টেকনাফ টুডে ডেস্ক : রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ, ‘আহসান উল্লাহ মাস্টার’ নামেই সমধিক পরিচিত। ১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর গাজীপুরের সাবেক পুবাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাস করার পর আহসান উল্লাহ টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি সেখানকার প্রধান শিক্ষক হন এবং আমৃত্যু ওই দায়িত্ব পালন করেন। আহসান উল্লাহ মাস্টার টঙ্গী শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের দেরাদুনের তান্দুয়া থেকে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে পুবাইল, টঙ্গী, ছয়দানাসহ বিভিন্ন জায়গায় গেরিলাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। একাত্তরের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরের ক্যান্টনমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্র করতে ঢাকা থেকে আসা পাকিস্তানি বাহিনীকে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেওয়ার জন্য জনতাকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন শ্রমিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা আহসান উল্লাহ মাস্টার ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য, শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি গাজীপুর-২ (গাজীপুর সদর, টঙ্গী) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দুবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি পদে আসীন থাকাকালীন সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। তার নাম অনুসারে ২০১৩ সালে টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে।
