আমার চাওয়ার চেয়ে পাওয়া বেশী-তিশা

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। এনটিভিতে প্রতি সপ্তাহের রবি থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রচার হচ্ছে তার অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘মা বাবা ভাই বোন’। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জাহিদ ভূঁইয়া

‘মা বাবা ভাই বোন’ ধারাবাহিকের ১২৫ পর্ব ইতোমধ্যে প্রচার হয়েছে। নাটকটি নিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
এককথায় চমৎকার। এখন পর্যন্ত যারাই নাটকটি দেখেছেন, সবাই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ আলাদা করে আমার অভিনীত চরিত্রটিরও প্রশংসা করেছেন। আরেকটি বিষয় হলো- দর্শক ‘মা বাবা ভাই বোন’-এর গল্প, নির্মাণশৈলী পছন্দ করেছেন বলেই কিন্তু নাটকের এতগুলো পর্ব নির্মাণ হয়েছে।
পর্দায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসের চরিত্র তুলে ধরার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বড় মাপের কথাসাহিত্যিকের গল্প-উপন্যাসের চরিত্রে অভিনয় অন্যরকম আনন্দের। একই সঙ্গে আমার ক্যারিয়ারের বড় প্রাপ্তিও। সংসারের নানান টানাপড়েন, হাসি-আনন্দ আর দ্বন্দ্ব এই ধারাবাহিকের মূল উপজীব্য। মূল উপন্যাসের পটভূমি ঠিক রেখে সময় ও চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে কিছুটা রূপান্তর করা হয়েছে। নির্মাতা হাসান রেজাউলের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। এ কারণে শুটিংয়ে বেশ সহযোগিতা পেয়েছি। নাটকের সহশিল্পীরাও চমৎকার।

জাপানি নামের চরিত্রে অভিনয় করছেন, নামটা শুনে আপনার কাছে অদ্ভুত মনে হয়নি?

শুরুতে একটু অদ্ভুত লেগেছে। তবে যখন নাটকের কাহিনি পড়েছি, তখন বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হয়েছে। গল্পে দেখানো হয়েছে- আমাকে সবাই বোঁচা নাকের জন্য জাপানি বলে ডাকে। এই নাম এসেছে স্কুলের বন্ধুদের কাছ থেকে। তারা সব সময় আমাকে জাপানি বলে খ্যাপাতো। সেই থেকে অন্যরাও এই নামে ডাকা শুরু করে দিয়েছে। বাস্তবেও কিন্তু আমরা এমন ঘটনা দেখতে পাই। তাই দর্শকের কাছে এ নাটকের চরিত্র ও অদ্ভুত নামের বিষয়টি অবাস্তব মনে হয়নি।

নাটকের পাশাপাশি ওয়েব কনটেন্টেও কাজ করছেন। কোনো পার্থক্য আছে কি?

কিছুটা তো আছেই। আমার কাছে মনে হয়, ওয়েবের কাজ একটু যত্ন করে বানানো হয়। কারণ বাজেট ভালো থাকে। গল্প বলার স্টাইলটাও তুলনামূলক ভিন্ন। টেলিভিশন নাটকে অনেক ধরনের গল্প দেখানো যায়ও না, ওয়েবে চাইলে হয়তো দেখাতে পারি, তবে সেটা অবশ্যই গল্পের প্রয়োজনে।

সিনেমায় কবে দেখা মিলবে?

বর্তমানে দেশের সিনেমায় যে বাঁকবদল চোখে পড়ছে, তা দেখে বড়পর্দায় কাজের আগ্রহ বাড়ছে নিজের মধ্যে। আর আমি যেহেতু নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাই নায়িকা নয়, ভালো গল্প হলে যে কোনো চরিত্রে অভিনয়ে রাজি আছি। তাই বলা যেতে পারে, ব্যাটে-বলে মিলে গেলে যে কোনো সময়ই সিনেমায় দেখে ফেলতে পারেন।

মা হিসেবে তাসনুভা তিশা কেমন?

বাচ্চাদের সঙ্গে আমার বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ওরা আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমার মেয়ে আমাকে আমার মায়ের মতো টেককেয়ার করে। আমার যে কোনো কথা সুন্দরমতো শোনে। তাদের যে সবসময় শাসন করি এমন না, তবে এমনিতেই তারা আমাকে ভয় পায়।

কাজের ব্যস্ততায় সন্তানদের সময় দেন কীভাবে?

কাজের বাইরে পুরোটা সময় আমি বাসায় থাকি। যতটুকু সময় পাই, সেটা বাচ্চাদের দেওয়ার চেষ্টা করি।

ক্যারিয়ারে কোনো অপ্রাপ্তি আছে?

আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। আমি অনেক ভালো আছি। ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমি যা চেয়েছি, তার চেয়ে বেশি পেয়েছি।

এখন পর্যন্ত বড় পাওয়া কী?

সবাই আমাকে ভালোবাসে। বাইরে বের হলে দর্শক বলেন, আমার অভিনয় ভালো হয়। তারা আমার ভক্ত। অনেকে বলেন, ‘আপু, আপনার হাসির মতোই আপনি কিউট। আরও বেশি কাজ চাই।’ দর্শকের এসব ভালোবাসাকে আমি প্রাপ্তি মনে করি।