নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি জেসমিন হক জেসি চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ নুর হোসেন বাদি হয়ে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে গতকাল দুপুরে চকরিয়া পৌরশহরে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চকরিয়া উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম ছাড়াও কর্মনীড় সামাজিক মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, বিকশিত নারী নেটওর্য়াক এবং অপরাজিতা নারী নেটওর্য়াকের কয়েকশত নারী অংশগ্রহন করেন।
অনুষ্ঠিত মানববন্ধন পরবর্তী প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, চকরিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জেসমিন হক জেসি চৌধুরীকে হয়রাণি করার কু-উদ্দেশ্যে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ নুর হোসেন গং চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি চাঁদাবাজি ধারায় মামলা করেছে। মুলত ওই মামলাটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। উল্টো মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের জমি-জমা দখলের পথ পরিস্কার করার কুমানসে পরিকল্পিতভাবে কতিপয় চক্রটি মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় নারী উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ তুলেছেন, আদালতে মামলা হলেও তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্সবাজারের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা অতি গোপনে আদালতে একতরফা প্রতিবেদন (চাজর্সিট) দিয়েছেন। সেখানে বিবাদি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসি চৌধুরীর কাছ থেকে কোন ধরণের বক্তব্য নেয়নি। এমনকি মামলায় ১০জন স্বার্ক্ষী দেখানো হলেও অন্তত সাতজন স্বার্ক্ষী মামলা এবং আদালতের চাজর্সিট দাখিল ব্যাপারে অবগতও নন। এরই আলোকে মানববন্ধন কর্মসুচি থেকে নারী নেতৃবৃন্দ হয়রাণিমুলক এই মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহারে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিনাতদন্তে আদালতে দাখিলকৃত চার্জসিট প্রত্যাখান করে প্রয়োজনে মামলাটির পুণ:তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবাদ সভায় চকরিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসি চৌধুরী বলেন, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী এলাকায় আমার বসতবাড়ি এবং আশপাশের জায়গা-জমি জবরদখলের কুমানসে মুলত জমি বিক্রেতা আলী হোছন ও ভাড়াটে নুর গং আমার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাটি করেছে। জমি বিক্রেতা আলী হোছনকে আমি নিজের পিতার ন্যায় ভক্তি শ্রদ্ধা করি। আমার আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা ও বিশ্বস্ততায় খুশি হয়ে আলী হোছন কর্তৃক ২০১১ সালের ১৬ মে তারিখে আমার বরাবরে ৩১৯৭ নং আমমোক্তারনামা ও ২০১৫ সালের ২৭ মে তারিখ ২৭৮৮ নং অপ্রত্যাহার যোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল সম্পাদন করে উল্লেখিত জমি আমাকে বিক্রি করেন আলী হোছন।
দুইটি আমমোক্তারনামা দলিলই আলী হোছন স্বেচ্ছায় আমার বরাবরে সম্পাদন ও মঞ্জুরী দিয়াছেন। ২০১১ সালে উল্লেখিত আমমোক্তারনামা সম্পাদন করিয়া তাঁর অনুবলে আমার সম্পাদিত দলিলে আলী হোছন নিজে স্বাক্ষী হিসাবে দস্তখত করিয়াছেন। হস্তান্তরকৃত ও বায়নাকৃত জমির মূল্য রশিদপত্র মূলে ও চেক মূলে আলী হোছন নিজেই গ্রহণ করিয়াছেন। উক্ত আমমোক্তারনামা মূলে সম্পাদিত জমির টাকা তিনি উক্ত মতে গ্রহণ করেও পরবর্তীতে তাহার ছেলে আবুল বশরের প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে কক্সবাজার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে (অপর ২২/২০১২)মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী জেসি চৌধুরী বলেন, আমি কোন অন্যায় কাজ করিলে তিনি একটি আমমোক্তার নামা দলিল সম্পাদনের পর আরও একটি আমমোক্তার নামা দলিলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করিয়া আরো একটি রেজিষ্টার্ড আমমোক্তার নামা দলিল সম্পাদন করিতেন না। মুলত আমি চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছি, একারণে জনপ্রিয়তায় ইর্ষাণিত হয়ে কতিপয় মহল আমাকে ঘায়েল করতে নানাধরণের চক্রান্তে মেতে উঠেছে।
পুরানো ঘটনাকে নতুন করে সাজিয়ে জমি বিক্রেতা আলী হোছনকে ব্যবহার করে স্থানীয় স্বার্থন্বেষী মহলের অন্যতম হোতা মানব পাচারকারী হাজী নুর হোছন আমার সম্মাণহানির জন্য আদালতে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাটি করেছে। পক্ষান্তরে আদালত থেকে মামলাটি তদন্তে কক্সবাজারের ডিবি পুলিশকে দেওয়া হলে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আমার কোন ধরণের বক্তব্য না নিয়ে আদালতে একতরফা প্রতিবেদন (চাজর্সিট) দাখিল করেছে। এমনকি মামলাটিতে ১০জন স্বার্ক্ষী দেখানো হলেও অন্তত সাতজন স্বার্ক্ষী মামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ও স্বার্ক্ষী হিসেবে তাদের বক্তব্য নেয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানেনা। তাই আমি হয়রাণিমুলক এই মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহারে বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন জানাছ্ছি পাশাপাশি বিনাতদন্তে আদালতে দাখিলকৃত চার্জসিট প্রত্যাখান করে প্রয়োজনে মামলাটির পুণ:তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। #
