ধারাবাহিক: পর্ব-২
খাঁন মাহমুদ, আইউব (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
জীবন জীবিকার তাড়নায় মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমায় উলটো শহর ছেড়ে গ্রামে এসে বাবার আশির্বাদে ঘুরে গেলো ভাগ্য চাকা। দৈনিক ৫শ টাকা বেতনে আলোচিত শীর্ষ ইয়াবা ডন শফিকের গাড়ি চালিয়ে কোটিপতি বনেগেলেন মকসুদ উরফে নোয়াখাইল্যা গুটি বাবুইয়া নামক এক (কক্সবাজার-টেকনাফ) সড়কের স্পেশাল সার্ভিসের মিনিবাস চালক। সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকা ভূক্ত মাদক কারবারী টেকনাফের ইয়াবা মানব গফুরের পুত্র শফিকের পারিবারিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী।জেলার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বেনামে বেশ কয়েকটি জমি ও ব্যাংক হিসাব রয়েছে এমটি তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।তার এসব কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছেন।
কে এই মকছুদ উরফে গুটি বাবুইয়া!
মকসুদ উরফে বাবু বিগত সময়ে নোয়াখালী এলাকা থেকে চট্টগ্রাম হালিশহর (এ-ব্লক) এলাকায় এসে তার পরিবারের সাথে বসবাস করে।বিগত ২০১৪ সালের দিকে অভাব অনটনে পরিবারের হাল ধরতে কক্সবাজার এসে মাবুদ কোম্পানী নামক এক বাস মালিকের মিনিবাস চালক হিসেবে চাকুরী শুরু করে।সেই সুযোগে কক্সবাজার পাহাড়তলী এলাকার রশীদের মেয়েকে বিয়ে করে ঘর জামাই হয়ে বর্তমানে শাশুড় বাড়িতে রয়েছে।
যে পথে ঘুরে গেলো ভাগ্য চাকা!
তার স্বীকারোক্তি মতে, মাবুদ কোম্পানীর গাড়ী চালানোর সূত্রধরে পরিচয় হয় দূর্ধর্ষ ইয়াবা মানব শফিকে সিন্ডিকেটের সদস্য টেকনাফ মিনিট্রাক ও পিক-আপ শ্রমিক নেতা নূর উদ্দীন ড্রাইভারের সাথে।তার হাত ধরে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে শফিকের মালিকানাধীন (১১-১৬৩৯) নাম্বারের কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে মিনিবাসের চালক হিসেবে নিয়োগ পায়।কয়েক মাসের গোড়ায় নূরুদ্দীন ড্রাইভার টেকনাফ ডেইল পাড়া এলাকার গফুরের পুত্র শফিক ও তার সহোদর মনির’র পারিবারিক সিন্ডিকেটের মাদক চালান সহ দু’বছর পূর্বে চট্টগ্রামে আটক হলে এই সিন্ডিকেটের মাদক পাচারের আলাদিনের চেরাগটি গুটি বাবুইয়ার নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।সূত্র জানিয়েছে,বিগত বছর দু’য়েক আগে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ইয়াবা সহ আটক হয়ে পরবর্তিতে জামিনে এসে আবার পাচার কাজে জড়িয়ে পড়ে ।শফিকের মালিকানাধীন (১১-১৬৩৮) নাম্বারের আরো একটি মিনিবাস রয়েছে।উক্ত বাসটির চালক শফিকের নিকট আত্মীয় সাদ্দাম হোসেন বলে জানা গেছে।তিনিও একই ভাবে গুটি বাবুইয়ার তত্বাবধানে চক্রটির মাদক চালান টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পাচার কাজে জড়িত।যদিও মালিক সমিতিতে গাড়ী দুটি কৌশলে শফিকের পিতা তালিকা ভূক্ত ইয়াবা কারবারী গফুরকে মালিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।এসব গাড়ীতে করে টেকনাফ থেকে মাদকের চালান কক্সবাজার এনে পাহাড়তলী গুটি বাবুইয়ার শাশুর বাড়িতে মজুদ রাখে।সেই সব মাদক সুযোগ বুঝে কক্সবাজার হয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রাইভেট গাড়ীতে বা শফিকের মালিকানাধীন ট্রাকে কখনো বিমান যোগে শফিকের ইয়াবা পার্টনার ঢাকা মাদকের অখড়া (জেনেবা ক্যাম্পের) মাদক কারবারী সাদ্দাম ও বিহারী ইসতিয়াক নামক ব্যক্তির নিকট নিজ দায়িত্বে চালান করে বলে জানা গেছে।সূত্রটি আরো জানিয়েছে,শফিকের মাদক ব্যবসা বাবদ চালান প্রতি ১০/১৫ লক্ষ টাকা এসএ পরিবহনের মাধ্যমে গুটি বাবুইয়ার নামেই লেনদেন হতো। আবার সেই মাদকের টাকা উত্তোলন করে যাত্রীবাহী বাস নিয়ে টেকনাফ ফেরার পর শফিকের হাতে পৌছে দেয়।এভাবে মাত্র তিন বছরের মাথায় ঘুরে যায় তার ভাগ্য চাকা।
জিরো থেকে হিরো!
