হুমায়ূন রশিদ / আজিজ উল্লাহ : টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাহাড় কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করে সাধারণ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠকারী দূবৃর্ত্ত চক্রের ফের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
সুত্র জানায়,২৭ এপ্রিল ভোররাত ৪ টায় টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মোঃ দস্তগীর হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ শীলখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের সদস্য উত্তর শিলখালীর মৃত অলি চাঁনের পুত্র বাহাদুর আলম (২২) এবং মোজাহেরুল ইসলাম ওরফে গুরুতাইন্না মাইজ্যার পুত্র নুরুল মোস্তফা ওরফে বাবুইল্যা (২৫) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ধৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী সিন্ডিকেটের সদস্য বলে স্বীকার করে। তাদের সহযোগিতায় একদল অপহরণ চক্রের নেতৃত্বে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা হতে মানুষ অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে বলে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দস্তগীর হোসেন।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইক্যং পাহাড়ে ১০জন কৃষককে অপহরণের ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। যার মামলার নং-৫৬/২৪। এই মামলায় আটক দেলু ডাকাতের স্বীকারোক্তিতে এই দুইজনকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য,টেকনাফের পুরো পাহাড়ি এলাকা অপহরণ চক্রের দখলে। গত কয়েক মাস ধরে শিশু থেকে শুরু করে কৃষক,ডাক্তারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে অপহরণের পর জিম্মি করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। এমতাবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত কৃষক,কাঠুরিয়া ও সাধারণ মানুষের দিন-যাপন দূরূহ হয়ে পড়ে। এসব অপরাধীদের ভয়ে পাহাড়ের পাদদেশে চাষাবাদ ও আসা-যাওয়া এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়। রাত হলে পাহাড়ি পাদদেশের মানুষ অপহরণ আতংকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সাহস করে না। স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা মিলে গড়ে তুলেছে বিশাল অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী সিন্ডিকেট। এই চক্রের আরো দুই সদস্যকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গণি জানান, ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরো জানান,এর আগে একই মামলায় আরো ৩জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় আদালতে। ###
