বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন ও বাস্তববাদী নেতা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপোষহীন ও বাস্তবাদী নেতা। ২৩ বছরের সংগ্রামী জীবনের প্রায় ১৪ বছর কারান্তরীণ থেকেও মানুষকে তিনি প্রস্তুত করেছেন স্বাধীনতার জন্য, মুক্তির জন্য। যখন যেটি করলে মানুষ উপকৃত হবে, সেই পদক্ষেপে তার নেতৃত্ব ও আপোষহীনতা তাকে পরিণত করেছে বাস্তবাদী নেতা হিসেবে।

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সসের (কারাস) যৌথ আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালা’ শীর্ষক ধারাবাহিক ভার্চুয়াল আলোচনার ১২তম পর্বে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীকার, স্বাধীনতা ও মুক্তি- এই শব্দগুলো ঘিরেই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু একটি দেশ, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীত অর্জনের কথাই বলেননি, এর মাধ্যমে তিনি এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিসহ সব ধরনের মুক্তির কথা বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গেরিলা আন্দোলন করতেন না, বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিলেন না। মানুষকে তিনি গেরিলা আন্দোলনের জন্য, নকশালপন্থী আন্দোলন করার জন্য প্রস্তুত করেন নাই। তিনি চেয়েছিলেন মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা উজ্জীবিত করে একটা স্বাধীন রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করার জন্য। এই ধারাবাহিক রাজনীতির অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা পেশ করেন। তার ছয় দফা দাবির মধ্যেই মূলত এদেশের স্বাধীনতা অন্তর্নিহিত ছিল। মাওলানা ভাসানী পরে বলেছিলেন ওই ছয় দফার মধ্যেই তো এক দফা নিহিত আছে। এভাবেই বঙ্গবন্ধু নিজের প্র্যাগমেটিক লিডারশিপের পরিচয় দিয়েছেন।’

বাস্তববাদী নেতার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাকসুদ কামাল বলেন, ‘যখন যেটি মানুষের কল্যাণ হবে, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি নিলে পরে একটি দেশ, জাতি ও জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়।, সেটিই হলো প্রেগমেটিক লিটারের কাজ । যেটি বঙ্গবন্ধু করছেন।’

আলোচনা সভায় ’আনকমপ্রোমাইজিং পলিটিশিয়ান, প্র্যাগমেটিক স্টেটসম্যান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়দ বদরুল আহসান।

বদরুল আহসান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় তৎকালীন ব্রিটিশ আমলেই। শুরু থেকেই তিনি মানুষের কল্যাণে আপোষহীন রাজনীতি করে গেছেন। পাকিস্তান আন্দোলনে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, তথাকথিত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে তৈরি এই রাষ্ট্র ভালো কিছু বয়ে আনবে না। পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই রাষ্ট্র কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়লেও, বঙ্গবন্ধু নড়বড়ে ছিলেন না। তিনি অন্যান্য গতানুগতিক রাজনীতিকের মতো ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাঙালিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হওয়া শুরু করলে বঙ্গবন্ধু এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে তার ছয় দফা দাবি। এই দাবিগুলোর দুইটি দিক ছিলো। এই দাবিগুলোর মধ্যে বাঙালিদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল, একইসঙ্গে এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র কাঠামোতে বাঙালিদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। সর্বোপরি, তার চিন্তাভাবনা ছিলো সুদূরপ্রসারী। তিনি সব সময় বাঙালি জাতির স্বাধীনতা এবং মুক্তির জন্যে ভাবতেন। যা পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পায়।’

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ও ইউজিসি অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন নেতা। তিনি আপোষকামী হলে আজকের বঙ্গবন্ধু হতে পারতেন না। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন একজন দক্ষ নেতা। তার সকল কর্মকাণ্ড এবং সিদ্ধান্তে এর পরিচয় পাওয়া যায়।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সসের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল বাছির। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক তা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সসের রিসার্চ ফেলো তৌহিদুল হাসান নিটোল।