সূত্র মতে,উখিয়া উপজেলার খুনিয়া পালং,কক্সবাজার পাহাড়তলী শাশুর বাড়ি সংলগ্ন ও তার আদি বাসস্থান নোয়াখালী অঞ্চলে নামে-বেনামে রয়েছে কয়েকটি জমি সহ বাড়ি ঘর।তার এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট।
রয়েছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী!
টেকনাফ ডেইল পাড়া ও পাহাড়তলী এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করে মাদক ব্যবসা নির্ভিগ্ন করতে ইয়াবা মানব শফিকের মাদকের টাকায় রোহিঙ্গা টুকাই,চিনতাই কারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী।ফলে ভয়ংকর এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করেনা।বিগত সময়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়ে স্থানীয় এসব সাংবাদিকের হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলো।এসব সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রতিপক্ষের ইয়াবার চালান ডাকাতি করে ভাগ ভাটোয়ারার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।এদিকে গত আগষ্টে “মাফিয়া কায়দায় ঘুরছে ইয়াবা মানব শফিক” শিরুনামে ১ম কিস্তি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শফিকের বাড়িতে পুলিশ হানাদিয়ে তার স্ত্রীকে ইয়াবা সহ আটক করে।সে বর্তমান কারাঅভ্যান্তরীন রয়েছে।এই ঘটনার পরবর্তি মুটোফোনে প্রতিবেদক কে প্রান নাশের হুমকি দিয়েছিলো।
মাকছুদ উরফে গুটি বাবুইয়ার কাছে মুটোফোনে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে,শুরুতেই নিজেকে একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের সন্তান পরিচয় দিয়ে বলেন,আরো কয়েক ব্যক্তি ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয়ে ফোনে এসব তথ্য জানতে চাওয়াতে ভয়ে পালিয়ে এসে চট্টগ্রাম অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।তিনি গাড়ী চালিয়েছেন কিন্তু তিন বছর পর্যন্ত তার মালিক সম্পর্কে অবিশ্বাস্য ভাবে পরিচয় জানেন না এবং অদ্যাবধি তার চেহারা দেখেননি।বিস্তারিত জানতে চাইলে কক্সবাজার এসপি অফিসে বসে উত্তর দেবেন বলে সংযোগ কেটে দেন।পরবর্তিতে ফোনে এই সংবাদ প্রকাশ করলে প্রতিবেদককে প্রানে মেরেফেলার হুমকি দিয়েছেন ইয়াবা মানব শফিক ও তার অন্যতম সহযোগী গুটি বাবুইয়া।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ রয়েছে তাই কোন ছাড় দেয়া হচ্ছেনা।তবে কিছু ব্যক্তি নিরবে মাদক ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে রূপান্তর হলেও পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য প্রমান না থাকার কারনে এরা পারপেয়ে যাচ্ছে।উক্ত ব্যক্তির ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হবে মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমান পাওয়া গেলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় অনতে পুলিশ কাজ করে যাবে।তিনি আরো বলেন,এই ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করলে এলাকায় কোন মাদক ব্যবসায়ী ঠিকে থাকতে পারেনা তাই সমাজের সর্বস্তরের জন সাধারনের সহযোগীতা কামনা করেন।
এদিকে ড্রাইভার মুখোশধারী মাদক ব্যবসায়ী গুটি বাবুইয়াকে আইনের আওতায় আনা গেলেই সিন্ডিকেট ডন শফিকের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।প্রতিবেদক কে হুমকির বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি (বিসিআরএস) কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হাসান সহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট এই ভয়ংকর মাদক সিন্ডিকেট সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতারের আহবান জানিয়েছেন।অন্যতায় সংঘটনের পক্ষথেকে কেন্দ্রীয় ভাবে কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
সূত্র : বার্তা বাজার
