডন’ সাইফুল করিম নিহত হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার ইয়াবা সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষকরা আতঙ্কে রয়েছে। সাইফুল পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া অনেকের নামই ফাঁস করে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তার ইয়াবা কারবারে ছায়া হয়ে থাকা এসব ব্যক্তির মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও কিছু সাংবাদিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছর দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দেন সাইফুল করিম। দেশে-বিদেশে আত্মগোপনে থেকে প্রায় ৯ মাস পর দেশে ফিরেন। এরপরই তাকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুলিশ আটক করে। সেখানেই তার ইয়াবা সাম্রাজ্য বিস্তার নিয়ে কথা বলেন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে। সাইফুল করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ দল কক্সবাজার যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানান, ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে পড়ালেখা করার সময় তিনি ইয়াবা কারবার শুরু করেন। টেকনাফ থেকে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃতি চট্টগ্রাম পর্যন্ত বাড়ান। এখানে ঘাটে ঘাটে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতেন। বিনিময়ে তার ‘নিরাপত্তা গার্ড’ হিসেবে কাজ করতেন সুবিধাভোগী প্রভাবশালী চক্র।
দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের পর প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি টেকনাফ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। সেখানে লোক দেখানোর জন্য নানা পণ্য আমদানিও করতেন। সরকারকে দিয়েছেন বিপুল পরিমাণ রাজস্বও। এভাবে তিনি নিজের নামের সঙ্গে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) তকমা লাগান। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০০ সালের পর তাকে ছায়ার মতো সহযোগিতা দিয়েছেন সাবেক এক এমপি। জনশ্রুতি রয়েছে সেই এমপি তার পার্টনারও। ২০০৮ সালের পর সাইফুল চট্টগ্রামে আবাস গাড়েন। সেখান থেকেই স্থল, নদী ও আকাশ পথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিয়েছেন অনায়াসে। এ কাজে সাবেক এমপিসহ ঘাটে ঘাটে থাকা ‘সেইফগার্ডরা’ সহযোগিতা দিয়ে এসেছেন বলে প্রচার রয়েছে। তিনি কোনো মামলায় সরাসরি অভিযুক্ত হননি। মিডিয়া সাপোর্টের জন্য দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমকর্মীদের নানা ভাবে উপঢৌকন পৌঁছে দিয়েছেন সাইফুল করিম।
এদিকে মাদক কারবারি ও গডফাদারদের তালিকা করা শুরু করলে মিয়ানমারের ৩৭ ইয়াবা কারখানার বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে নাম উঠে আসে সাইফুল করিমের। একদিকে সিআইপি, অন্য দিকে ইয়াবা গডফাদার দুই পরিচয় নিয়ে বিপাকে পড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেছেন, আইন আইনের পথে হাঁটছে। যাদের কারণে ইয়াবা দেশময় ছড়িয়েছে তাদের সবাইকে ক্রমান্বয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।
