আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে ; প্রকৃত রহস্য বের করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি-সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ২ years ago

সাদ্দাম হোসাইন : টেকনাফ উপজেলাস্থ হ্নীলার কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত রফিকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর স্বার্থান্বেষী বিশেষ মহলের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে ডাকাত রফিকের মা, স্ত্রী ও বাবাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে নৃশংস এই খুনের ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনীদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দক্ষ ও প্রযুক্তি বিশারদদের সহায়তা কামনা করেছে।

১৭ জানুয়ারী বিকাল ৩টায় উপজেলার হ্নীলা উলুচামরী কোনার পাড়া মরহুম হাজী রুহুল আমিনের বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আলীখালীর প্রবীণ মুরুব্বী হাজী রশিদ মিয়া, ডাকাত রফিক গংয়ের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া জাফর আলমের মা-বাবা,ভাই ও চাচাসহ ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের হাজী রুহুল আমিনের পুত্র আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে লেড়াইয়া জানান,আমি লবণ মাঠে কর্মরত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মারফতে জানতে পারলাম গত ১৬জানুয়ারী বিকালে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গণি মহোদয়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হ্নীলা আলীখালী ২৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পশ্চিমে গভীর পাহাড় হতে রোহিঙ্গা ইউছুপ আলীর পুত্র,স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের সক্রিয় সদস্য ডাকাত রফিকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক শত্রæমহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রস্বরূপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের পেইজে প্রকৃত অপরাধীদের বাদ দিয়ে আমরা তিন মেরুর ৩জনের সমন্বয়ে ডাকাত রফিককে গুলিবর্ষণ করে খুন করেছি বলে অপপ্রচার করে। যা খুবই দুঃখজনক। অথচ পুরো হ্নীলা ইউনিয়নের সচেতনমহলসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিশ্বস্থ সুত্র এই ডাকাত রফিক কাদের সাথে মিশে নানা ধরনের অপরাধ করে খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবন-যাপন দুর্বিষহ করে তুলেছে তা সবাই অবগত। আমি একজন মুসলিম হিসেবে মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্বাক্ষী রেখে বুকে হাত দিয়ে বলছি খুন হওয়া ডাকাত রফিকের সাথে আমার কোন সময় যোগাযোগ ছিলনা। সে খুন হওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। অথচ আমার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষের প্রলোভনে পড়ে খুন হওয়া রফিকের মা, বাবা ও স্ত্রীকে শিখিয়ে দেওয়া বুলির মাধ্যমে আমাকে এই হত্যাকান্ডে ফাঁসানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি। আমি চাই কোন ধরনের খুনি যেন অপরাধ করে পার পেয়ে না যায়।

চলার পথে মানুষের সাথে মানুষের ঝগড়া-ঝাটি, কথা কাটাকাটি হয় আবার মিলে মিশে সমাজে বসবাস করি। আপনারা সবাই জানেন হ্নীলা রঙ্গিখালীতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তায় নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত দুই গ্রুপ বিবাদমান রয়েছে। সময় সুযোগে-হামলা আর পাল্টা হামলায় অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। অনেকে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে পেশাদারী অপরাধে জড়িতে পুরো জনপদকে আতংকিত করে তুলেছে। আমি হ্নীলা ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি গুরা মিয়ার মেয়ে জামাই হওয়ার কারণে আমাকে গিয়াস বাহিনীর সদস্য আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় সংবাদ মাধ্যমে আমার নাম জড়িয়ে পেশাদার অপরাধী বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এখন আমি প্রকৃত পক্ষে লবণ মাঠ ও কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি।

আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে,আমার বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ পেলে দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া এই কুখ্যাত ডাকাত রফিকের প্রকৃত খুনী কারা তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। ###