টেকনাফ টুডে ডেস্ক : রোববার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ঐতিহাসিক শারজায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চেনা শ্রীলঙ্কা।
আইপিইল খেলার সুবাদে এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের। টি-১০ খেলেছেন আফিফ হোসেন। বাকিদের এই মাঠে অভিষেক হবে আজ। বাংলাদেশ এই মাঠে ফিরছে ২৬ বছর পর। সবশেষ ১৯৯৫ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ এই মাঠটিতে খেলেছিল। এর আগে ১৯৯০ সালের অস্ট্রেলেশিয়া কাপ। এই দুই টুর্নামেন্টে শারজাতে মোট ৫ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সবকটিতেই হার।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের জন্য শারজাহর উইকেট হয়ে উঠতে পারে আদর্শ। বোলাররা এখানে সুবিধা পাচ্ছেন বেশি। বিশেষ করে স্পিনাররা। তাইতো বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো শারজাহর এর উইকেটকে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
‘শারজাহর উইকেট অনেকটা ঢাকার উইকেটের মতই। আশা করি কালকের ম্যাচে তা আমাদের সাহায্য করবে। নতুন উইকেটগুলোতে রান কিছুটা কম হয়েছে। লম্বা বোলার যারা সজোরে উইকেটে আঘাত করে তারাই ভালো করেছে। বল এখানে স্কিড করে চলে যায়।‘
গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ দুই পেসার ও এক পেস অলরাউন্ডারকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিল। মোস্তাফিজুর রহমান-তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। এই ম্যাচে এক পেসারকে বসিয়ে একাদশে রাখা হতে পারে নাসুম আহমেদকে। মেহেদী হাসান-নাসুম আর সঙ্গে সাকিব; এই তিন স্পিনারকে মহারণে নামতে পারে দল।
স্পিনারদের জন্য সুবিধা হবে জানিয়ে ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘উইকেট বরাবর বল করলে এখানে স্পিনারদের সুযোগ আছে। এলবিডব্লিউ হয়ে যেতে পারে, তাই বোলারদের ভালো সুযোগ থাকছে।‘
এ ছাড়া পরিবর্তন হওয়া কোনো সম্ভাবনা নেই। তুলোনামূলকভাবে এই মাঠের বাউন্ডারি ছোট। তবে এতে বাংলাদেশের জন্য সুবিধা মনে করছেন প্রধান কোচ, ‘আমাদের দলে তেমন কোনো পাওয়ার হিটার নেই, তাই ছোট বাউন্ডারি আমদের সাহায্য করবে বলেই মনে হচ্ছে।‘
এই মাঠে বোলাররা সুবিধা পাবেন সেটি শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকাও বলেছেন। তবে সাকিব ও মোস্তাফিজকে নিয়েই তাদের যত চিন্তা। আইপিএল খেলার কারণে দুজনের যে কেউ ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন বলে মনে করেন শানাকা।
‘পেসারদের তুলনায় স্পিনাররা কিছুটা সুবিধা পাবে কারণ উইকেটগুলো আইপিএল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। কালকের (আজকের) ম্যাচ নিয়ে আমাদের ভালোই পরিকল্পনা করা আছে, বিশেষ করে সাকিব ও ফিজকে বাড়তি নজরে রাখছি। সাথে অন্য স্পিনারদের কথা ভুলে গেলেও চলবেনা। কিন্তু এসব নিয়ে না ভেবে ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আছি। আশা করছি ভালো একটা ম্যাচ হবে।’
দলটি শ্রীলঙ্কা বলে আশা দেখাচ্ছেন ডমিঙ্গোও। এই বছরই তাদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়সহ আছে তাদের মাটিতে টেস্ট ড্র করার কৃতিত্ব রয়েছে বাংলাদেশের। এ ছাড়া সবশেষ দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় বাংলাদেশেরই। এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশ ১১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। ৭টিতে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা আর ৪টিতে বাংলাদেশ।
তবে এ সব পরিসংখ্যান এখন অতীত। বাংলাদেশকে ভালো করতে হলে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। ঐতিহাসিক শারজাহতে চেনা শ্রীলঙ্কাকে রুখে দিতে পারবে বাংলাদেশ?
