টেকনাফে যৌতুকের দাবী মেটাতে না পেরে ১সন্তানের জননীর আত্নহত্যা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারে ভাড়া ঘরে থাকা অবস্থায় স্বামীর সাথে নারী সংক্রান্ত এবং যৌতুকের বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এরপর অভিমান করে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে আসে। স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে গত সপ্তাহে অভিমানী স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে স্বামী কর্মস্থলে চলে যায়। সকালে শ্বাশুড়ি ননদের বাড়ি গেলে স্ত্রী ঘরের সদর দরজা বন্ধ করে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

জানা যায়,২০মার্চ দুপুরে টেকনাফের হোয়াইক্যং পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী গুলজার খাতুন পার্শ্ববর্তী কাচার পাড়ার মেয়ের বাড়ি হতে ঘরে ফিরে সদর দরজা বন্ধ পায়। তখন ছেলে কমর উদ্দিনের স্ত্রী পুত্রবধু রুমা (২৩) কে ডাকাডাকি করলে কোন সাড়া শব্দ পায়নি। পার্শ্ববর্তী লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে রুমাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পায়। তখন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে লেদা আইএমও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার রুমাকে মৃত ঘোষণা করে। মৃত রুমা পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার আহমদ হোছনের মেয়ে। তার সংসারে ১টি ২ বছরের কন্যা শিশু রয়েছে। এরপর বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে টেকনাফ মডেল থানার এসআই আব্দুল জলিল এবং মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করে।

স্থানীয় সুত্রের দাবী, রুমা স্বামীর সঙ্গে কক্সবাজার থাকত। নারী ঘটিত একটি বিষয় নিয়ে তাদের সংসারে কলহের সুত্রপাত হলে রুমা বাপের বাড়ি চলে আসে। আর একটি সুত্রের দাবী স্বামী কমর উদ্দিন যৌতুক দাবী করায় সে ঝগড়া করে বাড়িতে চলে আসে। গত সপ্তাহে স্থানীয়ভাবে সালিশের পর স্বামী রুমাকে ঘরে নিয়ে কর্মস্থলে চলে যায়। এরপর আজ হয়তো পারিবারিক কলহ অথবা ডৌতুকের দাবী মেটাতে না পারার অভিমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ আলম এই গৃহবধু গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ এসে ব্যাপক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের পর মৃতদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে যায়।

এসআই মজিবুর রহমান জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। আত্নাহুতি দেওয়া গৃহবধুকে স্বামী যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এই দাবী মেটাতে না পেরে সে আত্নহত্যা করে। এই ব্যাপারে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ###