টেকনাফ টুডে ডেস্ক : মহাকাশে লাল, হলুদ, বাদামি পাহাড়, আশপাশে উজ্জ্বল তারা-নক্ষত্র। আর মহাকাশের এই সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে। এই ছবি দেখে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এমন বিস্ময়কর দৃশ্য কোনো দিন দেখা যায়নি। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে ১৩০০ কোটি বছর আগের তারার ছবি।
এতে যে দৃশ্যগুলো দেখা গেছে, সেগুলো আসলে ক্যারিনা নেবুলার (carina Nebula)। যেখানে একটি নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এমন ছবি আগেও পাওয়া গেছে। তবে প্রথমবারের মতো এত পরিষ্কার ছবি দেখা গেল। এবারের ছবিতে প্রতিটি তারাকে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য যে ক্যামেরাগুলো এতদিন পর্যন্ত ব্যবহৃত হতো সেগুলোতে নক্ষত্রের গঠন সম্পর্কিত অংশগুলোর ছবি তোলা যেত না। তবে জেমস ওয়েবের পেলোডগুলো খুব সূক্ষ্ম বস্তুর ছবিও তুলতে সক্ষম। জেমস ওয়েবের এই নতুন ছবিতে মহাজাগতিক পর্বতমালা এবং মহাজাগতিক উপত্যকাগুলো দেখা গেছে। ক্যারিনা নেবুলার যে অঞ্চলে নতুন তারা তৈরি হচ্ছে তার নাম দেওয়া হয়েছে NGC 3324৪। এই ছবিটি ত্রিমাত্রিক বিন্যাসে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্বতটি ৭ আলোকবর্ষ উঁচু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এত বেশি অতিবেগুনি বিকিরণ এবং মহাজাগতিক বাতাস সেখানে দেখা গেছে, যা যেকোনো বস্তুকে ধ্বংস করতে পারে।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের দুটি যন্ত্র কারিনা নেবুলার অংশের ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এটি নিয়ার ইনফ্রারেড ক্যামেরা NIRCam) এবং মিড-ইনফ্রারেড ইন্সট্রুমেন্ট (MIRI)। এই নীহারিকা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে ৭৬০০ আলোকবর্ষ দূরে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই মহাজাগতিক বায়ু অত্যন্ত গরম। সেখানে বুদবুদের মতো স্থান রয়েছে। সেখানে তারা তৈরি হচ্ছে। বিকিরণের কারণে এই বাদামি মেঘ এবং মাঝখানে পাহাড়ের মধ্যে একটি আভা আছে; যা অত্যন্ত গরম। সেগুলো থেকে উত্তপ্ত ধুলোর মেঘ বের হচ্ছে। একটি নতুন তারা তৈরির সময়, ধূমকেতুর পেছনের দিকের মতো উজ্জ্বল আলোর প্রবাহ দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, সেখান থেকে আসলে ধূলিকণা বের হয়।
