সংবাদ বিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলিতে মে মাসের মাঝামাঝিতে কোভিড-১৯ এর প্রথম কেইস নিশ্চিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবং ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর যাতায়াত কমিয়ে আনতে, ৩০০০ এরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবী সম্মুখসারি থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
মহামারীর শুরু থেকেই, কমিউনিটি-ভিত্তিক সংগঠনসহ জরুরি সহায়তা প্রদানকারী মানবিক সংস্থাসমূহ কোভিড১৯ প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। স্বেচ্ছাসেবীরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের পাশাপাশি হাতধোওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক-দূরত্ব ও যত্ন, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক সতর্কবার্তা, এবং সাড়াদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনেছেন। সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক এখন উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প এবং আশেপাশের বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গা, বার্মিজ এবং বাংলায় জীবন-রক্ষাকারী কোভিড১৯ বিষয়ক বার্তাগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
২১ বছর বয়সী রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ সাদেক বলছিলেন- “আমি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কোভিড-১৯ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়েছি এবং এই রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আমি জেনেছি একজন রোগীর কখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া উচিত এবং আরো জেনেছি কোয়ারানটাইন ও আইসোলেশন অর্থ কী। সচেতনতা সভা, অডিও-লার্নিং সেশন এবং বাড়ি-বাড়ি যেয়ে রোহিঙ্গাদের কোভিড১৯ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে আমি কাজ করছি এবং যখন দরকার হয় তখন বিশেষ-প্রয়োজনের লোকদের সঙ্গে থেকে তাদের সহযোগিতা করি।”
স্বেচ্ছাসেবীরা কমিউনিটি এবং এর আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত রাখতে ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৬০টি তথ্য-পরিষেবাকেন্দ্র ও ২৪টি হেল্প ডেস্ক পরিচালনা করছেন। যার মাধ্যমে কোভিড১৯ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর, তথ্যসহায়তা, পরিষেবাগুলির মান বাড়াতে পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। তদুপরি, সম্মুখসারির নারী স্বেচ্ছাসেবকরা ক্রমকর্ধমান পারিবারিক-সহিংসতা ও নির্যাতন কমিয়ে আনতে প্রতিরোধ এবং রেফারেল পদ্ধতি বিষয়ক বার্তাগুলি ছড়িয়ে দিচ্ছেন এছাড়া মেয়ে ও নারীদের নিরাপদ স্থানে রাখতে সহযোগিতা করছেন।
২২ বছর বয়সী বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবী আসমাউল হোসনা যিনি একই সঙ্গে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী উভয়কেই সহযোগিতা করেন তিনি বলছিলেন- “আমাদের স্বেচ্ছাসেবীদের হস্তক্ষেপে, সমাজের লোকেরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে শিখেছেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে সুরক্ষা ব্যবস্থার চর্চা শুরু করেছেন। যেহেতু আমি নিজে ঝুঁকির মধ্যে থেকে তাদের নিরাপদে থাকতে সহযোগিতা করছি তাই তারা কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন। আমি যে তাদের দুর্দশা সামান্য হলেও কমাতে পারছি এটাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।“
মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো কোভিড১৯ সংকটে প্রত্যেক রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীর বীরত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। যারা প্রত্যেকে প্রতিদিন তাদের কমিউনিটির সুরক্ষায় ঝুঁকি নিচ্ছেন। নিশ্চিত হওয়া কেইসের সংখ্যা ক্যাম্পগুলিতে এবং সামিগ্রকভাবে জেলায় বৃদ্ধি পাওয়ায় কোভিড১৯ প্রস্তুতি এবং সাড়াদানে স্বেচ্ছাসেবীরা এখন মূলভূমিকায় রয়েছেন। কক্সবাজার জেলায় স্বেচ্ছাসেবী এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাসমূহ দ্বারা পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো বজায় রাখতে তহবিলের যোগান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরিভাবে প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত, রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে রোহিঙ্গা মানবিক সাড়াদানের পরিকল্পনার ২৭শতাংশ অর্থের যোগান পাওয়া গিয়েছে।
