পেকুয়ার সোনাইছড়ি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা : মামলা নিতে নির্দেশ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৪ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পহেলা মার্চ টইটং উত্তর পূর্ব সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে দায়েরকৃত এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু করতে পেকুয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূবিতা চাকমা। আহত নজরুল ইসলাম টইটং হাজি বাড়ির অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক ছৈয়দ নুরের ছেলে।
অভিযোগে আহত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ২ মার্চ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আমি (প্রধান শিক্ষক) আগেরদিন ১ মার্চ বিদ্যালয় গিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ করছিলাম। ওইসময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ইস্যু তুলে স্থানীয় বহু অপকর্মের হোতা সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে জমির উদ্দিন, পারভেজ উদ্দিন, রাসেল উদ্দিন, খোকন, শহিদুল ইসলাম মানিক, শাহাদাত, সাজ্জাদ, মুসলেহ উদ্দিন, আব্দুল খালেক, আহমদ কবির, নাজেম, মহি উদ্দিন, এরশাদ সহ আরো ১০/১২ জন মিলে অতর্কিত বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে হামলা করে। ঘটনার ময় তাঁরা হাতুড়ী, লোহার রড দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত জখম হয়ে আমি অজ্ঞান অবস্থায় অফিস কক্ষে লুটিয়ে পড়ি।
ঘটনার পরপর শোর-চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের কক্ষের আলমারি থেকে নগদ ১৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট লুটে নিয়ে যায়।
আহত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে অপরাপর সহযোগিরা অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এসময় অফিসে টাঙ্গানো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাছিনার ছবিও ভাংচুর করে তাঁরা।
তিনি বলেন, সরকারি আদেশমুলে গত ৮ ফেব্র“য়ারী উপজেলা শিক্ষা অফিস ৫১ নং স্মারকে ২০১৯ সনের আইনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনায় পুর্বের মতো যে কেউ চাইলে ম্যানেজিং কমিটিতে আসার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানতে পেরে আগের মতো সভাপতি হওয়ার জন্য শাহাব উদ্দিন আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।
এই বিষয়ে আমি উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছি। এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলা শেষে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার মুর্হুতে তাঁরা বিদ্যালয়ের চাবিও কেড়ে নিয়ে যায়।
আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় গত পহেলা মার্চ পেকুয়া থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষকের উপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মারধরের ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে দায়েরকৃত এজাহারটি মামলা হিসাবে রুজু করতে পেকুয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা।
অপরদিকে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের উপর বর্বেরচিত হামলার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনী ব্যবস্থা নিতে আহবান জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে পেকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাস্টার হানিফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহসীন, মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবুল কালাম, সিরাজুল মোস্তফা, আব্দুল হামিদ, মোতাহেরা বেগম, আবু পারভিন সহ পেকুয়া উপজেলার অপরাপর শিক্ষক বৃন্দ। শিক্ষক বৃন্দ তাদের নিরাপত্তাও দাবী করেন। এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সালামত উল­াহ বলেন, কোনো কারণ ছাড়া একজন শিক্ষকের উপর হামলা চালানোর ঘটনা নিন্দীয় অপরাধ। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যত শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে আগ্রহ হারাবে।
বিষয়টি প্রসঙ্গে সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো.তফিকুল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় পেকুয়া থানায় একটি এজাহার দেওয়া হয়েছে। অনুলিপির একটি কপি আমার কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পেকুয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হবে। ##