হুমায়ূন রশিদ/ সাদ্দাম হোসাইন : সীমান্ত জনপদ টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত গ্রুপের মাদকের চালানে আধিপত্য বিস্তার এবং মৎস্যঘেঁর ও পাহাড়ি ঘোনা জবর দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ এবং এলোপাতাড়ি কোপানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পক্ষের ৫জন গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত এবং অপর পক্ষের এলোপাতাড়ি কোপানোর ঘটনায় ৪জন গুরুতর রক্তাক্তসহ মোট ৯জন আহত হয়েছে। তম্মধ্যে ২জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়,১৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিকাল সোয়া ৩টারদিকে উপজেলার ১নং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর কাঞ্জরপাড়া বাজারে আসেন ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার মৃত শহর মুল্লুকের পুত্র এবং স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত গ্রুপের নেতা নবী হোছন (৪৫) ওরফে লাদেনসহ তার কয়েকজন স্বশস্ত্র অনুসারী। এসময় ষ্টেশন এলাকার আব্দুল জলিলের পুত্র হাবিবুর রহমান প্রকাশ হাবিরান (২৭) গংয়ের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলির ঘটনায় হাবিবুর রহমান গ্রুপের হাবিবুর রহমানসহ ৫জন গুলিবিদ্ধ হয় বলে তার পক্ষের লোকজন দাবী করেন। এই ঘটনার পর তারা সংঘবদ্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ি হতে দা-কিরিচ এনে লাদেন গ্রæপের লোকজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে মৃত শহর মুল্লুকের পুত্র ও স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত গ্রুপের নেতা নবী হোছন ওরফে লাদেন (৪৫), আব্দু মিয়ার পুত্র জয়নাল (৩২), সহযোগী আকাশ এবং ঝিমংখালীর বেলাইয়া নামে ৪জন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।
স্থানীয়রা জানান,কুখ্যাত ডাকাত নবী হোছন ওরফে লাদেন এবং হাবিবুর রহমান গং প্রভাবশালী হওয়ায় এক সময় মিলে মিশে মাদক চোরাচালানসহ যাবতীয় অপরাধ করে বেড়াত। এই কারণে তাদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের অনেকে মাদক মামলায় হাজত বাস করছে আবার অনেকে জামিনে আসছে। পরিস্থিতির কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে লাদেন গ্রুপ স্বশস্ত্র অবস্থায় মাদকের চালান খালাস করার সময় হাবিবুর রহমান গ্রুপের আনা-গোনা দেখতে পেলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ-সন্দেহ আরো বৃদ্ধি পায়। এরই মধ্যে লাদেন গং হাবিবুর রহমান গংয়ের মৎস্যঘেঁর ও পাহাড়ি ঘোনা জবর দখলে নেওয়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে বাঘে-মহিষে সম্পর্ক গড়ায়। গত সপ্তাহ দুয়েক আগে লাদেন গং মাদকের চালান খালাসের সময় সীমান্ত রক্ষী বিজিবির তৎপরতার মুখে পড়লে হাবিবুর রহমানকে সোর্স মনে করে পাহাড়ে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এতে হাবিবুর রহমান চরম ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। গত ৪/৫দিন আগে কুতুবদিয়া পাড়ার ক্লাবের সভাপতি নুর হোছনকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে ছেড়ে দেয়।সে এখন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় কোন পক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান,দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অনেকে আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করার আহবান রেখে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রাদি দ্রæত উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্র্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওসমান গনি বলেন, দুই গ্রুপ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে লিপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ পরিদর্শক আব্দু রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ও হোয়াইক্যংপুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ শাহাদাতের নেতৃত্ব আরো একটি টিম বর্তমানে ওই এলাকায় রয়েছেন। যারা এ ঘটনা সৃষ্টি করেছেন তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হঠাৎ করে এলাকায় এই ধরনের নৃশংস ঘটনার সুত্রপাত হওয়ায় সাধারণ মানুষ দোকান-পাট বন্ধ করে চলে যায়। এলাকায় অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়লেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশী টহল জোরদার রয়েছে। ####
