মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দুষনের মধ্যে রয়েছি। থাকি বৌদ্ধ মন্দির সড়কে। তিন ধর্মের সংগম স্হল। মহান তিন ধর্ম । হিন্দু, বৌদ্ধ, ইসলাম। একদিকে শতাব্দী প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির, অন্যদিকে বিশাল হিন্দু বসতি, পুর্বদিকে জেলার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ, বাইতুশ শরফ। ফলে প্রতিদিন কোন না কোন অনুষ্ঠান হয়। সামাজিক কিংবা ধর্মীয়। আর সে সব অনুষ্ঠানে বাজানো হয় মাইক। অবশ্যয় লাউড স্পীকারে ও অত্যন্ত জোরে। বেশীরভাগই হিন্দি গান। মেলোডি নয়, চটুল হিন্দি গান! অদ্ভুতুড়ে সে গান! সুরের সাথে তালের মিল নেই। ধুমধাড়াক্কা মার্কা গান। যে গানে চোখের দুই পাতা এক করা যায় না। অচল হয়ে পড়ে মষ্তিষ্ক। সে গান চলে বিরামহীনভাবে। দিন রাত ব্যাপী। সময় অসময় নেই। সুবিধা অসুবিধার বিবেচনা নেই। সাথে চলে ঢাক ঢোল। দেশীয় বাদ্যযন্ত্র। কত রকমের, কত বিচিত্র আওয়াজের বাদ্যযন্ত্র । কোন কিছুরই নিয়ন্ত্রণ নেই। এখানে সবকিছু অনিয়ন্ত্রিত। অবশ্যয় বেআইনীভাবে । অথচ দেশে শব্দ নিয়ন্ত্রণের আইন আছে। হাজারো আইন আছে। প্রয়োগ নেই। যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ । এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে ব্যবস্থা নিবে কে?? তবু বিরক্ত হয়ে মেসেজ দিয়েছিলাম। টেক্সট মেসেজ । অভিযোগ জানিয়ে। ওসি কক্সবাজার বরাবরে। হালের অফিসার ইন চার্জ। অভিযোগ পেয়ে ওসি ফিরতি কল করলেন। জানলেন বিস্তারিত। আশান্বিত হয়েছিলাম। কাজ হবে এবার। আশাবাদী ছিল ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়ে উভয়ে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি! ওসি সাহেবের এ্যাকশন, ওই টেলিফোন পর্যন্তই। সামনে মেয়ের জে এস সি এবং ছেলের প্রথম সাময়িকী। ছেলে ঢাক ঢোলেই খুশী। মেয়ের অবস্থা বারোটা! এখানে সব পরিবারেই একই অবস্থা । হ য ব র ল । সমস্যার কথা বলেছি পরিচিত বেশ কয়েকজনকে। সমাধান নেই। একজন বলেছেন, বাসা শিফট করতে। এতেও রয়েছে সমস্যা। মেয়ের কারনে এখানে থাকা। বাসার খুব কাছেই স্কুল। পায়ে হাঁটার দুরত্ব। সেটাও হাতছাড়া করতে চাই না। অতএব, আপাত সমাধান, শব্দেই বসবাস! ধন্যবাদ সবাইকে।।।
লেখক :
এড সাজ্জাদুল করিম
এল এল, বি (অনার্স) এল এল, এম (চবি)
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কক্সবাজার
