আজ ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনাল ; বসুন্ধরা কিংস-আবাহনী মহারণ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : এই দ্বৈরথ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে কিল-ঘুষি আর ফ্লাইং কিকে। দুই বছর বাদে আরো নানা রসায়নে সেই দ্বৈরথ আগুনে ঝাঁজ নিয়ে হাজির আজ ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে। বসুন্ধরা কিংস-আবাহনীর মধ্যকার মৌসুমের প্রথম লড়াইয়ে তাই আগেকার আবাহনী-মোহামেডানের উত্তাপ।

আবাহনীর কোচ মারিও লামোস আজকের এই ম্যাচকে দেখছেন ফাইনাল হিসেবে, ‘এটা এক রকম ফাইনালই বলা যায়। দেশের দুই সেরা দলের লড়াই।’ কঠিন ফাইনালকে পরে নিজেই আবার হালকা করে দিলেন, ‘এই ম্যাচ হারলে যে পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে, তা নয়।’

পৃথিবীর কিছু আসবে-যাবে না, তবে আবাহনীর ঐতিহ্যে আরেকটি বড় ধাক্কা লাগবে নিশ্চিতভাবে। কারণ ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে নতুন পরাশক্তির দাপটে সঙ্গিন আকাশি-নীলের অবস্থা। ২০১৮ সালে ফেডারেশন কাপের পর আর কিছুই জিততে পারেনি। ওদিকে আবাহনীর বিপক্ষে কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোনের মনে অন্য রকম রোমাঞ্চ কাজ করে সব সময়, ‘আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। তারা এগারোবারের চ্যাম্পিয়ন, দুই পক্ষের শক্তি-সামর্থ্যের যত বিশ্লেষণই হোক, ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এ পর্যন্ত যেভাবে খেলে আসছি, তাতে ফাইনালে ওঠার ভালো সুযোগ আমাদের আছে।’

অনেকের কাছে বসুন্ধরা কিংসই ফেভারিট। প্রথমত দেশি-বিদেশির সম্মিলনে দলটি শক্তিশালী। ব্রাজিল-আর্জেন্টাইনে সুসজ্জিত ফরোয়ার্ড লাইন। এখনো কোনো ম্যাচে তাদের গোলের অভাব হয়নি। চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে একটু ঘাম ঝরাতে হলেও বাকি ম্যাচগুলো জিতেছে সহজে। অস্কার ব্রুজোনের ব্যাখ্যা, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা ভালো খেলছি। গ্রুপ পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলেছি, তাই আবাহনী নতুন করে শক্ত প্রতিপক্ষ নয়। আমাদের ছেলেরা ভালো ফুটবল খেলেছে। প্রতিটি ম্যাচ তারা ভালো খেলেছে। তাই আমরা নিজেদের শক্তিধর বলেই মনে করি।’ স্কোয়াডে আছে জাতীয় দলের ১১ জন। সঙ্গে মাঝমাঠে ম্যাচটি দারুণ নিয়ন্ত্রণ করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জোনাথন ফের্নান্দেজ। দুই গোল করা স্ট্রাইকার আর্জেন্টাইন রাউল বেতেরার পেছনে খেলেন রবসন রোবিনহো। এই ত্রয়ীতে গোল মিলছে তবে গোলমুখে হার্নান বারকোসের সেই জাদুকরী স্পর্শটা নেই। কেউ কেউ আবার বাঁ দিক থেকে ড্যানিয়েল কলিনদ্রেসের নিখুঁত ক্রসগুলোও মিস করেন।

এর পরও শক্তিতে পিছিয়ে আবাহনী। অভিজ্ঞ স্থানীয়দের সঙ্গে চার বিদেশি যোগ হলেও যোগফলটা এখনো সেভাবে দৃশ্যমান হয়নি। আকাশি-নীলের ফুটবল এখনো সুরভিত হয়নি। তার একটা কারণ হতে পারে ফিটনেসের ঘাটতি। অনেক দেরিতে শুরু হয়েছিল তাদের মৌসুমপূর্ব ক্যাম্প। দুই ব্রাজিলিয়ানের মধ্যে স্ট্রাইকার ফ্রান্সিসকো রোদ্রিগেজ ফেডারেশন কাপের আগে আগে এলেও মিডফিল্ডার অগাস্তো সান্তোস এসেছেন টুর্নামেন্টের মাঝপথে। তাদের পায়ে খেলাটা এখনো খোলেনি। খুলেছে শুধু মাসি সাইগানির পায়ে, এই আফগানেই চালু আছে আবাহনীর জয়রথ। কোয়ার্টার ফাইনালে যেমন উত্তর বারিধারার বিপক্ষে তাদের ‘ফেয়ার প্লে’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেই গোলটির আসর কারিগর ওই মাসি সাইগানি। কি রক্ষণ, কি আক্রমণ সব জায়গায় তিনিই ত্রাতা। আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লামোস স্বীকার করেন দলের এই সীমাবদ্ধতার কথা, ‘শক্তিতে ধরলে হয়তো বসুন্ধরা এগিয়ে থাকবে। তাদের বেঞ্চ শক্তিশালী, বিদেশিরাও ফর্মে আছে। বিশেষ করে তিন মাস ট্রেনিংয়ের সুবাদে তারা খুব ভালো অবস্থায় আছে। তবে এ রকম ম্যাচে মাঠের সব কিছু তো আর কাগজ-কলম মেনে হয় না। ফিটনেসে খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও আবাহনী ভালো খেলছে। এই ম্যাচেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।’

শক্তিতে পিছিয়ে থাকা আবাহনী এরই মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়েও পিছিয়ে পড়েছে অনেকখানি। চারবারের সাক্ষাতে আবাহনী জিতেছে শুধু একটি, বাকি তিন ম্যাচ শেষ হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের আধিপত্যে। যত দিন যাচ্ছে, এই দ্বৈরথের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নানা উপাদান। মাঠের বাইরের বিষয়ও। তাইতো কিংস-আবাহনী দ্বৈরথ বারুদঠাসা ম্যাচ।