হ্নীলায় সড়ক নির্মাণে চাঁদা দাবীর প্রতিবাদে মানববন্ধন শীর্ষক সংবাদে আহমদ হোছনের ব্যাখা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

বার্তা পরিবেশক : ২৩ ডিসেম্বর টেকনাফ টাইসম ডটকম, টেকনাফ টুডে ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত “হ্নীলায় বঙ্গবন্ধু আশ্রয়ন প্রকল্পের সংযোগ সড়ক নির্মাণে চাঁদা দাবীর প্রতিবাদে মানববন্ধন” শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যা এলাকার মেম্বার নামধারী মাদক কারবারী, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা কর্তৃক নিজের অপকর্ম আড়াল করার হীন উদ্দেশ্য সাজানো নাটক।

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে আমি মরহুম ফরিদুল আলম মেম্বারের ভাগিনা এবং প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হই। গত ইউপি নির্বাচন শেষে আমি অসুস্থ পিতাকে দেখার জন্য দেশে আসি। আমি আসার দুই সপ্তাহ পর আমার পিতা ইন্তেকাল করেন। এই ঘটনার কিছুদিন পর স্থানীয় ছৈয়দ আহমদের পুত্র ফরিদ আমাকে ডেকে বেলাল মেম্বারের বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে বেলাল মেম্বার আমাকে বলেন ফরিদ মেম্বার জীবিত থাকাকালে সর্বদা টাকা-পয়সা দিয়ে সহায়তা করেছেন। আমার নির্বাচনের সময় মেম্বারের পুত্র ফোরকানকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন এবং তোমার ছোট ভাই হেলাল আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় আমার ৬০/৭০ লক্ষ খরচ হয়েছে। এই বাবদ আমাকে ৩লক্ষ টাকা দিতে হবে। তা দিতে অস্বীকার করে আমি চলে আসি। এই ঘটনার কয়েকদিন পর বেলাল মেম্বারের শুভাকাংখী কালু মিয়ার পুত্র জাফর আলম প্রকাশ কালা মোরা আমাকে বেলাল মেম্বারের অফিসে ডেকে নিয়ে যায়। সেদিনও ৩লক্ষ টাকা দাবী করে। অপারগতা প্রকাশ করলে উপস্থিত আব্দুল হামিদ এবং নুরু একসাথে প্রস্তাব দেন তুমি নিরাপদে থাকতে চাইলে নগদ দেড় লাখ টাকা দিয়ে যান। না হলে ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দেয়।

এই ঘটনার কিছুদিন পর বেলাল মেম্বার কর্মসৃজন ও খ্রিস্টান এইডের প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। কিছুদিন কাজ করার পর আমার জমিন বরাবর যাওয়ার কথা শুনলে গত ২২ ডিসেম্বর সকাল ১০টারদিকে সরেজমিনে কাজ দেখতে আমি ও ভাই হেলাল যায়। সেখানে দেখতে পায় অন্যান্য জমি হতে হালকা-পাতলা মাটি নিলেও আমার জমি হতে প্রায় ৬ফুটমতো গর্ত করে পুকুরের মতো করে ফেলে। আমার অনুমতি এবং পরামর্শ ছাড়া এই গর্ত কেন করা হয়েছে বলে জানতে চাই। তখন বেলাল মেম্বার ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন এখানে তোমাকে কবর দেওয়ার জন্য খোড়া হয়েছে বলে ধাক্কা দেয়। গর্ত থেকে উঠার চেষ্টা করলে কালা মোরা এবং ফরিদ পুনরায় ধাক্কা দেয়। এরপর বেলাল মেম্বারের সাথে ভাই কামাল উদ্দিন এবং হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে নুরুসহ ১০/১৫জনের আমরা দুভাইয়ের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে। স্থানীয় মহিলাদের চিৎকারে আমার পরিবারের লোকজন এই খবর পেয়ে উদ্ধার করে টেকনাফ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় জানে আলম অরাজকতা সৃষ্টির জন্য মেম্বারকে দায়ী করে প্রতিবাদ জানান। অপরদিকে জাফর আলম দীর্ঘদিন ধরে মরহুম ফরিদুল মেম্বারের শুভাকাংখী ছিল। বিগত নির্বাচনে ফরিদুল আলম মেম্বারের পুত্র ফোরকান মাহমুদের পুরো নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মৌলভী জাফর আলমকে জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছে। এরপর হাসপাতাল হতে আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও ছোট ভাই হেলালকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। যা নিয়ে CW অনলাইন ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।

এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ত এই মেম্বার কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের নিয়ে এই নাটকীয় মানববন্ধন ও পথসভার আয়োজন করে। আমি একজন মেম্বারের হীন উদ্দেশ্যে এই ধরনের ঘটনার জন্ম দিয়েছে। আমি এই নাটকীয়তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহায়তা এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির সুবিচার কামনা করছি।

প্রতিবাদকারী :
আহমদ হোছন সৌদি প্রবাসী
এবং মক্কা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য
পিতা-মরহুম হাজী নাজির হোসাইন
মৌলভী বাজার,হ্নীলা,টেকনাফ। ###