মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

এম. জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়াজুল ইসলাম বাদল সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ্য করে ১১ জনের নামে মামলা করেছে। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গত ৮ ডিসেম্বর মামলাটি করেছেন বদরখালী নৌ পুলিশ। আগেরদিন ৭ ডিসেম্বর কোটি টাকা মুল্যের পাঁচটি ড্রেজার সহ বালু উত্তোলন সামগ্রী জব্দ করেন উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালত।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়াজুল ইসলাম বাদল মেম্বারের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট বরইতলী গোবিন্দ পুর ও বিএমচর ইউনিয়নের পুচাইল্লা পাড়া সংলগ্ন লোহার ব্রীজ এলাকার মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে কোটি কোটি সিএফটি বালু উত্তোলনপুর্বক বাণিজ্য করে আসছিলেন।
অপরিকল্পিত ও বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মাতামুহুরী নদীর ওই পয়েন্টের আশপাশের এলাকার ঘরবাড়িসহ কৃষিজমি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হবার আশঙ্কা দেখা দেয়। যা রীতিমত পরিবেশ প্রতিবেশকে হুমকিতে ফেলে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করার পরও নদীর ওই পয়েন্টে থামেনি বালু দস্যুতা। গ্রামীন জনপদ বিলিনে গ্রামবাসীর নির্ভরযোগ্য অভিযোগের ভিত্তিতে বদরখালী নৌ পুলিশের সহযোগীতায় অভিযান চালান চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তানভীর হোসেন।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কোটি টাকা মুল্যের ৫ টি ড্রেজার ও বিপুল পরিমান বালু উত্তোলন সামগ্রী জব্দ করেন আদালত। পরে বদরখালী নৌ পুলিশকে জিম্মা দিয়ে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশক্রমে বদরখালী নৌ পুলিশের ইনর্চাজ এসআই খন্দকার সাঈদ আহমদ বাদী হয়ে গত ৮ ডিসেম্বর মামলাটি ( নং ১১-৫০১/২০) দায়ের করেন। যার ধারা ১৫(১) ২০১০ সালের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন। তৎসঙ্গে আইন অমান্য করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু লুটের অপরাধে এক কোটি ২৫ লক্ষ টাকা মুল্যের ৫টি ড্রেজার জব্দ করেন।
এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হচ্ছেন, চকরিয়া উপজেলার লক্ষারচরের ওবায়দুর রহমানের ছেলে ফজলে রাব্বি মারুফ (৩৫), বরইতলী গোবিন্দপুরের মাহবুব ছোবহানের ছেলে জিসান (২৫), চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলার হাজি নিজামউদ্দিন (৬০), বরইতলী কালা সিকদার পাড়ার আজিম উদ্দিন (৫০) ও বশির আহমদ (৩৫)। এছাড়াও আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
জানতে চাইলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো.তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বালু লুটে জড়িতদের কোনধরণের ছাড় দেয়া হবেনা। তাদের এই অপতৎরতার কারণে যেমন জেলা প্রশাসন বালু মহাল ইজারাখাতে রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি নদী থেকে বালু উত্তোলনে ভাঙ্গনের প্রাদুর্ভাব তৈরী হচ্ছে।
তিনি বলেন, বালুদস্যুতা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।