টেকনাফে বন রক্ষা করতে গিয়ে বন খেকোদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফে বন রক্ষা করতে গিয়ে বন খেকোদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ। (সম্প্রতি রেঞ্জ এর দায়িত্ব গ্রহন করেছেন একজন বিসিএস কর্মকর্তা।)

সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় একটি দৈনিকে “টেকনাফ বন বিট কর্মকর্তার ২৪ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া” শীর্ষক সংবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সৈয়দ আশিক আহমেদ বলেন, টেকনাফ রেঞ্জ অফিসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গ নিয়ে সংবাদ করতে গিয়ে উক্ত প্রতিবেদক আমার সাথে কোন কথা না বলেই আমার বক্তব্য বলে আজগুবি ও মনগড়া বক্তব্য বলে যা ইচ্ছে তাই লিখে দিয়েছেন। যা অত্যন্ত মানহানিকর ও বেদনাদায়ক।

তিনি বলেন, টেকনাফে যোগদানের পর বনরক্ষা করতে গিয়ে কারো সাথে আপোষ করিনি, প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বন রক্ষায় কাজ করে চলেছি। পাহাড় কাটা বন্ধে ১৪টি ডাম্পার আটক করে মামলা দায়ের করেছি। পাহাড়ে অবৈধ বসতি বসাতে দিই নি। বনের জমিতে রাতারাতি বসানো রোহিঙ্গা বসতি উচ্ছেদ করেছি- এতে বনখেকো ও প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গে তিনি জানান, টেকনাফ রেঞ্জ অফিস ও বিট অফিসের নামে দুইটি মিটার চলমান রয়েছে বনবিভাগ থেকে দুইটি মিটারের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়ে আসছে। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে রেঞ্জ অফিসের নামে আরো একটি মিটারের নামে ১৬ হাজার ১৭৮ টাকা বকেয়া বিলের কাগজ দেয়। যার কোন অস্তিত্ব নেয়। অথাৎ তারা দুইটি অফিসের বিপরীতে তিনটি মিটার দেখিয়ে বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়েছে অথচ দুইটি অফিসে দুইটি মিটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় মিটারটির বিপরীতে আগে কখনো মাসিক বিলের কাগজ বন অফিসে সরবরাহ করা হয়নি। এনিয়ে জটিলতা তৈরী হয়।

কিন্তু এ সংক্রান্ত সংবাদে মনগড়া নানা বক্তব্য লিখে দেয়া হয়েছে আমার বক্তব্য বলে যা আদৌ আমার বক্তব্য নই যেহেতু প্রতিবেদক আমার সাথে কোন কথায় বলেননি।

শুধু তাই নয় সংবাদে আমার অবহেলায় বন্য হাতির মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে অথচ সবাই জানেন, শাহপরীরদ্বীপ থেকে কিভাবে শাবকসহ দুইটি হাতি উদ্ধার করে আমরা বনে ফিরিয়েছি যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। শাহপরীরদ্বীপের দুইটি সহ মোট তিনটি হাতিকে আমরা উদ্ধার করেছি সিপিজি, বনকর্মী সহ সবার সহযোগীতায়।
এছাড়া হ্নীলায় পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে হাতি মৃত্যুর ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা যা দেশে আগে কখনো ঘটেনি। যা হাতি সহ বন্য প্রাণী রক্ষায় আমার আপোষহীনতার প্রমান।

এছাড়া সংবাদে অনুসন্ধানের নামে যা লেখা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বন জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করেছি মাত্র।

কাজেই আমি উক্ত মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি পাশাপাশি সত্য মিথ্যা যাছাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিক ভাইদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন এই বন টেকনাফবাসীর সম্পদ এই বন দেশের সম্পদ এতে আমার কোন স্বার্থ নেই আমি দেশের স্বার্থে বন রক্ষার স্বার্থে এটি রক্ষায় কাজ করে চলেছি আপনারা আমাকে সহযোাগীতা করুন। কারণ বন ও প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচবো কাজেই আসুন আমরা সবাই মিলে বন ও প্রকৃতি রক্ষা করি।

পাহাড় কাটার দায়ে এক সাংবাদিকের ভাইয়ের দুইটি ডাম্পার আটক করায় সেই সাংবাদিকের মিথ্যা তথ্য ও ইন্ধনে অন্য সাংবাদিক ভাইদের বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করেন তিনি।

পরিশেষে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত না থাকলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি।