নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৬বছর আগে যখন পুরো কক্সবাজার অঞ্চলের জনসাধারণ সুচিকিৎসা নিশ্চিতের আশায় একটি ভালোমানের হাসপাতালের শুন্যতায় ভুগছিলেন তখন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র তথা মাতামুহুরী সেতুর সন্নিকটে কিছু মানবসেবী মানুষের বদন্যতায় প্রতিষ্ঠালাভ করেন জমজম হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড। যখানে রোগী সাধারণ বিপুল টাকা হাতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা পেতে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা ছুটে যেতেন, তখনই জনগনের মাঝে আশীবাদ হয়ে উদয় হয় এই হাসপাতালটি। সেই ২৬বছরের পিচ্ছিল অনেক পথ পেরিয়ে এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি এখন এতদাঞ্চলের জনগনের কল্যাণে সারথী হয়ে কাজ করে চলছে। নিশ্চিত করেছেন অল্পখরচে ঢাকা চট্টগ্রামের আদলে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা। মঙ্গলবার (১র্মাচ) জমজম হাসপাতালের আয়োজনে স্বাধীনতা মাস উপলক্ষ্যে রোগীদের জন্য সেবামাস চালু কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চকরিয়া-পেকুয়া(কক্সবাজার-১) আসনের সাংসদ ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম কথাগুলো বলেন।
জমজম হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা.একেএম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংসদ জাফর আলম বলেন, জমজম হাসপাতালের উন্নত চিকিৎসা সেবা এই অঞ্চলের মানুষের আস্থা ও বিশ^াস অর্জন করেছে। সেই চেতনা থেকে রোগীদের মাঝে আরো ভালোমানের চিকিৎসা দিতে মহান স্বাধীনতার মাস সেবামাস উপলক্ষে হাসপাতাল থেকে একগুচ্ছ চিকিৎসা সেবা কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। মাসব্যাপী এই কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ১২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সকাল থেকে বিনামুল্যে হাজারো রোগীর চিকিৎসা দেয়ায় সাধুবাদ জানান সাংসদ জাফর আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জমজম হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ মহান স্বাধীনতার মাসকে সেবামাস ঘোষণা করে সেবা কর্মসূচী ঘোষনা করেন। এসময় বেলুন উড়িয়ে ফিতা কেটে সেবা মাসের উদ্বোধন ঘোষনা করেন প্রধান অতিথি এমপি জাফর আলম। অনুষ্ঠান চলাকালেও হাসপাতালে চকরিয়া পেকুয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে আগত চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিয়ে বেশ উল্লসিত দেখা যায়। তা সরেজমিনে দেখে সাংসদ জাফর আলম বলেন “ জমজম হাসপাতাল উন্নত চিকিৎসা সেবা দিয়ে এই এলাকার মানুষের মন জয় করেছে।
তিনি হাসপাতালের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশ্যে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষকে যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীতে আর ঢাকা- চট্টগ্রাম যেতে না হয়, সেই উদ্যোগ নিতে হবে।” আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে এই এলাকার চিকিৎসাসেবার আশ্রয় স্থলে পরিণত করতে হবে জমজম হাসপাতালকে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, মার্চ মাস ব্যাপী সকল রোগীকে সর্বোচ্চ ৪০% পর্যন্ত কমমূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া একটি মহতি উদ্দ্যগ। আজ শত শত রোগীকে বিনা মূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বিষয়টি আমাকে অবিভূত করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও জমজম হাসপাতালের পরিচালক মো: নূর হোসেন বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে জমজম হাসপাতালকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পরিণত করা হবে। ইতি মধ্যেই লিপ্ট সংযোজন, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন,কালার এন্ডোসকপি,সিটিস্ক্যান সহ অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। সামনে আরও সংযোজন করা হবে ইনশাল্লাহ।
জমজম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: গোলাম কবির বলেন, মহান স্বাধীনতার মাস হিসাবে পুরো মার্চ মাস ব্যাপী সকল রোগীকে ৩০% হইতে ৪০% কমমূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। শীঘ্রই পার্শ্বের নিজস্ব জমিতে আরো একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করে সকল পর্যায়ে সেবা পরিধি বৃদ্ধি করা হবে।
সভাপতির বক্তৃতায় জমজম হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ এ.কে.এম. ফজলুল হক বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতালের আদলে জমজম হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করা হবে। আরও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে সর্বক্ষেত্রে সবার পরিধি বৃদ্ধি করা হবে বিশেষায়িত হাসপাতালের আদলে জমজম হাসপাতালকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। তিনি সাংসদসহ আগত অথিতিদের ধন্যবাদ জানিয়ে হাসপাতালের ডাক্তার,নার্সসহ সকলকে আরো আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। অনুষ্ঠানে জমজম হাসপাতালের পরিচালক জাবের আহমদ চৌধুরী, এহছানুল আনোয়ার ও জি.এম রুকন উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য সেবা মাসের উদ্বোধন উপলক্ষে ১লা মার্চ ১২ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিনা মূল্যে প্রায় দুই হাজার রোগী দেখেন।##
