আলীকদমে মাদক স¤্রাট-অস্ত্রবাজ জলিল আতংকে ভোগছেন এক গ্রামের মানুষ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

সংবাদদাতা :
আলীকদমে এক মাদক স¤্রাট আবদুল জলিরের আতংকে ভোগছেন শতাধিক গ্রামবাসী। প্রতিদিন রাতে বহিরাগতদের নিয়ে ইয়াবা সেবনের আড্ডা বসে গ্রামের আতংক এই মাদক স¤্রাটের বাসায়। বছরখানেক আগে দফায় দফায় পুলিশ ওই এলাকা থেকে বড় দু’টি ইয়াবার চালান উদ্ধার করেছিল। ওই চালান দু’টির সাথে জলিলের সম্পৃক্ততা ছিল, কিন্ত রহস্য জনক কারণে আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যায় সে। সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর সেনা-পুলিশ যৌথাভিযান করে ইয়াবাসহ দেশীয় বন্দুকের কার্তুজ উদ্ধার করে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়। নেশা অস্ত্র বাজী ছাড়াও আপন বড় ভাইকে খুন করার পেছনেও তার হাত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
অনুন্ধানে জানাযায়, আবদুল জলিল পিতা মৃত শাহ আলম, উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর উপর নানা ধরণের জুলুম চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে থানা-আদালত ও গ্রাম আদালতে ৩০টিরমতো মামলা রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে গ্রাম্য আদালত বা থানার আনুকূল্যতা পেয়ে যায় সে। আবদুল জলিল তার গর্ভধারিনী মাকে হত্যার চেষ্ঠা চালায় বলে জানা গেছে। আপন ছোট ভাইকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে। গ্রামবাসীরা জানায়, বিগত প্রায় দু’দশক আগে তার আপন ভাইকে খুন করিয়েছে আবদুল জলিল। প্রতিবেশিদের ভুমি জবর দখল, মারধাঙ্গা, এলকায় নেশা বিস্তার ও অস্ত্রবাজী করেও সে ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায় বলে জানান তার আপন ভ্রাতাসহ শতাধিক গ্রামবাসী।

সম্প্রতি স্থানীয়রা এক লিখিত অভিযোগে এলাকার ত্রাস, অস্ত্র, মাদক ব্যবসায়ি, ভুমিদস্যু, সমাজদ্রোহী, উপজাতি সন্ত্রাসীদের সাথে আতাঁতকারী, আপন ভ্রাতার খুনী আবদুল জলিলের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার জন্য তার বিভিন্ন অপকর্মের খতিয়ান-বিবরণী উত্থাপন করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন।

আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়, আবদুল জলিল এলাকায় একজন ত্রাস সৃষ্টিকারী ভুমি দস্যু, খুনী, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে গ্রাম আদালত, থানা ও আদালতে মামলা মোকাদ্দমা করেও তার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। তার সাথে পাহ্ড়াী সন্ত্রাসীদের গোপন যোগ সাজশ থাকায়; মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা করে কলো টাকার মালিক হওয়ায়; সে বিভিন্ন প্রভাবশালী লোকদেরকে ম্যানেজ করে তার সকল অপকর্মের ঘটনা ধামা-চাপা দিয়ে রাখে। এর ফলে সে দিনের পর দিন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলছে। তার বিরুদ্ধে সমাজের কেউ টু শব্দও করতে সাহস করেন না। বর্তমানে সে সমাজচ্যুত একজন মানুষ। সে তার স্ত্রীদেরকে দিয়ে এলাকায় ইয়াবা সেবনের আস্তানা গড়েছে। তার বাড়িতে প্রতিদিন রাতে বহিরাগত বহু মানুষ আনাগোনা করে- নেশা পান ও অস্ত্র বেচা-বিক্রি সংক্রান্ত বৈঠক হয় বলেও আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়।
১০ সেপ্টেম্বর সকালে যৌথবাহিনী অভিযান করে তার ছোট স্ত্রীর হামিদা বেগমের বাসা থেকে ১১২ পিস ইয়াবা বড়ি ও ৬ টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় তারা স্বামী স্ত্রী দুজনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় তার স্ত্রী হামিদা বেগমকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন পুলিশ। এই ঘটনার পর বহু মামলার আসামী আবদুল জলিল পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে সে রাতের বেলা এলাকায় এসে সমাজের লোকদেরকে প্রাণ নাশসহ নানান কায়দায় হয়রানী করার হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানায় তার সকল অপকর্ম ঢাকতে বর্তমানে সে বিভিন্ন পর্যায়ে লভিষ্ট ঠিক করে রেখেছে। গোয়েন্দা নজরদারী রাখা হলে তার ভয়ংকর কর্মকান্ডের সত্যতা মিলবে বলেও দাবী করেন এলাকাবাসী।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, আবদুল জলিল বিগত আনুমানিক দু’দশক পূর্বে তার আপন বড় ভাইকে সম্পত্তির লোভে হত্যা করিয়েছে। ওই হত্যা মামলায় তার আপন বাগিনাকে জড়িয়ে দিয়ে সে পার পেয়ে যায়। তার ছোট ভাই অলি মিয়ার সম্পত্তিও সে গ্রাস করে নিয়েছে। এর ফলে অলিমিয়া এখন ভুমিহীন অবস্থায় দিন মুজরী করে কষ্টে দিনাতিপাত করছে। গর্ভধারিনী মাকেও জলিল প্রাণ নাশের চেষ্টা করেন। সে সরকারের ২২ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত জি এফ এস-এর পাইপ লাইন তুলে নিয়ে পানি সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়ে এলাকার জনগনকে পানির কষ্টে রেখেছে। এসব পাইপ স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রয় করে দিয়েছে। বর্তমানে তার ঘর তল্লাসি করা হলে ওইসব পাইপ এর কিছু অংশ পাওয়া যাবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এব্যাপারে স্থানীয়রা ইউপিতে বিচার দিয়েও কোন সুরাহা পাইনি। তার বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী কর্তৃক ব্যবস্থা না নিলে গ্রামবাসীরা শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে পারবোনা বলে আশংকা করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরে আনা প্রয়োজন।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল্লাহ জানান, উক্ত জলিলকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।