টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন জিম্বাবুয়ে সিরিজ হতে যাচ্ছে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির শেষ সিরিজ। গতকাল মাশরাফি নিজেই সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে দেন। তবে, খেলোয়াড় হিসাবে মাশরাফি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন কিনা এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত করেননি। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে আজ দুপুরে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর দুইটায়। প্রথম দুই ম্যাচে জিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিরিজ জিতে নিয়েছে। সুতরাং, এই ম্যাচে যদি টাইগাররা জয় পায় তাহলে হোয়াইটওয়াশ হবে জিম্বাবুয়ে।
সিলেটে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, ‘আমি প্রফেশনালি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অধিনায়কের দায়িত্বটা সবসময় চ্যালেঞ্জিং। চেষ্টা করেছি দলকে সর্বোচ্চটা দেয়ার। অধিনায়ক হিসাবে কালই (শুক্রবার) আমার শেষ ম্যাচ। আশা করি, সামনে যাকে অধিনায়ক করা হবে তাকে ২০২৩ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। কারণ, আপনি যদি ঘুম থেকে উঠে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সবকিছু রেডি পান তাহলে তো আর আপনার কোনো কিছু করার আকাঙক্ষা থাকে না। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। দল যখন জিতেছে তখন খুশি হয়েছি। দল হারলেও খুবই কষ্ট পেয়েছি।’
সতীর্থদের নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের সদস্যদের যেমন ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি সতীর্থদেরও তেমন ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। ভবিষ্যতেও তাদের প্রতি ভালোবাসা থাকবে। তাদের জন্য সব সময়ই শুভকামনা থাকবে।’
অধিনায়কের দায়িত্ব ছাড়ার ক্ষেত্রে মনে কোনো অভিমান আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘আমার মনে কোনো অভিমান নেই। পেশাদার মনোভাব থেকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আমাকে সাপোর্ট করেছে।’
আজ শেষ ওয়ানডেতে মুশফিকুর রহিমকে খেলানো হবে না। কারণ, আগামী এপ্রিলে মুশফিক পাকিস্তান সফরে যাবেন না। তাই বিসিবি চাইছে এই ম্যাচে নতুন ক্রিকেটারদের পরখ করে দেখতে।
মুশফিকের ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে আসলে অধিনায়কের হাত নেই। আমরা সবাই জানি, সে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কত বড় সম্পদ। আপনারা হয়তো জানেন, মুশফিক এই মুহূর্তে চার নম্বর পজিশনে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান।’
এই ম্যাচের আগে একটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মাশরাফি। ওয়ানডেতে মাশরাফির অধীনে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে জয় পেয়েছে। সুতরাং, আজ জয় পেলে মাশরাফির অধীনে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয়ের হাফ সেঞ্চুরি হবে। তবে, এ বিষয়ে আগ্রহ নেই মাশরাফির। তিনি বলেছেন, ‘মাইলফলক হলো কি না হলো তার চেয়ে বড় বিষয় দল জিতল কিনা। দলের জয়টাই আসল।’
ক্রিকেটার মাশরাফির এখন আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি বর্তমানে নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তবে, একজন সংসদ হলেও মাশরাফি এখনো লাল পাসপোর্ট নেননি। সরকারি গাড়ি, বাড়ির সুবিধাও তিনি ভোগ করছেন না।
এ বিষয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘ক্রিকেটের বাইরেও আমার একটি পরিচয় আছে। আমি বর্তমানে এমপি (সংসদ সদস্য)। কিন্তু এখনো আমি লাল পাসপোর্ট নেইনি। গাড়ি, বাড়ির সুবিধাও ভোগ করছি না। আমি ক্রিকেট খেলছি। ক্রিকেট আমার কাছে আগে। ক্রিকেট আমার রক্তে মিশে আছে। আমি এখন পর্যন্ত যা অর্জন করেছি তা ক্রিকেটের জন্যই অর্জন করতে পেরেছি। যদি ক্রিকেট না খেলতাম হয়তো মাছের ব্যবসা করতাম। পারিবারিকভাবে আমাদের মাছের ব্যবসা আছে। আমাদের অনেকগুলো ঘের আছে।’
২০১৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। তারপরই বদলে যায় দলের চরিত্র। মাশরাফির অধিনায়কত্বে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয় করে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। এছাড়া মাশরাফির অধীনেই ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই মাশরাফির অধীনেই সেমিফাইনালে খেলেছিল টাইগাররা।
ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফির হাত ধরেই বাংলাদেশ বেশি সফলতা অর্জন করেছে। মাশরাফির অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৪৯টি ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছে। ওয়ানডেতে সফল অধিনায়ক হিসাবে মাশরাফির পরেই আছেন হাবিবুল বাশার। তার হাত ধরে ২৯টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা।
টি-টোয়েন্টিতে মাশরাফির অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ১০টি। এই তালিকায় মাশরাফির পরেই আছেন মুশফিকুর রহিম। তার অধিনায়কত্বে ৮টি টি-টোয়েন্টিতে জয় পায় লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। টেস্ট ক্রিকেটে মাশরাফি মাত্র একটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছে। ওই ম্যাচেও বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল।
মাশরাফির অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান
টেস্ট
ম্যাচ জয় পরাজয়
১ ১ ০
ওয়ানডে
ম্যাচ জয় পরাজয় পরিত্যক্ত
৮৭ ৪৯ ৩৬ ২
টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ জয় পরাজয় পরিত্যক্ত
২৮ ১০ ১৭ ১
