মুফতি আতাউর রহমান : আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস হলো—পৃথিবীতে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। এমনকি স্বপ্নযোগেও আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘দৃষ্টি তাঁকে অবধারণ করতে পারে না, কিন্তু তিনি অবধারণ করেন সব দৃষ্টি। তিনিই সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।
’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১০৩)
পার্থিব জীবনে আল্লাহ সৃষ্টিজগতের অন্তরালে রয়েছেন। ফলে কোনো মানুষের পক্ষে তাঁকে সরাসরি দেখা বা কথা বলা সম্ভব নয়। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে আল্লাহ তার সঙ্গে কথা বলবেন ওহির মাধ্যমে ছাড়া, অথবা পর্দার অন্তরাল ছাড়া, বা এমন দূত প্রেরণ ছাড়া—সে দূত তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়। ’ (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ৫১)
শুধু ইহকালে নয়, পরকালেও একদল মানুষ আল্লাহর সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত থাকবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘না, অবশ্যই সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক থেকে অন্তরিত থাকবে। ’ (সুরা: মুতাফফিফিন, আয়াত : ১৫)
ইমাম মালেক (রহ.) উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘যখন আল্লাহ তাঁর অবাধ্যদের থেকে অন্তরিত হবেন তারা আল্লাহর সাক্ষাৎ পাবে না, তখন আল্লাহ তাঁর ওলিদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন, ফলে তারা তাঁকে দেখতে পাবে। ’ আর ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, ‘উল্লিখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় আল্লাহর বান্দারা আল্লাহকে নিজ চোখে দেখবে। ’ (তাফসিরে বাগাবি : ৫/২২৫)
আল্লাহ বান্দার অতি সন্নিকটে থাকার পরও তিনি কেন বান্দার অন্তরালে থাকেন? উত্তর হলো, বান্দা আল্লাহর নুরের জ্যোতি সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না, শুধু মানুষ নয়; বরং কোনো সৃষ্টিই তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না। এ জন্য মুসা (আ.) যখন আল্লাহর কাছে তাঁর সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করেন, তখন আল্লাহ বলেন, ‘তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না। তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি লক্ষ করো, তা স্বস্থানে স্থির থাকলে তবে তুমি আমাকে দেখবে। যখন তাঁর প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করল এবং মুসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ল। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৪৩)
কোন জিনিস আল্লাহকে সৃষ্টিজগৎ থেকে অন্তরাল করে রেখেছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহর পর্দা হলো তাঁর নুর বা জ্যোতি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৯)
আল-মাউসুয়াতুল আকাদিয়া
