এড. সাজ্জাদ হোসাইন :
ধর্ষন বর্তমানে বহুল আলোচিত,সমালোচিত এক আতংকের নাম। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষনের একটি ঘটনা দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পর্যটন শহর কক্সবাজারে ঘটনাটি সংগঠিত হয়। এক পর্যটক নারীকে স্বামী ও শিশু সন্তানকে জিম্মি করে অপহরনপূর্বক কতিপয় দুর্বৃত্ত সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষন করে। এলিট ফোর্স RAB ভিকটিম মেয়েটিকে জিম্মিদশা হতে উদ্ধার করে।
কোন কোন মহল হতে দাবী করা হয় ধর্ষনের শিকার ভিকটিম নারী পর্যটক নয়। তিনি একজন সেক্স ওয়ার্কার। সেটি তিনি হতেই পারেন। তবে সবার আগে তিনি একজন মানুষ। একজন মা। একজন স্ত্রী। তিনি কার সাথে যৌনজীবন উপভোগ করবেন,সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। ভিকটিমকে খারাপ,ভ্রষ্টা হিসাবে চিহ্নিত করা প্রকারান্তরে অপরাধীকে আশ্রয়,প্রশ্রয় দেয়ারই নামান্তর।
অনেকের ধারনা হতে পারে যে, একজন পতিতা বা সেক্স ওয়ার্কারকে ধর্ষন করা হয়তবা বেআইনী নয়। আইন কিন্তু তা বলে না। একজন নারীর অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোন ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষন বলে। এটিই আইন। তাই কোন নারী পতিতাও যদি হয়,তাকেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্ভোগ করা যাবে না। এ ধরনের অপকর্ম ধর্ষনের অপরাধ বলে পরিগণিত হবে।
সাম্প্রতিক কালে ধর্ষনের সজ্ঞা সময়ের সাথে পাল্টে যাচ্ছে। আগে জোর করে যৌনমিলন করলে ধর্ষন বলা হত। এখন আইন বলছে,জোর না করেও কোন নারীকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্মতি আদায় করে যৌনমিলন করলে সেটিও ধর্ষন হবে। আবার ১৬ বছরের কম বয়স্ক কোন তরুণীর সম্মতির ভিত্তিতে যৌনমিলন করলে সেটিও এক প্রকার ধর্ষন। এটি শিশু ধর্ষন এবং গুরুতর অপরাধ। কারন, minor’s consent is no consent in the eye of law.
আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ধর্ষন আইন কিছুটা ভিন্ন। সেখানে স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে যৌন মিলন করলে ধর্ষনের অপরাধ হবে মর্মে এক রাজ্যের হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি সরকার আপীল করেছেন। বর্তমানে তা বিচারাধীন। বিজেপি সরকারের যুক্তি, স্বামীর বিরুদ্ধে যদি স্ত্রীকে ধর্ষনের মামলার আইনী সুযোগ দেয়া হয় তবে পরিবার ব্যবস্হা ভেঙ্গে পড়বে। ঠুনকো পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে হাজারো ধর্ষন মামলা করবে। এতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে। যুক্তি কিন্তু একেবারে মন্দ নয়।
একদা ধর্ষনের শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন বা ১৪/১৫ বছরের জেল। বর্তমানে ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কিন্তু কঠিন শাস্তির বিধান রেখেও থামানো যাচ্ছে না ধর্ষন। অনেকটা অপ্রতিহত ও অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়ে যাচ্ছে ধর্ষনের অপরাধ। অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু,ঋতুবতী নারী, বৃদ্ধাও রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষনের কবল হতে।
পাকিস্হানে ধর্ষকের বিরুদ্ধে যুগান্তকারী এক আইন পাস হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে ধর্ষন প্রমানিত হলে আইনে ধর্ষনকারীকে নপুংসক কিংবা পুরুষত্বহীন করার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইন করার পর পাকিস্হানে ধর্ষন কমেছে, না বেড়ে যাচ্ছে, এখন দেখার বিষয়।
তবে কেবল আইন প্রনয়ন ও সাজা বাড়িয়ে লাভ নেই। আসল কথা হচ্ছে আইনের প্রয়োগ। আইনের সঠিক ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতেই “ধর্ষন” নামক মহামারি হতে রক্ষা পেতে পারে নারী সমাজ।
এড সাজ্জাদ হোসাইন
ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া
