সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য নির্মিত ১১ নম্বর ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ট্রেজারার জনাব এম এ সালাম। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারের নাগরিকদের মাঝে অস্থায়ী ঘর নির্মান সামগ্রী, শুকনো খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করেন। অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও পানি সরবরাহ কেন্দ্রও তিনি পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের সাথে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কক্সবাজারস্থ পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশনের হেড অব অপারেশন জনাব মো. বেলাল হোসেন এবং আইএফআরসি’র হেড অব সাব ডেলিগেশন জনাব হ্রুষিকেশ হরিচন্দন। পরিদর্শনকালে তিনি ১১ নম্বর ক্যাম্পের ইন-চার্জ (সিআইসি) জনাব পারভেজ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ক্যাম্পের বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
জনাব এম এ সালাম পরিদর্শন শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেগণ অতি দ্রুত এই দুর্যোগে সাড়াপ্রদান করেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ১১ নম্বর ক্যাম্পে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শেল্টার বিষয়ে মূল ভূমিকা পালন করে আসছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের শেল্টার পুনর্নির্মাণ এবং পানি ও স্বাস্থ্যসেবায় আমরা প্রথম দিন থেকেই কাজ করে আসছি এবং বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য হিউম্যানিটারিয়ান এজেন্সির সাথে সহযোগিতা ও সমন্বয় করতে আমরা প্রস্তুত।“
৫ মার্চ ২০২৩ তারিখ বিকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে কক্সবাজারস্থ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের আশ্রয় শিবিরের ১১ নম্বর ক্যাম্পে ৩ হাজারের অধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইতিমধ্যে ২,৫৫৮টি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। ১৭৬ জনকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ১৭৩ জনকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ৫৯৭ জনকে মনোসামাজিক সেবা প্রদান করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরিভাবে ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
১১ নম্বর ক্যাম্পে স্থাপিত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের তিনটি পানি বিতরণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে প্রতিদিন পানি সরবরাহ করা হতো। ভস্মীভূত ক্যাম্পে পানি সবচেয়ে বেশি জরুরি বিষয় বিবেচনায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সেগুলো দ্রুত পুনর্নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে ৬টি ব্লকে অস্থায়ী ট্যাপ স্থাপনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে।
ট্রেজারার জনাব এম এ সালাম আরো জানান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়াও তিনি উখিয়াতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন, যেখানে আগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারের নাগরিকগণ চিকিৎসাসেবা গ্রহন করছেন।
