আজ সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী ; পারিবারিক ও দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : আজ (১৩ নভেম্বর) কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা,উখিয়া-টেকনাফের রাজনৈতিক নক্ষত্র সাবেক সাংসদ এবং টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ¦ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। এই ব্যাপারে পারিবারিক ও হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

১৩নভেম্বর (২০২১ইং) প্রয়াত এই নেতার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকালে উপজেলার হ্নীলা ফুলের ডেইলে মরহুমের বাস ভবনে পারিবারিকভাবে খতমে কোরআন, দোয়া ও এতিমদের জন্য খাবার বিতরণের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। অপরদিকে হ্নীলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সংযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে হ্নীলা দরগাহস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে সকাল ১০টায় খতমে কোরআন, বিকাল ২টায় মরহুমের কবর জিয়ারত, বিকাল ৩টায় মরহুমের জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ২০২০ইং সালের ১৩নভেম্বর ভোররাত ৩টা ৫৫মিনিটের দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ফুলের ডেইলের মরহুম হাজী আমির হোছনের পুত্র,উখিয়া টেকনাফের সাবেক সাংসদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বর্তমান টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী (৭৩) নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ছেলে,১মেয়ে, নাত-নাতিনী, আতœীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শুভাকাংখী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

ঐ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে তিনি ব্যথা ও ডায়াবেটিসজনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকা এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। হঠাৎ ভোররাতে অসুস্থবোধ করে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য তিনি ১৯৪৭ সালের পহেলা এপ্রিল উপজেলার হ্নীলা ফুলের ডেইল গ্রামে মরহুম আমির হোসেন ও মরহুমা সুফিয়া খাতুন দম্পতির সংসারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাঁটি হাঁটি পা-পা করে হ্নীলা প্রাইমারী, চকরিয়া হাইস্কুল এবং চট্টগ্রাম কলেজের গন্ডি পেরিয়ে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় হতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে এম.এ পাশ করেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় আওয়ামী আদর্শের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুললে পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের রোষানলে পড়েন। পাকবাহিনী তাঁকে প্রাণে মারার জন্য ষড়যন্ত্র করলে তিনি কিছুদিনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে আশ্রয় নেয়। এরপর পাকবাহিনী ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী মনে করে হ্নীলা ফুলের ডেইলের মৃত ছমি উদ্দিনের ছেলে ডাঃ মোহাম্মদ আলীকে ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অনেক ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাঁই করে দেন। তিনি ওপারে ক্ষণিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

এরপর তিনি কক্সবাজার সরকারী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের পর দেশে দলটি দূরাবস্থার সম্মুখীন হলে তখন তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরী ছাড়তে বাধ্য হয়। এরপর দেশের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তিনি আবারো অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে টেকনাফে আওয়ামী রাজনীতির হাল ধরেন। এলাকার আতœসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষের সমর্থনে ১৯৮৪সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। একাধারে তিনি ১৯৯৬সালের ১২ই জুন পর্যন্ত টানা ৩ বার হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১সালে উখিয়া-টেকনাফ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করলেও ১৯৯৬সালে তিনি কক্সবাজার তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। আর্দশিক এই রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে উখিয়া টেকনাফবাসী একজন অভিভাবককে হারানোর শোকে মুহ্যমান। ####