নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের দাতিনাখালী জায়গা জবরদখলে হামলা চালিয়ে নিরীহ পরিবারের বসতবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় বাঁধা দিতে গিয়ে শ্লীলতাহানিসহ শাররীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে উন্মে হাবিবা জন্নাত (২২) নামের এক তরুণী। হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ওই পরিবারের প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের গৃহকর্তার মেয়ে আহত উন্মে হাবিবা জন্নাত বাদি হয়ে গতমাসে ১২ এপ্রিল চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা রুজু করেছেন।
মামলার এজাহারে বদরখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দাতিনাখালী পাড়া এলাকার মৃত ছৈয়দুল ইসলামের ছেলে বেলাল উদ্দিন, মনির উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আবু ছাদেককে আসামি করা হয়েছে।
বাদি উন্মে হাবিবা জন্নাত মামলার এজাহারে বলেন, তার বাবা মোহাম্মদ ফারুক শারীরিক ভাবে অসুস্থ। ভাইয়েরা লেখাপড়ায় রয়েছেন। একভাই চট্টগ্রাম হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজে অধ্যায়নরত। অভিযুক্তরা আমাদের নিকট আত্মীয় স্বজন হন। অথচ আমাদের বাড়িতে পুরুষ সদস্যরা না থাকার সুযোগে বারবার অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে আমার বাবার বাড়ির সামনে পৈতৃক অংশের উঠানের জায়গাটি দখলের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। সবর্শেষ তারা উঠানের জায়গা দখলে হামলা চালিয়ে বাশের বেড়া ছাউনিযুক্ত আমাদের পুরানো বাড়িটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। এসময় তাদের বাধা দিতে গেলে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার সময় আমার পরনের কাপড়চোপড় টানা হেঁচড়ে শ্লীলতাহানি ও গলা চাপিয়ে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। পরে আমার শোর- চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
বাদি উন্মে হাবিবা জন্নাত মামলার এজাহারে আরও বলেন, হামলা ভাংচুরের ঘটনায় আমার পরিবারের দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এছাড়া হামলার সময় আমার গলায় থাকা ৪০ হাজার টাকা দামের একটি স্বর্ণের চেইন ও ১৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন সেট লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর প্রতিবেশি লোকজনের সহায়তায় পরিবার সদস্যরা আমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।
বদরখালী দাতিনাখালী গ্রামের নিরীহ পরিবারের গৃহকর্তা মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে পুরানো বাড়ি ভাংচুর ও আমার মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা রুজু করার পর আসামিরা আত্মীয় স্বজন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তারা পরক্ষণে কৌশল অবলম্বন করে আমাকেসহ আমার কলেজপড়ুয়া ছেলেদের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা মামলা করে হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ আমার পৈত্রিক অংশের জায়গা নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রট (এডিএম) আদালতে ১৪৪ ধারার আলোকে এমআর মামলা (নং ৪৪০/২৩) রুজু করা হলেও তার বিপরীতে আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা আমার পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে সাজানো ঘটনায় মামলা দিয়েছে। এখন অভিযুক্তরা হুমকি ধমকি দিচ্ছে আমার জায়গা দখলে নিবে, বাধা দিলে প্রাণে হত্যা করবে। এই অবস্থায় পরিবার সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ফারুক। ##
