চকরিয়ায় ধান ও সবজি ক্ষেতে তাণ্ডব ফসলের ক্ষতিসাধন: আদালতে মামলা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

চকরিয়া পৌরসভার লক্ষ্যারচরে জমি দখলে নিতে ধানের চারা ও সবজি ক্ষেতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে দখলবাজ চক্র
নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া :
চকরিয়া পৌরসভার লক্ষ্যারচরে জমি জবর-দখলে নিতে ধানের চারা ও সবজি ক্ষেতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে দখলবাজ চক্র। এসময় বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করায় জমির দুইজন বর্গাচাষির ওপরও হামলা চালায় তারা। হামলার সময় দুইজনের কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এসময় তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি করা হয় ১৫০ কড়া ও ১৮০ কড়া জমিতে রোপিত ধানের চারা ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত যথাক্রমে মরিচ, ফল, ঢেঁড়স, লাউ, গুঁড়িয়ে দিয়ে। হামলায় আহত হন বর্গা চাষি আকতার হোসেন ও মো. হাছান।
এদিকে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বর্গা চাষি চকরিয়া পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ছাবেত পাড়ার মৃত আলী হোছাইনের পুত্র আকতার হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৮ জুন) উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা রুজু করেছেন।
এতে আসামী করা হয়েছে, ছরওয়ার আলম হেলালী, আবদুল্লাহ আল পামেল, মো. কাউছার, ফরিদুল আলমসহ সাতজনকে। আদালত মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের মৃত হাজি আবুল বশরের পুত্র কুতুব উদ্দিন বিগত ২০১৪ সালের ২২ মে ২৮৫৪ নম্বর রেজিষ্ট্রি হেবা ঘোষণাপত্রমূলে লক্ষ্যারচর মৌজার বিএস ২৫২ ও ৬৪১ দাগের এক একর সাত শতাংশ জমি প্রাপ্ত হন।
এরপর ২৮১৬ নম্বর বিএস খতিয়ান সৃজন পূর্বক সন সন সরকারী খাজনা পরিশোধ করে চাষাবাদের মাধ্যমে ভোগদখলে আছেন এবং বিগত দশবছর ধরে বর্গা চাষি নিয়োগ দেন। কিন্তু কোন ধরণের স্বত্ব-দখল না থাকার পরও জায়গা দখলের চেষ্টা চালালে গত ৩ মে ২০২১ ইং তারিখ চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী রুজু করেন (৫২/২১)। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এর জের ধরে এক নম্বর আসামীর হুকুমে ঘটনার দিন অপরাপর আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমি জবর-দখল করতে গিয়ে ধান ও সবজি ক্ষেত্রে ব্যাপক তাণ্ডব ও লুটপাট চালিয়ে ক্ষতিসাধন করে।
চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ‘এ ধরণের কোন ঘটনা বা আদালতের কাছ থেকে এখনো কোন নির্দেশনা তিনি পাননি। আদালতের নির্দেশনা এবং মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’