টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি |
আদনানকে বাসায় ডেকে শাসিয়েছিলেন বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল তা সঠিক নই বলে দাবি করেছেন পতেঙ্গা সৈকতে উদ্ধার হওয়া নিহত তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১ মে প্রথম আদনানকে দেখেন তিনি।
চট্টগ্রাম সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসপিয়া আমিন হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মাসখানেক আগে আদনানকে বাসায় ডেকে শাসিয়েছিলেন বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তাসফিয়ার পিতা মোহাম্মদ আমিন।
রোববার টেকনাফ ডেইলপাড়া এলাকায় মোহাম্মদ আমিনদের পৈত্রিক বাড়িতে তাসফিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা হয় যুগান্তর প্রতিবেদকের সঙ্গে।
তিনি জানান, অনেকে মনে করছেন আদনানকে তিনি বাসায় ডেকে শাসিয়েছেন এ কারণে সে প্রতিশোধ নিতে তাসফিয়াকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। বাস্তব ঘটনা হলো তিনি আদনানকে কখনো বাসায় ডেকে আনেননি। শাসানো তো দূরের কথা।
মোহাম্মদ আমিন জানান, আদনানকে ঘটনার দিন অর্থাৎ ১ মে তিনি প্রথম দেখেন। সময় তাসফিয়াকে যখন পাওয়া যাচ্ছিল না তখন তার স্কুলের এক বান্ধবীর কাছ থেকে সোহেলের নাম্বার সংগ্রহ করা হয়। পরে সোহেলের মাধ্যমে আদনানকে ডেকে আনেন।
আদনান তখন জানায়, চায়না গ্রিল হোটেলে গিয়েছিল সে তাসফিয়াকে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে সিএনজিতে তুলে দেয়। তাসফিয়ার পিতার প্রশ্ন গোলপাহাড়র সেই চায়না গ্রিল হোটেল থেকে বাসার দূরত্ব মাত্র দেড়শ গজের মতো তাহলে তাকে সিএনজিতে কেন তোলা হলো। এছাড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে সিএনজিতে উঠার সময় চালকের সঙ্গে কোনো কথায় বলেনি তাসফিয়া।
এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আদনান আগে থেকেই সিএনজিটি ঠিক করে রেখেছিল এবং তাসফিয়াকে বলেছিল তাতে ওঠার জন্য। এ থেকেই তিনি বদ্ধমূল ধারণা করছেন আদনানই তার গ্যাংয়ের বড় ভাইদের সাহায্যে তাসফিয়াকে হত্যা করেছে।
এছাড়া তাসফিয়ার পরনে থাকা রেস্টুরেন্টের পোশাক আর হত্যাকাণ্ডের পর গায়ে থাকা পোশাক একই বলে জানান মোহাম্মদ আমিন।
তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডের পর বর্তমানে মোহাম্মদ আমিন সপরিবারে টেকনাফের নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তার চার ছেলে মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে তাসফিয়া। বাকি তিন সন্তানের মধ্যে দুইজন সানশাইন স্কুলেই পড়তো। এখন তাদের পড়ালেখা ও ভবিষ্যত নিয়েও তিনি চিন্তিত।
তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, যে পিতা সন্তান হারিয়েছে একমাত্র সেই বুঝবে সন্তান হারানোর কষ্ট। আমি আমার মেয়ে তাসফিয়াকে আর ফিরে পাব না- এটাই বাস্তবতা কিন্তু তাসফিয়ার মতো আর কোনো অবুঝ শিশু যাতে এ ধরনের নির্মমতার শিকার না হয় তার জন্য আমি আমার মেয়ের হত্যার ন্যায় বিচার প্রার্থনা করি রাষ্ট্রের কাছে।
এদিকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, মামলার তদন্ত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে আদনানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পুলিশ যাচাই করে দেখছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ১ মে চট্টগ্রাম সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী টেকনাফের বাসিন্দা তাসফিয়া আমিন বন্ধু আদনানের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন পতেঙ্গা এলাকায় সৈতক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন তাসপিয়ার পিতা মোহাম্মদ আমিন। সেই মামলার প্রধান আসামি আদনান মির্জাকে ঘটনার পরদিনই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সূত্র : যুগান্তর
