টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা। বাবা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। শহীদুল্লা ১৯৪৬ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় ফিরে এসে পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারার সব আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। বামপন্থি রাজনীতির সমর্থক হিসেবে তিনি শ্রমিক-জনতার দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব দিতেন। ১৯৫১ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য নির্বাচিত হন। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাকে শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয় এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এখানে কর্মরত ছিলেন। শহীদুল্লা কায়সারের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাস ‘সারেং বউ’ (১৯৬২) ও ‘সংশপ্তক’ (১৯৬৫)। এ ছাড়া ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’, ‘তিমির বলয়’, ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’, ‘সমুদ্র ও তৃষ্ণা’, ‘চন্দ্রভানের কন্যা’ তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ও ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ তার স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আগমুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকার-আলবদর গোষ্ঠী। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
