এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে ধরা পড়েছে দেড় মণ ওজনের বিরল প্রজাতির একটি শুশুক মাছ। গতকাল রোববার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর বাজারের নিচের অংশে মাতামুহুরী নদীর চর এলাকা থেকে স্থানীয় যুবকরা দীর্ঘক্ষন চেষ্ঠা চালিয়ে মাছটি ধরে তীরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, গতকাল বিকেলের দিকে মানিকপুর এলাকার কিছু যুবক মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নামে। ওইসময় নদীর চর এলাকায় হাটু পরিমাণ পানিতে বিরল প্রজাতির শুশুক মাছটি দেখতে পান। পরে যুবকরা দীর্ঘক্ষন চেষ্ঠা চালিয়ে মাছটি ধরে তীরে তুলতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নদীর চরে ভাসমান অবস্থায় মাছটির মূখে জাল দিয়ে আটকানো ছিল। যার কারণ খাবার খেতে না পেরে নদীর চরে আটকে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরল প্রজাতির শুশুক মাছটি দেখতে পেয়ে নদীতে গোসল করতে যাওয়া লোকজন মাছটির শরীরের পিঠে কোদাল দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলে।
নদীতে বিশাল আকারের মাছ উদ্ধারের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক জনতা মাছটি দেখতে ভিড় জমায়। স্থানীয়রা শুশুকটি বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে গেলে কোন ধরণের ক্রেতা না পাওয়ায় মাছটি মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। উদ্ধারকৃত শুশুক মাছটির ওজন দেড় মণ (৬০কেজি) ও আকারে দৈর্ঘ্য সাত ফুট লম্বা বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় শিক্ষক নিজাম উদ্দিন।
তিনি বলেন, নদী থেকে উদ্ধারের পর শুশুক মাছটি দেখতে আসা লোকজন সবাই মিলে প্রথমে বিক্রি করার জন্য মানিকপুর বাজারে নিয়ে যান। ওইসময় বাজারে মাছটি ক্রয় করার জন্য কোন ক্রেতা না থাকায় পরবর্তীতে মাছটি মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো.সাইফুর রহমান বলেন, মাতামুহুরী নদী থেকে শুশুক মাছ পাওয়ার বিষয়ে কেউ তাকে অবগত করেননি। বিভিন্ন প্রজাতির শুশুক মাছ রয়েছে। এ ধরণের মাছ সাধারণরত সমুদ্রের লবণাক্ত ও মিষ্টি পানিতে দেখা যায়। অনেক সময় সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে মাতামুহুরী নদীতে ওই শুশুক মাছ চলে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
