কক্সবাজারে একই স্থানে বিএনপি – যুবলীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

কক্সবাজার প্রতিনিধি, ০২ জানুয়ারি।

কক্সবাজার শহরে একই জায়গায় বিএনপি ও যুবলীগের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করেছে। আগামীকাল সোমবার ভোর থেকে মংগলবার সকাল পর্যন্ত কক্সবাজার শহরে অবস্থিত বিএনপি অফিস সংলগ্ন শহীদ স্বরনী সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী করা হয়। আজ রবিবার সন্ধ্যায় ১৪৪ ধারা জারীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো আবু সুফিয়ান।

পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কারণে আইনশৃংখলা পরিস্থতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারী করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কক্সবাজার শহীদ স্বরনী সড়কে আগামীকাল সোমবার দুপুর ১টায় এই সমাবেশ ডেকেছিল কক্সবাজার জেলা বিএনপি।

পরে একই জায়গায় কক্সবাজার জেলা যুবলীগ পাল্টা সমাবেশের ডাক দেয়।

তবে জেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল দাবী করেছেন, শহীদ মিনারে যুবলীগের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ ছিল পরে বিএনপি তাদের অফিসের সামনে সমাবেশের ঘোষনা দেয়। বিএনপির সমাবেশ করার কথা ছিল বাহারছড়া মাঠে।

বিএনপির সমাবেশে অংশ নিতে ইতোমধ্যে কক্সবাজারে কেন্দ্রীয় নেতারা পৌছেছেন বলে কক্সবাজার জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এড. শামীম আরা স্বপ্না জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে রবিবার বিকেল ৫টায় জেলা বিএনপির কার্যালয় এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে মঞ্চ তৈরীর কাজ করছেন শতাধিক শ্রমিক। জড়ো হওয়া বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীর মাঝেও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। জেলা বিএনপির কার্যালয়, শহীদ মিনার এলাকায় ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। জেলার নয় উপজেলা থেকে অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী এতে অংশগ্রহণ করবেন বলে নেতারা দাবি করছেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে সোমবারের সমাবেশকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। সকলকে অবহিত করেছি। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রশাসন, আওয়ামী লীগসহ সকলের সহযোগিতা করবে সেটাই প্রত্যাশা করছি।

প্রশাসনের কাছ থেকে কোন ধরনের বাঁধা পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে লুৎফর রহমান কাজল বলেন, আমরা সমাবেশের জন্য পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ, ঈদগাহ ময়দান, মুক্তিযোদ্ধা মাঠের অনুমতি চেয়েছিলাম। আমাদের সেখানে অনুমতি দেয়নি। সমাবেশে হাজার হাজার জনতা সমবেত হবেন। তারপরও আমি আশা করছি সকলের সহযোগিতা পাব।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।